SEND FEEDBACK

English
Bengali

সার্ভিস চার্জের চক্করে চিন্তা রেস্তোরাঁয়

সংবেত্তা চক্রবর্ত্তী | জানুয়ারি ৪, ২০১৭
Share it on
পরিষেবা যদি পছন্দ না হয়, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় সার্ভিস চার্জ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক। গোটা বিষয়টা রেস্তোরাঁ-মালিকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।

পরিষেবা যদি পছন্দ না হয়, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় সার্ভিস চার্জ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক। গোটা বিষয়টা রেস্তোরাঁ-মালিকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের হোয়াট’স আপ ক্যাফে’র অন্যতম কর্ণধার অনামিকা সেনগুপ্ত বলছিলেন, ‘‘পরিষেবা নিয়ে যদি ক্রেতারা সন্তুষ্ট হন, তাহলে সার্ভিস চার্জ না দেওয়ার তো কোনও কারণ নেই। আর এই টাকাটা তো টিপ্‌সের মতো। ওয়েটারদের কাছে সাইড ইনকাম বলা চলে। সার্ভিস চার্জটা যেহেতু স্টাফের মধ্যেই ভাগ হয়ে যায়, ফলে তা বন্ধ হলে প্রভাবটা ওঁদের উপরেই সবচেয়ে বেশি পড়বে।’’


একমত সাদার্ন অ্যাভিনিউয়েরই আরেক রেস্তোরাঁ কোস্টাল মাচা’র অন্যতম কর্ণধার সবরিনা মুখোপাধ্যায়ও। বললেন, ‘‘আপাতত কিছুদিন সার্ভারদের খুশি রাখতে আমাদেরই হয়তো টাকা খরচ করতে হবে। আমরা গোটা বিষয়টা জানিয়েছি ওঁদের। স্বাভাবিকভাবেই কেউ খুশি হননি।’’ শরৎ বোস রোডের ফুজি রেস্তোরাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, যদি কর্মীদের মধ্যে এ জন্য অসন্তোষ দানা বাঁধতে দেখা যায়, তাহলে তাঁদের বোনাস বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রেস্তোরাঁর।


সবরিনার মতে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে হয়তো খারাপ পরিষেবার কড়া দাওয়াই হবে এই পদক্ষেপ। কিন্তু অনেকে আবার এটার সুযোগও নিতে পারেন। পরিষেবার মান ভাল হলেও তাঁরা হয়তো সার্ভিস চার্জ দিতে চাইলেন না। রেড হট চিলি পেপার এবং রেড কিচেন অ্যান্ড লাউঞ্জ’এর অন্যতম কর্ণধার নম্রতা বড়ঠাকুরের কথায়, ‘‘পরিষেবা পছন্দ হল কি না— এই বিষয়টাই খুব ঘোরালো। কারণ, পছন্দের পরিষেবার সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। কেউ হয়তো গরম খাবার পেয়েই খুশি হলেন। যিনি খাবার পরিবেশন করছেন তাঁর মুখে হাসি রয়েছে কি না, সেটা হয়তো আরেকজনের কাছে জরুরি। ফলে পছন্দের দোহাই দিয়ে ক্রেতারা যদি সার্ভিস চার্জ দেওয়া বন্ধ করে দেন, তাহলে আমার স্টাফের কী হবে? সার্ভিস চার্জটা তো ওঁদের জন্য মোটিভেশন হিসেবেই কাজ করে!’’ তাঁর মতে, সার্ভিস চার্জের আরেকটা উপকারিতা রয়েছে। অনেক সময়েই ক্রেতারা হয়তো সামান্য বেশি টাকার বিনিময়ে ভাল পরিষেবা চান। এবং রেস্তোরাঁগুলোও বাকিদের তুলনায় তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেই বেশি মন দেয়। একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ থাকলে সেই প্রবণতার গোড়ায় কোপ পড়ে। নম্রতা জানালেন, কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁরা নির্দেশিকা টাঙিয়ে জানিয়েও দেবেন যে রেস্তোরাঁয় সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়। কোয়েস্ট’এর আইরিশ হাউজ, বম্বে ব্রেসেরি প্রভৃতি রেস্তোরাঁগুলো আদতে গ্লোবাল কিচেন্‌স নামে এক সংস্থার। সেখানকার জেনারেল ম্যানেজার রাজীব সিংহ জানালেন, তাঁদের সব খাদ্যতালিকায় বরাবরই সার্ভিস চার্জের কথা উল্লেখ করা থাকে। ক্রেতারাও সে সম্পর্কে জানেন। তবে নতুন এই নির্দেশিকার পরে তাঁরা গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখছেন।


সুইসোতেল কলকাতা’র ডিরেক্টর অফ ফিন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস সাপোর্ট সুব্রত সরকার জানালেন, কেন্দ্রের নির্দেশের সঙ্গে তাঁরা নীতিগতভাবে একমত। ক্রেতারা যদি পরিষেবায় খুশি হন, তবেই তাঁদের সার্ভিস চার্জ দেওয়া উচিত। সুইসোতেল’এ এই মুহূর্তে সার্ভিস চার্জ না থাকলেও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখে তবেই তাঁরা পদক্ষেপ করবেন এ ব্যাপারে।


খাদ্যরসিকেরা অবশ্য ব্যাপারটাকে অন্যদিক থেকে দেখছেন। ফুড ব্লগার পূর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটা একদিক থেকে ভাল পদক্ষেপ। প্রশ্ন তুললেন, ‘‘আমি তো রাস্তার দোকান থেকে ৪০ টাকায় চাউ খেতে পারি। সেটাই যখন ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁয় ৪০০ টাকা দিয়ে খাচ্ছি, তখন সেই বাড়তি টাকাটা কি অ্যাম্বিয়েন্স এবং পরিষেবার জন্যই দিচ্ছি না?’’ তাঁর মতে, স্টাফদের টাকা দেওয়ার দায়িত্ব রেস্তোরাঁ-মালিকদেরই। ‘‘আমরা সার্ভিস চার্জ দিয়ে হয়তো স্টাফদের কম মাইনে দেওয়াটাকেই প্রোমোট করছি,’’ বয়ান পূর্ণার। আবার অনেক সময়, বিশেষ করে উৎসবের দিনে রেস্তোরাঁগুলো ক্রেতাদের ভিড়ের সঙ্গে তাল রাখতে পারে না। ফলে পরিষেবার মান নেমে যায়। সে ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ দেওয়ার অর্থ খুঁজে পান না ক্রেতারাও।

Restaurants Service tax
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -