SEND FEEDBACK

English
Bengali

অকপট অনিকেত

দীপান্বিতা মুখোপাধ্যায় ঘোষ | জানুয়ারি ৯, ২০১৭
Share it on
কে কোথা থেকে টাকা আনছেন, সেটা খুঁজে বার করাটা পরিচালকের কাজ নয়! কিন্তু একটা দায় কোথাও থেকে যায়

কিরীটী রায়’কে পরদায় নিয়ে এসেছেন পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়। সেটাও নাকি প্রযোজকের চাপেই। তাঁর নিজের পছন্দ রাজনৈতিক ছবি। যেটার প্রতিফলন খানিকটা হলেও তাঁর আগামী ছবি ‘টুসকি’ আর ‘শঙ্কর মুদি’তে দেখা যাবে।

একমাসে তিনটে গোয়েন্দা ছবি। ব্যোমকেশ বক্সী, ফেলুদা, কিরীটী রায়। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
এই ব্যাপারটায় আমাদের কোনওদিনই কিছু করার ছিল না। সবটা প্রযোজকের সিদ্ধান্ত। কোন বিষয়ে ছবি হবে, সেটাও তাঁরা ঠিক করে দেন। কবে রিলিজ করবে, সেটাও। ব্যোমকেশ হবে নাকি ফেলুদা-কিরীটী হবে, এগুলো সবটাই প্রযোজকদের পছন্দমতো। এরপর সুন্দরবাবু, মিতিনমাসি আসতে পারে। কিছুদিন পর হয়তো দেখলেন প্রযোজকদের ভূত পছন্দ হচ্ছে! তখন আবার পরপর মেছো ভূত, কালো ভূত, নানা রকম ভূতের গল্প তৈরি হবে! পরিচালকদের এখন প্রযোজকের কথা মতোই কাজ করতে হচ্ছে। তার মধ্যেই আমরা একটা ভাল ছবি তৈরি করার চেষ্টা করছি। এটা শুধু আমার পরিস্থিতি নয়, টলিউডের সব পরিচালকের একই অবস্থা। মুখে হয়তো তাঁরা সেটা স্বীকার করেন না। 

কৌস্তুভ রায় যদি আপনাকে কিরীটী করতে না বলতেন, তাহলে কি করতেন না?
একেবারেই না। আমি তো রাজনৈতিক ছবি করতে চাই। মুশকিল হচ্ছে, প্রযোজকদের বিভিন্ন রকমের স্টেক থাকে। আমি ছবিতে যে ধরনের রাজনৈতিক কথাগুলো বলতে চাই, তাঁরা সেটা বলতে দেবেন না। আর দেবেনই বা কেন? তাঁদের পয়সায় আমি নিজের রাজনৈতিক মত দেখাব, সেটা তো হয় না।  

রোজভ্যালির স্ক্যামে সিনেম্যাটিক উপাদান প্রচুর। ছবি করার কথা ভাববেন?
দারুণ স্টোরি হবে। এটা তো সকলেই জানতেন। সংবাদমাধ্যমও জানত। আমজনতার টাকা নিয়ে নয়ছয় হচ্ছে, সেটা সকলেরই জানা। আমাকেও ডাকা হয়েছিল ছবি করতে।

তাই?
হ্যাঁ। আমার থেকে ছবির বিষয়বস্তু না শুনেই গৌতম কুণ্ডু রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। বাজেটও হয়ে গিয়েছিল। টাকাপয়সা কোনও ব্যাপারই ছিল না। মজার বিষয় হল, আমি কিন্তু পুরোদস্তুর একটা রাজনৈতিক গল্প বলার পরিকল্পনা করছিলাম। বিষয়টা না শুনেই উনি রাজি ছিলেন। ঘটনাচক্রে ওই সময় থেকেই জটিলতাগুলো শুরু হল। 

রোজভ্যালির সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের বক্তব্য, প্রযোজক কোথা থেকে টাকা এনে ছবি করছে সেটা তাঁদের দেখার কথা নয়। আপনিও কি তাই বলছেন?
কে কোথা থেকে টাকা আনছেন, সেটা খুঁজে বার করাটা পরিচালকের কাজ নয়। কিন্তু আমরা তো জানতাম বিষয়টা। কোথা থেকে টাকা আসছে, সেটাও আমাদের অজানা নয়। তাই একটা দায় কোথাও থেকে যায়। এখন হয়তো একজন, দু’জনের দিকে আঙুল উঠছে। তা বলে বাকিদের দায় কমে যায় না। আমরা বিজ্ঞাপন নিয়েছি। ছবি বানাতে টাকা নিয়েছি।

প্রযোজকের কথায় ছবি বানাতে গিয়ে কোথাও আক্ষেপ তৈরি হয়নি? যেটা চাইছেন, সেটা না বলতে পারার?
নিজের মতো করে গল্প বলতে না পারার আক্ষেপ তো থাকবেই। তার মধ্যেও চেষ্টা করি কিছু কথা বলার। একটু খোঁচা দেওয়ার। ‘শঙ্কর মুদি’তে অবশ্য কৌস্তুভ আমাকে সাপোর্ট করেছে। ওই ছবিটায় আমার রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো খানিকটা হলেও বলতে পেরেছি।

একটা গোয়েন্দা গল্প ভাল চললে, সেটার সিরিজ হতে থাকে। কিরীটীরও কি তাই হবে?
আমি চাই না। ছবি বানানো ছাড়া আর কোনও রোজগারের মাধ্যম নেই। অন্য কিছু না পেলে, কেউ যদি বলে কিরীটী করতে তাহলে হয়তো করব। কিন্তু কিরীটী করার জন্য যে রোমাঞ্চ আছে, তেমন নয়। 
অন্যান্য পরিচালকেরা তো ব্যোমকেশ কিংবা বা অন্য গোয়েন্দা গল্প করার জন্য খুবই উৎসাহী।
তাই তো সকলে বলেন। আমার উৎসাহ নেই।

ফেলুদা কিংবা ব্যোমকেশ দেখলেন?
ব্যোমকেশের মেকিংটা খুব ভাল লেগেছে। বেশ জমজমাট। হয়তো এতে ব্যোমকেশ তার বাঙালিয়ানা হারিয়েছে। একটা টাফনেস এসে গিয়েছে। কিছু ঐতিহাসিক তথ্যে ভুলও রয়েছে। এছাড়া আমার ভালই লেগেছে। আর বাবুদা যদি অনস্ক্রিন বসে ফেলুদা পড়ে যেতেন, আমরা বোধহয় সেটা দেখতেও যেতাম! এটাই ফেলুদার খ্যাতি। আসলে আমরা ফেলুদাতে আচ্ছন্ন। তাই ছবিটা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থাকলেও, সকলে ফেলুদা দেখছেন। 

সম্প্রতি কিউ’য়ের একটা মন্তব্য নিয়ে বিস্তর হইচই হয়েছে।
কেউ একটা কিছু বললেই খড়গহস্ত হয়ে যেতে হবে, এটা আমি মনে করি না। কিউ যে ধরনের ছবি করেন, সেটা আমি ভাল বুঝি না। কিন্তু উনি ওঁর মতো ছবি করেন, কথা বলেন। ওঁর নিজস্ব একটা ভঙ্গি রয়েছে। সেটা নিয়ে এত রিঅ্যাক্ট করার কিছু নেই। কিউ তো আর অমর্ত্য সেন নন, যে উত্তেজিত হয়ে যেতে হবে তাঁর মন্তব্য নিয়ে! 

ছবি না চলা, ডিমনিটাইজেশন, তারপর এই রোজভ্যালি কাণ্ড— এগুলো কি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে ক্রমশ কোণঠাসা করে দিচ্ছে?
মনে হয় না। সমস্যা সব সময়েই থাকবে। ঋত্বিক ঘটকও টাকার অভাবে কাজ করতে পারেননি। সত্যজিৎ রায়ের কাজও টাকার জন্য বন্ধ ছিল। তাতে তাঁদের ভাল ছবি করা আটকে যায়নি। তাই আমাদেরও এই সব অজুহাত দেওয়ার মানে হয় না।

Aniket Chattyopadhay Kiriti Director
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -