SEND FEEDBACK

English
Bengali

কুইন্‌স ল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদন | মার্চ ২০, ২০১৭
Share it on
তাঁরা কুইন অফ হার্টস! দর্শকের মনে-স্বপ্নে-ইচ্ছে-উত্তেজনায় তাঁদের বসবাস। তাঁদের রূপের গুণগান নতুন করে কী বা দেবে কেউ। কিন্তু ‘রূপ কি রানি’ ছাড়া আরও কয়েকটা খেতাব এই রানিদের প্রাপ্য! বলিউড আর টলিউড থেকে নায়িকারা ‘ওবেলা’র তরফ থেকে বিভিন্ন বিভাগে পেয়ে গেলেন শিরোপা!

সেলফি কুইন: মজে আছি নিজেতে

আলিয়া ভট্ট
সকালে ভক্তদের গুডমর্নিং উইশ করা থেকে শুরু করে নতুন বাড়ি গোছাতে গিয়ে, নতুন স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় কিংবা নতুন পোষ্য বেড়ালকে নিয়ে সেলফি তুলেই যেন দিন গুজরান করেন আলিয়া! এদিকে এনডোর্সমেন্ট, প্রোমোশন, শ্যুটিং ইত্যাদি তো লেগেই আছে। সেসব জায়গায় গিয়েও নিজেকে আটকান না আলিয়া! তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফিড দেখলেই বোঝা যায় কী হারে সেলফি উন্মাদনা রয়েছে আলিয়ার মধ্যে! ‘বদ্রীনাথ কি দুলহনিয়া’র সময় বরুণ ধবন তো বলেই বসলেন, যে ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’এর পর থেকে আলিয়া অনেক বদলে গিয়েছেন, শুধু সেলফি তোলার অভ্যাসটা একই আছে!

মিমি চক্রবর্তী
সেলফি-জ্বরে আক্রান্ত মিমি চক্রবর্তীও! তিনি কখন কী করছেন, তার হদিসও পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন সাইটে তাঁর সেলফি পোস্ট করা দেখে! মেকআপ মনের মতো হলে সেলফি, অন্য কোনও লুক ট্রাই করলেও সেলফি, কোনও ইভেন্টে যাওয়ার আগেও সেলফি! ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই মনে করেন, নিজের মনের ‘স্টেটাস’ও সেলফি দিয়েই বোঝান মিমি। রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তিনি যে কাজকর্ম আর হ্যাপি টাইম নিয়ে দিব্যি আছেন— সেটা তাঁর সেলফিগুলো দেখলেই মালুম পড়ে!

 

গ্ল্যাম কুইন: হাতে গরম

দীপিকা পাড়ুকোন
তাঁর উপস্থিতি চোখ টানবেই, এমনই তাঁর গ্ল্যামার। ডেবিউ ফিল্ম থেকেই তাঁর গ্ল্যামার টের পেয়েছিল বলিউড। নবাগত হলে কী হবে, শাহরুখ খানের সঙ্গে এক ফ্রেমে থেকেও নজর কেড়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই গ্ল্যামার বেড়েছে তো বটেই। ‘ইয়ে জওয়ানি...’র চশমিশ হোক বা ‘ট্রিপ্‌ল এক্স...’এর বোল্ড অবতার, সব চরিত্রেই তিনি সমান গ্ল্যামারাস। পরদার বাইরেও দীপিকার জবাব নেই। সব রকম পোশাকে তিনি সাবলীল। এক্সপেরিমেন্ট করতে ভয় পান না। তাই তাঁর স্টাইলিস্ট অনেক ধরনের পোশাকেই সাজিয়ে তোলেন দীপিকাকে। যে কোনও রেড কার্পেট দীপিকাকে ছাড়া ম্লান। তাঁর গ্ল্যামারে মজেছেন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ও। দীপিকাই নাকি তাঁর লেটেস্ট মিউজ!

নুসরত জাহান
ওয়ার্কআউট করতে পছন্দ করেন না। এদিকে নিজেই রান্না করেন সুস্বাদু সব পদ। তা-ও তাঁর ফিগার পারফেক্ট! টলিউডে গ্ল্যামার কুইন বলতে একজনেরই নাম সকলের মুখে আসবে— নুসরত জাহান। তিনি শর্ট বডিকন ড্রেসে যতটা সেক্সি, ঢাকাই শাড়িতেও ততই! তাঁর চাহনির মায়াই এমন, যে টলিউডের তাবড় পরিচালকরা তাঁকে ছবিতে কাস্ট করছেন। যে কোনও অনুষ্ঠানে তিনি মঞ্চে উঠলে সেখানকার গ্ল্যামার বেড়ে যায়। সে টলিউডের হাই প্রোফাইল ইভেন্ট হোক বা মফস্‌সলের মাচা! নায়িকার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল ফ্যান ফলোয়িং দেখলেই অবশ্য সেটা মালুম পড়বে।

 

ফিটনেস কুইন: কসরতে-জাহান

জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ
বলিউডে প্রায় সকলেই ফিটনেস নিয়ে দারুণ সচেতন। সকলেই কম-বেশি নিয়মিত ওয়ার্কআউট করেন। তবে ফিটনেস নিয়ে এগিয়ে জ্যাকলিনই। শুধু বোরিং জিম করেই তিনি খুশি নন। মাঝে মাঝে ওয়েট ট্রেনিং আর কার্ডিওর পাশাপাশি অন্য রকমের ফিটনেস রেজিমও ট্রাই করেন। রোগ হওয়া তাঁর লক্ষ্য নয়। বরং ফ্লেক্সিবিলিটি নিয়েই বেশি মজে থাকেন ‘কিক্‌’এর নায়িকা। তাই যোগ ব্যায়াম, মেডিটেশনও করেন নিয়ম করে। সঙ্গে বিশ্বাস করেন ক্লিন ইটিং’এ। মানে সবই খান, কিন্তু বুঝেশুনে। বেমক্কা ডায়েট করে সাইজ জিরো হওয়া পোষায় না তাঁর। 

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
খুব বিপদে না পড়লে তেমন জিমমুখী হন না টলিউডের নায়িকারা। কিন্তু সেই চিত্র বদলে দিচ্ছেন সায়ন্তিকা। ফিটনেস তাঁর ধ্যানজ্ঞান। অভিনয় শুরু করার অনেক আগে থেকেই নিয়মিত ওয়ার্কআউট করতেন তিনি। পাশাপাশি ডান্স। সেই অভ্যাসটা রয়েই গিয়েছে। পরিচালকের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকেন না। ছবি শুরু হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি নতুন ওয়ার্কআউট রেজিম শুরু করে দেন! একটি ছবির জন্যে ফোর প্যাকও বানিয়েছিলেন নায়িকা। ফিটনেসের প্রতি তাঁর প্যাশনই আলাদা। হয়তো তাই শুধু নিজে নন, বাকিদেরও অনুপ্রাণিত করেন তিনি। মিমি-নুসরতরা অনেক সময় মোটিভেশনের জন্য সায়ন্তিকার শরণাপন্ন হন। তাই এই খেতাবটা তাঁকে ছাড়া আর কাউকে দেওয়ার দরকারই নেই।

 

গসিপ কুইন: পাঁচকানে কথা

করিনা কপূর খান
কর্ণ জোহর বারবার বলেছেন, তিনি ইন্ডাস্ট্রির অনেক গোপন খবরই জানতে পারতেন না, যদি করিনা কপূর খান হোয়াট্‌সঅ্যাপ করে তাঁকে গসিপগুলো না দিতেন! কে কোন ছবি করছে, ছবিটা পেতে সে কী কী করেছে, তার পরেও কেন ছবিটা হাতছাড়া হল— সব জানেন বেগম। এমনকী, পরনের পোশাকগুলো কে কোথা থেকে সস্তায় কেনেন, তারপর ডিজাইনার বলে চালান কিংবা হাইস্ট্রিট লেবেলেও কাকে কতটা ‘পাতি’ দেখায়— সব গসিপ করিনাই দিয়ে থাকেন। অবশ্যই ঘনিষ্ঠ মহলে। তবে কর্ণ জোহর এ-ও বলেছেন, তাঁকে না পেলে বেগম নাকি গসিপ ঢালার অন্যান্য মাধ্যমও খুঁজে নেন!

রাইমা সেন
টলিউডে ‘গসিপ গার্ল’ নামে রাইমা সেন রীতিমতো পরিচিত। তাঁর সঙ্গে যাঁরা অভিনয় করেন, প্রায় প্রত্যেকেই বলেন— রাইমার গালগল্প কখনও ফুরোয় না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গসিপ টেনে লম্বা করে দিতে পারেন তিনি! তবে শুধু সেট’এ নয়, কোনও পার্টিও নাকি রাইমাকে ছাড়া সম্ভব নয়। তাঁর গসিপের সম্ভার এত রঙিন, যে সেগুলো শুনতে শুনতে হাউসপার্টিতে বোর হওয়ার জো থাকে না! তবে শুধু অন্যকে নিয়ে গল্প নয়, রাইমা সেন নিজের ব্যাপারেও খোলাখুলি কথা বলেন। এমনকী, তাঁকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করা হলেও তিনি কিছু মনে করেন না।

 

স্টাইল কুইন: কেতেই কাত

সোনম কপূর
বলিউডের ফ্যাশনিস্তা বললেই সকলে তাঁর নাম নেবেন। এমনকী, এই ট্যাগটা এতই ভারী হয়ে গিয়েছে যে অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর নামডাক অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়। শুরু থেকেই সোনম কপূর দুর্দান্ত স্টাইলিশ। বোন রিয়াই তাঁর স্টাইলিং করেন। অনামিকা খন্না থেকে রাল্‌ফ লরেন, দেশি-বিদেশি প্রায় সব ডিজাইনার লেবেলই তিনি ট্রাই করে থাকেন। শাড়ির উপর বেল্ট কিংবা ডেনিম কেটে শাড়ি— ট্রেন্ডসেটার বরাবরই সোনম! শুধু পোশাকই নয়, মেকআপ, হেয়ারস্টাইল এবং অ্যাকসেসরি নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকেন নায়িকা। সোনমের স্টাইল স্টেটমেন্ট কতটা জনপ্রিয়, তা ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা দেখলেই 
বোঝা যাবে!

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
সাজপোশাক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ভয় পান না, টলিউডে একমাত্র স্বস্তিকাই। সে চরিত্রের জন্য অনায়াসে পিক্সি আন্ডারকাট কেটে ফেলা হোক বা কস্টিউম পার্টিতে বোল্ড ফিশনেট স্টকিংস আর ডেভিল্‌স হর্ন পরা! লেটেস্ট ট্রেন্ড মেনে না চললেও স্বস্তিকার একটা স্বতন্ত্র স্টাইল স্টেটমেন্ট রয়েছে। আর পাঁচজন নায়িকা যেভাবে সাজেন, তিনি মোটেই সেভাবে সাজেন না। নিজের বোন স্টাইলিং করে দিলেও কলকাতার ছোট-বড় সব ডিজাইনার লেবেলই ট্রাই করে দেখেন তিনি। অন্যরকম সিল্যুয়েট বা কাটের পোশাকে দিব্যি স্বচ্ছন্দ তিনি। পরদাতেও তাই পরিচালকরা স্বস্তিকার লুক নিয়ে চুটিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন।

Alia Bhatt Mimi Chakraborty Raima Sen Sonam Kapoor Swastika Mukherjee
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -