SEND FEEDBACK

English
Bengali

আমি ডাই-হার্ড রোমান্টিক! - স্বরা ভাস্কর

অন্তরা মজুমদার | মার্চ ১৬, ২০১৭
Share it on
ছবিতে তিনি সিরিয়াস-ছকভাঙা চরিত্র করেন। কিন্তু দীর্ঘ স্ট্রাগ্‌লের সময়টাকে এখনও ভোলেননি বলে, পা দু’টো মাটিতে রেখে বেশ ক্যাজুয়াল থাকেন স্বরা ভাস্কর। সামনেই মুক্তি পাবে তাঁর অভিনীত ‘আনারকলি অফ আরা’। তার আগে গল্প জুড়লেন ‘ওবেলা’র সঙ্গে।

একসময় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও ফাটিয়ে দিতেন। এখন আপনাকে ভেবে গোটা একেকটা ছবি বানাচ্ছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট নির্দেশকরা। পরিবর্তনটা কেমন?
আমি আসলে নিজেকে কোনও চরিত্র বলে ভাবিনি, প্রধান অভিনেতা হিসেবেও না। আমি বরং বিভিন্ন চরিত্রকে ধরার একটা মাধ্যম বলে মনে করি নিজেকে। এখন যে কোনও অভিনেতাই নিজের ক্রাফ্ট’কে বেশি করে তুলে ধরতে চাইবেন। ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ করতে হলে কোন অভিনেত্রী জুলিয়েট করতে চাইবেন না বলুন! কিন্তু আমার ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার খুব সৌভাগ্যজনক। যে পার্শ্বচরিত্র হলেও ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ বা ‘তনু ওয়েড্‌স মনু’তে আমার ভূমিকাটা লোকের মনে থেকে গিয়েছিল। দে ওয়্যার ভেরি স্ট্রং সাইড ক্যারেক্টার্স। 

কিন্তু একটা ‘নীল বাটে সন্নাটা’ কেরিয়ারে আসতে তো যথেষ্ট সময়ও লাগল...।
তাতে আমার সমস্যা নেই কোনও। দেখুন, আমি বরাবরই জানতাম আমি কী করতে পারি। লোকে এখন আমার ক্ষমতাকে বুঝতে পারছে। এখানে আমি নেগেটিভ কিছু দেখি না। তাছাড়া ‘নীল বাটে...’র পরে পরেই ‘আনারকলি অফ আরা’ মুক্তি পাচ্ছে। পরপর দু’টো চরিত্রকে দেখলেই বোঝা যায় তারা যা রিপ্রেজেন্ট করছে, সেটা প্রেরণা জোগানোর মতো। দর্শককে ভাবানোর মতো। দু’টো চরিত্রই সেভাবে দেখতে গেলে ডাউনট্রডেন— ফলে আমার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক যে সমাজের এই অংশের মানুষদের জীবনটা দেখতে পাচ্ছেন, সেটাও আমার কাছে দারুণ অনুভূতি।

‘আনারকলি...’তে একজন ইরোটিক গায়িকার ভূমিকায় আপনি। চরিত্রের কোন দিকটা আপনাকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করেছিল?
দ্য ওম্যান’স সেক্সুয়ালিটি। হিন্দি ছবিতে একজন নারীর যৌনতাকে সব সময়েই একটা কম্বলের তলায় চাপা দিয়ে, নিরাপদভাবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। গত কয়েক বছরে ছবিটা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে অবশ্য। কিন্তু ‘আনারকলি...’ অনেক ওভার পাওয়ারিং। একজন পারফর্মারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জিনিসটাকে দেখানো হয়েছে। ইরোটিক সিঙ্গার মানে এমন নয়, যে তাকে প্রতি মুহূর্তে ভিক্টিমাইজ হতে হচ্ছে। বরং মধ্যবিত্ত মানসিকতা বা  মূল্যবোধের মানুষদের আনারকলির সামনে একটু অস্বস্তিই হবে! কারণ সে স্লিজি গান গায়, পুরুষদের টিজ করে। ফলে স্পেসটা আমার কাছেও বেশ চ্যালেঞ্জিং, আনকমফর্টেবল। কিন্তু উত্তেজকও!

সেন্সর বোর্ডের কাছেও তো বিষয়টা খুব ‘আনকমফর্টেবল’ হয়েছে দেখা যাচ্ছে! প্রচুর দৃশ্য বাদ দিতেও বলেছে তারা...।
(গলায় অনীহা) হোয়াট ক্যান আই সে অ্যাবাউট দ্য সেন্সর বোর্ড ইয়ার! আমার তো মনে হয় ইদানীং সব অভিনেতা-অভিনেত্রী-পরিচালক-প্রযোজককেই সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। পরিচালক অবিনাশ দাস এবং প্রযোজক সঞ্জীব কপূর ছবিটার জন্য প্রচুর লড়ছেন। বাকিটা ভাগ্যের হাতেই!

ছবিতে আপনার কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যও লিক হয়ে গিয়েছিল। এই ধরনের অপকর্মগুলোর কী উত্তর দেন?
আমাদের প্রযোজক তো ভীষণভাবেই চেয়েছিলেন একটা তদন্ত হোক। ছবির টিমের মধ্যে থেকেও যদি কেউ কাজটা করে থাকে, তাহলে সেটাও অন্তত জানা যাক। আমরা সেন্সর বোর্ডের কাছেও এই দাবিটা নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওঁরা উল্টে আমাদের দিকেই আঙুল তুলতে লাগলেন! মূল সমস্যাটা হল, ইন্টারনেটে যখন লিক্‌ড টেপ ছাড়া হয়, তার কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। কিছু একটা সেনসেশনাল হলেই হল! পোস্ট করে দাও! কিন্তু লোকের মাথায় এটা ঢোকে না, যে জিনিসটা একটা স্ক্রিপ্টেড অ্যাকশন। তার একটা সিনেম্যাটিক উদ্দেশ্য আছে। যাই হোক, সেন্সর বোর্ড তো কিছু দৃশ্য কাটতে বলেই দিয়েছে। এখন আর কিছু করারও নেই। 

আপনি একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শাহরুখ খান বা অভিষেক বচ্চনদের সঙ্গে কাজ করতে পারলে সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে যাবেন! এখন যখন ওয়ান-ওম্যান-শো করছেন, ওই স্বপ্নটা আর ভাবাচ্ছে?
দেখুন, আমার ওরকম কোনও শর্ত নেই। বা রুলবুক নেই। শাহরুখের আজন্ম ফ্যান আমি। ফলে ওঁর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা স্বপ্নপূরণ হবে তো বটেই! অভিষেকের আবার কমিক টাইমিং অসামান্য! ওঁর সঙ্গে একটা আউট-অ্যান্ড-আউট কমেডি করতে পারলে ভালই হয়। আমার পার্ট’টা যথেষ্ট মজাদার হতে হবে। তার সঙ্গে পার্ট’টা যেন আমায় যথেষ্ট উত্তেজিতও করে। 

এই মুহূর্তে কোন ধরনের ছবি বেশি উপভোগ করছেন? ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’র মতো বিগশট, নাকি ‘লিস্‌ন আমায়া’র মতো ইন্ডি-ছবি?
‘প্রেম রতন...’ যে ধরনের ছবি, তার অডিয়েন্স রিচ-মেকিং-বাজেট সবকিছুই যে কোনও ইন্ডি-ছবির চেয়ে অনেকটা আলাদা। ফলে দু’টোর মধ্যে তুলনা চলে না। ‘প্রেম রতন...’এ সলমন-সোনমদের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা অবশ্যই বোনাস আমার কাছে। কিন্তু ‘আনারকলি...’র মতো ছবি আমাকে কমফর্ট জোন থেকে বেরোতে সাহায্য করে। ফলে দু’টোর মধ্যে ব্যালান্স করেই চলতে চাই।

সোনম কপূর নাকি আপনার খুব ভাল বন্ধু...বলিউডের এই বন্ধুত্ব কিন্তু অনেকের কাছেই মেকি!
সোনম সত্যিই আমার ভাল বন্ধু। সব সময় ওকে পাশে পেয়েছি আমি। তবে তার সঙ্গে এটাও ঠিক, যে ইন্ডাস্ট্রিতে আমার বন্ধুর সংখ্যা সত্যিই তেমন বেশি নয়। অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারিকেও আমি বন্ধুই মনে করি। এবং ইন্ডাস্ট্রিতে আমার একজন মেন্টরও রয়েছেন— আনন্দ এল রাই।

তাহলে ইন্ডাস্ট্রির বাইরের স্বরার জীবনটা কেমন?
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসতে পছন্দ করি (হাসতে হাসতে)। ইন্ডাস্ট্রির বাইরের জীবন বলতে আমার বাড়ি, পরিবার আর আমার পোষ্য বেড়ালগুলো! তাছাড়া ঘুরতে যেতে ভীষণ ভালবাসি আমি। বিশেষ করে ঐতিহাসিক জায়গাগুলোয়, যেখানে প্রচুর পুরনো গল্প শুনতে পাওয়া যায়! আর অনলাইন শপিং ফ্যানাটিক বলতে পারেন আমাকে (আরও হাসি)!

শুধু নিজের জন্যেই শপিং করেন? নাকি বিশেষ কেউ আছে?
আমি ডাই-হার্ড রোমান্টিক! ইয়েস আয়্যাম ডেটিং সামওয়ান অ্যাট দ্য মোমেন্ট। ফলে বিশেষ কেউ আছে তো বটেই। 

নাম জানতে পারি?
হিমাংশু শর্মা। ‘তনু ওয়েড্‌স মনু’ আর ‘রাঞ্ঝনা’র স্ক্রিনরাইটার।

Swara Bhaskar Anarkoli of Ara
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -