SEND FEEDBACK

English
Bengali

‘মাঝে মাঝে মনে হয়, কেন যে সারা বছরই বরফ থাকে না উপত্যকায়!’

স্যমন্তক ঘোষ | জানুয়ারি ১১, ২০১৭
Share it on
কলকাতা তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি। কাশ্মীরের অশান্তিতে তিনি ক্লান্ত। শালবিক্রেতা তারিক শাহের মুখোমুখি স্যমন্তক ঘোষ

কাশ্মীরী শালের নাকি নকল বেরিয়ে গিয়েছে? পঞ্জাবের মিলে তৈরি হচ্ছে?
(হাসি) ঠিক নকল বলা যায় না। ওখানে তো মূলত উলের শাল তৈরি হয়। দেখলেই বোঝা যায়, সস্তা। পশমিনা নকল করা অত সহজ নয়।
 
কলকাতায় কতদিন শাল বিক্রি করছেন?
বছরকুড়ি তো হবেই! একটু বেশিও হতে পারে। প্রথম প্রথম অবশ্য বাবার সঙ্গে আসতাম। একটু বড় হয়ে নিজেই আসতে শুরু করি। সেই থেকে কলকাতার সঙ্গে আমার সম্পর্ক।
 
বাজার কি আগের মতোই আছে? এখন তো কাশ্মীরী শাল শপিং মলেও পাওয়া যায়!
বাজার তো বদলেছেই। কিন্তু তাতে ব্যবসার খুব ক্ষতি হয়েছে, বলব না। ক্লায়েন্টদের সঙ্গে অামাদের সম্পর্ক অন্যরকম। একেবারে পরিবারের মতো। ফলে, শীতের এই চারটে মাস তাঁরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন। যতই মল তৈরি হোক। কাশ্মীরের আসল হ্যান্ডক্রাফটেড শাল নিয়ে আসি আমরা। খোলাবাজারে আমাদের দামে সেই শাল খুব একটা পাওয়া যায় না।
 
বলছেন, ক্রেতাদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। দিনকে দিন সেই আত্মীয়তায় কি ভাটা দেখতে পাচ্ছেন? কাশ্মীরী বলে সন্দেহ করেন না কেউ?
(হাসি হাসি অভিব্যক্তি বদলে গেল) দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানায় অবস্থার খানিক বদল হয়েছে। আমাদের অনেক বন্ধুই ওদিকে এখন যেতে চাইছেন না। কিন্তু কলকাতায় এখনও ওরকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। এখানকার মানুষ বরাবরই আমাদের আত্মীয়। কাশ্মীরে গেলে তাঁরা আমাদের বাড়িতে থাকেন। আমাদের সঙ্গে বেড়াতে যান। মনে পড়ছে, নব্বই দশকের শুরুর দিকে দেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা শুরু হয়েছিল। আমি তখন কলকাতায়। আমার এক ক্লায়েন্ট ফোন করে তাঁদের বাড়িতে চলে অাসার অনুরোধ করেছিলেন। আত্মীয় মনে না-করলে কেউ ওই অনুরোধ করেন !

কাশ্মীরে তো হাঙ্গামা লেগেই আছে। ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে না?
একটু সমস্যা তো হচ্ছেই! স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের কপালে হাঙ্গামাই লেখা রয়েছে। আমরা দেশে থেকেও বিদেশি! জানেন, ভেবেছিলাম, শ্রীনগর ছেড়ে চলে যাব। চলে আসব কলকাতায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত নিজের শিকড় ছেড়ে বেরতে পারিনি। রাজনীতির বিশেষ কিছু বুঝি না। কিন্তু একটা কথা বুঝি, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর আমাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে।
 
কাশ্মীরী শাল তো ওখানকার হ্যান্ডিক্রাফট! গ্রাম থেকে আসে। হাঙ্গামার জন্য সেই শিল্পে কোনও সমস্যা হচ্ছে না?

কাশ্মীরের মানুষ বাঙালিদের মতোই শান্তিপ্রিয়। প্রত্যেক বাড়িতে হাতের কাজ হয়। জিনিসপত্র জোগাড়ে একটু সমস্যা হলেও ঘরে ঘরে শিল্প বন্ধ হয়ে যায়নি। শিল্প ছাড়া উপত্যকার মানুষ বাঁচতে পারেন না।
 
অাপনাদের কোন ধরনের শাল কলকাতায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়?
সব ধরনের। পশমিনা সকলেই খুব পছন্দ করেন। কাঠের ছুঁচ দিয়ে তৈরি শালেরও ভাল কদর আছে। তবে, ওই ধরনের শালের দাম অনেকটাই বেশি।
 
আপনার ছেলেরাও কি বাবার ব্যবসায় আসবে?
মনে তো হয় না! ওরা অবশ্য এখন পড়াশোনা করছে। কিন্তু দেশের যা অবস্থা, তাতে বছরকুড়ির বেশি এই ব্যবসা টিকবে বলে মনে হয় না!
 
পরিবারকে দেশে ফেলে এসে টানা চারমাস থাকেন কলকাতায়। ভয় করে না?
আগে করত না। এখন করে। দিনে যে কতবার ফোন করে খবর নিই! তবে, এখন ওখানে সব শান্ত। বরফ সব শান্ত রেখেছে! মাঝে মাঝে মনে হয়, কেন যে সারা বছরই বরফ থাকে না উপত্যকায়! শান্তিতে শিল্পের চর্চা করা যেত!

Tariq Shah
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -