SEND FEEDBACK

English
Bengali

ভারতীয় ফ্যাশনে মাইলফলক, এই প্রথম র‌্যাম্পে দেখা যাবে এক রূপান্তরকামী মডেলকে

পৃথা বিশ্বাস | জানুয়ারি ১০, ২০১৭
Share it on
নেপালের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম। অনেক লড়াইয়ের পর অঞ্জলি লামা হতে পেরেছেন নেপালের প্রথম রূপান্তরকামী মডেল। রীতিমতো খেটে। তবে শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি। আগামী ‘ল্যাকমে ফ্যাশন উইক’এ অংশ নেওয়ার জন্য নেপাল থেকে মুম্বই পাড়ি দেবেন খুব শিগগিরই।

ছোটবেলাটা কেমন কেটেছে আপনার?
নেপালের নুওয়াকোট অঞ্চলে জন্ম আমার। ছোট থেকেই নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে ভুগতাম। সমাজের মাপকাঠির সঙ্গে কিছুতেই নিজেকে মেলাতে পারতাম না। ছেলে হয়ে জন্মেছিলাম। মায়ের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। স্কুলেও বেশিরভাগ মেয়েদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হতো। তাই আমার আচার-আচরণ নিয়ে প্রায়ই কথা উঠত। সে সব শুনে নিজেও খুব বিভ্রান্ত হয়ে পড়তাম! গ্রাম থেকে যখন শহরে চলে এলাম, ভেবেছিলাম জীবনটা অন্য রকম হবে। কিন্তু শহুরে ধ্যান-ধারণা আরও কড়া। কিছুই বদলায়নি। কলেজে পড়ার সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম, নিজের মতো করে বাঁচব। নিজের অস্তিত্ব নিজেই ঠিক করব।

কবে থেকে মডেলিং শুরু করলেন? মডেলিং এজেন্সিগুলোর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
২০০৯ সালে প্রথম মডেলিংয়ের সুযোগ পাই। একটা স্থানীয় পত্রিকার প্রচ্ছদের জন্য ফোটোশ্যুট করেছিলাম। অ্যাসাইনমেন্টটা পাওয়ার পর খুবই খুশি ছিলাম। ভেবেছিলাম, আমার পছন্দের কেরিয়ার শুরু হল। কিন্তু তার পরের সফরটা খুবই কঠিন ছিল। প্রায় সব এজেন্সিই আমার নাকচ করে দেয়। কারণ একটাই, আমি রূপান্তরকামী! ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু হাল ছাড়িনি। একটা সময় আমার টানা ব্যর্থতা দেখে বন্ধু-বান্ধবেরা বলেছিল অন্য কেরিয়ার খুঁজে নিতে। আরও জেদ চেপে যায়। ঠিক করে নিই, স্টিরিওটাইপগুলো ভাঙবই।

জীবনের সব সিদ্ধান্তে আপনার পরিবারকে পাশে পেয়েছেন?
আমার দুর্ভাগ্য, যে সেটা হয়নি। বাবা-মা কেউই আমার লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ায়নি। সেক্স চেঞ্জ অপারেশনের সব রকম যন্ত্রণা এক মাস ধরে আমি একাই সামলেছি। অর্থনৈতিক চাপ তো ছিলই। কিন্তু নিজের মতো করে বাঁচতে পারব, সেই তাগিদেই জোর পেয়েছি। শুধু পরিবার নয়, গোটা দুনিয়ার সামনেই নিজের সত্যিটা মেলে ধরতে পেরেছি।

নেপাল বা ভারতের মতো দেশে রূপান্তরকামীদের পক্ষে মডেলিংকে কেরিয়ার হিসেবে বাছা কতটা কঠিন?
পৃথিবীর কোনও জায়গাতেই রূপান্তরকামীদের সঙ্গে খুব একটা সুবিচার হয় না। সেটা কেরিয়ার হোক কিংবা থাকা-খাওয়া, যা-ই বলুন না কেন। তবে সময় বদলাচ্ছে। মানসিকতাও ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

ভারতীয় র‌্যাম্পে হাঁটার সুযোগ পেয়ে কেমন লাগছে?
আই অ্যাম থ্রিল্‌ড! এখনও পর্যন্ত আমার জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান, কোনও ভারতীয় ফ্যাশন উইকে অংশ নিতে পারা।

সুযোগটা কীভাবে পেলেন?
নেপালের প্রত্যন্ত এলাকায় থাকি। সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলে বাইরের দুনিয়ার ব্যাপারে কিছুই জানা সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে। ল্যাকমে ফ্যাশন উইক’এর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে অডিশনের কথা জানতে পারি। ফর্ম ফিল-আপ করে অ্যাপ্লাই করেছিলাম। তবে খুব সহজে সুযোগটা পাইনি। দু’বার ওরা আমায় রিজেক্ট করেছিল। অবশেষে এবার সুযোগটা পেলাম!

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কী? ভারতে আরও কাজ করবেন?
আপাতত তেমনই ইচ্ছে রয়েছে। আরও কাজ করে নিজের পোর্টফোলিওটা ডায়নামিক করে তুলতে চাই। যাতে রানওয়েতে হাঁটার পাশাপাশি কোনও নামী ব্র্যান্ডের ক্যাম্পেনের মুখ হতে পারি।

এখনকার ফ্যাশন-মহল কতটা ‘ইনক্লুসিভ’ বলে আপনার মনে হয়?
এখনকার সময়ে পরিবর্তনের সংজ্ঞা নির্ধারণে ফ্যাশন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। একমাত্র ফ্যাশনই খুব রক্ষণশীল মনোভাব বা পরিস্থিতিকেও ধীরে ধীরে বদলাতে পারে। তবে তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে আরও বেশি সচেতনতা প্রয়োজন। সেটা স্কুলের শিক্ষা থেকে শুরু হওয়া দরকার। কিছু সংস্থার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মেই শুধু তৃতীয় লিঙ্গের উল্লেখ থাকে। নইলে আমরা এখনও ‘ছেলে-মেয়ে’র দুনিয়াতেই বাঁচছি। সরকারের পক্ষ থেকে রূপান্তরকামীদের অধিকার নিয়ে আরও পদক্ষেপ করা উচিত।

অন্য রূপান্তরকামীদের মডেলিংয়ে আসতে উৎসাহ দেবেন?
নিশ্চয়ই! আমি সব সময় বলতে চাই, যেটা করতে ভাল লাগে সেটাই করুন। কোনও লক্ষ্য স্থির থাকলে, পথের বাধাগুলো সরে যাবেই। ফ্যাশন উইকে হাঁটার সুযোগ পাওয়ার পর থেকে সমাজে সম্মানও বেড়েছে। এখন সকলে আমার কদর করে। তাই নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় না ভুগে যা মন চায়, তাই করা উচিত।

আপনার জীবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে?
আমার মা। সব কিছুর পরও মা-ই আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। কঠিন সময়ে মায়ের কাছ থেকেই জোর পাই। আর পেশাগতভাবে ব্রাজিলিয়ান সুপারমডেল আদ্রিয়ানা লিমা’কে আমার খুব ভাল লাগে।

Anjali Lama Fashion Model
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -