SEND FEEDBACK

English
Bengali

পৃথিবী গোল নয়, চ্যাপ্টা: দাবি নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন এঁরা

নিজস্ব প্রতিবেদন, এবেলা.ইন | মার্চ ২০, ২০১৭
Share it on
পৃথিবীর গোলকাকৃতি স্বীকার করতে এঁরা একেবারেই রাজি নন। প্রতিবছর গড়ে ২০০জন মানুষ এই সংস্থার সদস্য হন। ক্রমেই বর্ধমান এঁদের সংখ্যা।

না, মোটেই গোলাকার নয় এই গ্রহ। সেই আদি মধ্যযুগে তোলা এক দাবিকে সম্বল করে দিন কাটান এঁরা। ‘এঁরা’ মানে ‘ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি’-র সদস্যরা। ভুলেও ভাববেন না, এঁরা পাগল অথবা বাতিকগ্রস্ত। এঁদের মধ্যে বেশকিছু এমন মানুষ রয়েছেন, যাঁরা স্বক্ষেত্রে যথেষ্ট কৃতী ও খ্যাতনামা। অন্য কোনও কাজে এঁরা কোনওরকম উন্মাদনা দেখান না। কেবল এই একটা ব্যাপারেই এঁরা অনড়। পৃথিবীর গোলকাকৃতি স্বীকার করতে এঁরা একেবারেই রাজি নন।

মার্কিন দেশের বাস্কেটবল তারকা কাইরি আরভিং, বিশ্বখ্যাত ফোটোগ্রাফার সিন্ডি অর্ড-সহ অনেক সেলিব্রিটিরই বিশ্বাস, পৃথিবীর গোলাকৃতির ব্যাপারটা একেবারে গাঁজাখুরি গপ্পো। আসলে কিছু স্বার্থগন্ধী মানুষ এই বাজে গল্পটা ছড়িয়ে নিজেদের আখের গোছাতে চায়। নিজেদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা দিতে প্রভূত যুক্তি খাড়া করেন ‘ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি’-র সদস্যবৃন্দ। প্রতিবছর গড়ে ২০০জন মানুষ এই সংস্থার সদস্য হন। ক্রমেই বর্ধমান এঁদের সংখ্যা।

এই ২১ শতকে দাঁড়িয়ে এই আজব দাবি কি আদৌ সিরিয়াস? কী যুক্তি দেন ‘ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি’-র সদস্যরা তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠা করার পিছনে?

‘ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি’-র মতে—

• পৃথিবী একটা চ্যাপ্টা চাকতির মতো। এর কেন্দ্রে রয়েছে সুমেরু বৃত্ত, এই চাকতিকে ঘিরে থাকা একটি ১৫০ ফুট উঁচু বরফের দেওয়ালই কুমেরু। নাসা-র লোকেরা এই প্রাচীরটি পাহারা দেয়। তারা মানুষকে ওই প্রাচীর ডিঙোতে বাধা দেয়, না হলে লোক পৃথিবীর বাইরে পড়ে যাবে।

• চাঁদ ও সূর্য এই চাকতির উপরে পাক দেয়, তাই দিন-রাত্রি হয়। আর একটা ‘অ্যান্টিমুন’-ও এই ঘুরপাকের খেলায় রয়েছে, যাকে চোখে দেখা যায় না। তবে এর প্রকোপেই চন্দ্রগ্রহণ হয়।

• পৃথিবীর অভিকর্ষ আসলে একটা ইলিউশন। বরং ‘ডার্ক এনার্জি’ নামের একটা বল সেকেন্ডে ৩২ ফিট বেগে উপরদিকে ঠেলে এই চাকতিকে। এর উপরে দাঁড়িয়ে মনে হয়, নীচের দিক থেকে কেউ টানছে।

 • পৃথিবীর গোলকাকৃতি ছবিগুলো সবই নকল। মহাকাশ-টহাকাশও বাজে কথা। নাসা ও অন্যান্য সংস্থা মহাকাশ গবেষণার নামে বিপুল অর্থোপার্জন করে।

• সায়েন্টিফিক মেথডের বাইরে ‘জেটেটিক মেথড’ নামের এক পদ্ধতি অনুসরণ করে ‘ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি’-র সদস্যরা দেখান, গোলাকার পৃথিবীর ধারণাটাই নাসা-র ষড়যন্ত্র।

অনেকে মনে করেন, ‘ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি’-র এই আন্দোলন আসলে বিজ্ঞানবাদের বিরুদ্ধে। সবকিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করার প্রবণতাকে এঁরা প্রতিরোধ করতে চান। কিন্তু, ‘ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি’ নিজে থেকে এমন কিছুই বলে না।

সম্প্রতি মার্কিন বাস্কেটবল তারকা কাইরে আরভিং গণমাধ্যমে জানিয়েছেন ফ্ল্যাট আর্থ-এ তিনি বিশ্বাস করেন। তার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেধেছে তুমুল কাণ্ড। গোটা দুনিয়ার বিদ্রুপ বর্যিত হচ্ছে চ্যাপ্টা পৃথিবীর সমর্থকদের উপরে।

Flat Earth Society Flat Earth NASA
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -