SEND FEEDBACK

English
Bengali

যোগী আদিত্যনাথের উত্থানের কৃতিত্ব মোদীর নয়! রাহুল-মমতা-মুলায়মদের

সম্বিত পাল, এবেলা.ইন | মার্চ ১৯, ২০১৭
Share it on
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর উত্থানের পিছনে কৃতিত্ব কার?

গোরক্ষপুর মঠের মহন্ত যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন তাঁর কট্টর হিন্দুত্ববাদী অবস্থানের জন্য। পাঁচ বারের বিজেপি সাংসদের সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে চাঁচাছোলা বক্তব্য নিয়ে জলঘোলা হয়েছে অনেক সময়েই। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তাও কম নয়। এহেন সাধু-নেতাকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করে আরএসএস ও বিজেপি একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। 

কারও কারও মতে, মুখে ‘নতুন ভারতের’ স্বপ্ন দেখিয়ে, কাজে যোগীর মতো একজনের হাতে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করলেন। তবে কি উন্নয়নের বদলে সেই রামরাজ্য-অযোধ্যার দিকেই বইবে ভারতের রাজনীতি? আবার কেউ কেউ বলছেন, দিল্লিতে উন্নয়নের ধ্বজা উড়িয়ে বিজেপির রথ এগিয়ে নিয়ে যাবেন মোদী, আর যোগী আদিত্যনাথের মতো নেতা হিন্দু জাতীয়তাবাদের পতাকা ওড়াবেন।

আরও পড়ুন:—

শাহরুখের সঙ্গে জঙ্গির তুলনা। দেখে নিন যোগী আদিত্যনাথের ৮টি বিতর্কিত মন্তব্য

আদিত্যনাথের শপথ গ্রহণে দু’জন অতিথি উপস্থিত হয়ে চমকে দিলেন সবাইকে

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যোগী আদিত্যনাথ যে ১৩টি কাজ করবেনই

‘বিজেপি এ কী করল’ রব উঠে গিয়েছে চারিদিকে। একজন মুসলিম বিধায়ক নেই শাসক দলে, একজন কট্টর হিন্দু নেতা মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে, নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা রয়েছে বন্ধ হবে কসাইখানা, সাংবিধানিক উপায়ে তৈরি হবে রামমন্দির। এই রাজনীতিই কি চায় ‘নতুন ভারতের’ তরুণ সম্প্রদায়?

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলে দিয়েছেন, হিন্দু-মুসলমান বলে বিচার করবেন না। ভোটার ভোটারই। আমরাও কোনও ধর্ম বিচার করছি না। উন্নয়ন হবে সবার জন্যই। উত্তরপ্রদেশের ফল জাতীয়তাবাদের পক্ষে রায়। 

ভুল কিছু বলেননি অমিত শাহ। বহুত্ববাদের বদলে সংখ্যাগুরুর জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল মোদীর বিজেপি। পিছনে বিপুল সমর্থন যুব সম্প্রদায়ের। নিপুণ ভাবে মোদী-বাহিনী ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-র ধারণাকে ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ বলে আপাত-বিশ্বাসযোগ্য প্রচারের হাওয়া তুলে দিতে পেরেছে সমাজের একটা বড় অংশে। 

কাজ না পাওয়া, সামাজিকভাবে বঞ্চিত, ধর্মীয় ও জাতিবৈষম্যের শিকার একটি বড় অংশের মানুষ মোদীকেই তাঁদের ত্রাতা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন। সরকারি ও রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তিশালী নেতাকে যেন খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। মিডিয়ার একাংশ এই প্রচারে ইন্ধন জুগিয়েছে সুচারু ভাবে। 

রাজনীতির এই ধারা শুধু ভারতেই নয়। আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স— সব জায়গাতেই ডান ও কট্টরপন্থীদের রমরমা। তার বড় কারণ, সমাজবাদী ও বামেদের অপদার্থতা। বঞ্চিত, নিপীড়িত, শোষিত মানুষের পাশে যাদের দাঁড়ানোর কথা, তারাই দিশাহীন। 

ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। কংগ্রেস হোক বা বাম বা মুলায়মের সমাজবাদী রাজনীতি বা মায়াবতীর দলিত রাজনীতি, আজকের যুব সম্প্রদায়কে ছুঁতে পারছে না। দুর্নীতির অভিযোগে তো রয়েছেই। পশ্চিমবঙ্গেও মমতা অভিযুক্ত হচ্ছেন সংখ্যালঘু তোষণের জন্য। এর পরে রয়েছে কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা। সংখ্যার রাজনীতি করতে গিয়ে এঁরা কেউই বহুত্ববাদের ধারণাকে রক্ষা করতে পারেনি। সব মিলিয়ে বহুত্ববাদে বা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসীরাই সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছেন এই দেশে।

এর মাঝেই কংগ্রেসী-বাম-সমাজবাদীদের রাজনীতিকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন মোদী। যোগী আদিত্যনাথের মতো ব্যক্তিত্বকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করতে ভয় পাচ্ছেন না তিনি। তাই এই সংখ্যাগুরুর জাতীয়তাবাদের উত্থানের দায় মোদী-বিরোধীদের নিতেই হবে। 

Yogi Adityanath Hindu Nationalism Socialism Muslim Appeasement Congress Mamata Banerjee
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -