SEND FEEDBACK

English
Bengali

অধিনায়ক জয় হে

সুমিত ঘোষ | জানুয়ারি ৬, ২০১৭
Share it on
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে তিনি ছিলেন অধিনায়ক ধোনির অন্যতম সেরা সৈনিক। তারপর হয়ে ওঠেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু। ‘ক্যাপ্টেন কুল’কে নিয়ে ইরফান পাঠান টেলিফোন-সাক্ষাৎকারে নানা অজানা কাহিনি শোনালেন সুমিত ঘোষ-কে...

অন্যরকম ভাবার দক্ষতা
আউট অফ দ্য বক্স ভাবতে পারত। কঠিন সময়ে সেটাই সবচেয়ে বেশি দলের জন্য লাভবান হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরু হয়েছিল অধিনায়ক ধোনির যাত্রা। সেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে যোগিন্দর শর্মাকে দিয়ে শেষ ওভার করানোটা তো রূপকথায় ঢুকে আছে। সিদ্ধান্তটা কিন্তু সেই সময় মাঠে দাঁড়িয়েই নিয়েছিল ও। এমন নয় যে, খুব ভাবনাচিন্তা করে টিম রুম থেকে এটা কাগজে লিখে নিয়ে মাঠে নেমেছিল। খেলা চলতে চলতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। 
 
উপভোগ্য টিম মিটিং
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অধিনায়ক হিসাবে ধোনির আবির্ভাব। ক্যাপ্টেন ধোনির শুরুর দিককার ছবির মধ্যে সবচেয়ে বেশি করে মনে আছে টিম মিটিংগুলোর কথা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠকের কোনও ব্যাপারই ছিল না। শুরুতেই ও বলে দিয়েছিল, অর্থপূর্ণ টিম মিটিং করব। নিশ্চয়ই প্ল্যানিং করব, প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিশ্লেষণ করব কিন্তু টিম মিটিং হবে সংক্ষিপ্ত আর উপভোগ্য।  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের বৈঠকগুলো তাই কোনওটাই খুব বড় হতো না। যতদূর মনে করতে পারছি, দীর্ঘতম বৈঠক আমরা করেছিলাম ১৫ মিনিটের। বেশিরভাগ মিটিং শেষ হয়ে যেত ১০ মিনিটে। তরুণ টিমের কাছে এটা দারুণ ব্যাপার ছিল।
 
সেরাদের তালিকায় কোথায়
সবচেয়ে বেশি করে ধোনির সঙ্গে তুলনা চলছে দাদার (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়)। আমি দাদার অধীনে ক্রিকেট কেরিয়ার শুরু করেছিলাম। দু’জনেই গ্রেট ক্যাপ্টেন। আমার মনে হয়, দু’জনে ভারতীয় ক্রিকেটের দু’টো যুগকে নেতৃত্ব দিয়েছে। দু’জনেই ভারতীয় ক্রিকেটকে নিজের মতো করে এগিয়ে দিয়েছে। তুলনা করাটা ঠিক হবে না। দুই অধিনায়ককে নিয়েই আমাদের গর্বিত থাকা উচিত। আর এটা নিশ্চয়ই আমার বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ধোনি সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের মধ্যে অনেক আগেই স্থান করে নিয়েছে। 

ক্যাপ্টেন কুলের টোটকা
ভীষণ অ্যালার্ট ক্যাপ্টেন ছিল ধোনি। এক মুহূর্তের জন্যও খেলা থেকে হারিয়ে যাবে না। একেবারে শিকারী বাঘের মতো পায়ের গোড়ায় ভর দিয়ে ওঁত পেতে থাকে। লোকে ব্যাটসম্যান হিসাবে ফিনিশার ধোনির কথা জানে। যেটা জানে না, তা হচ্ছে, ক্যাপ্টেন হিসাবেও দুর্দান্ত ফিনিশার ধোনি। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় কমনওয়েলথ ব্যাঙ্ক সিরিজের ফাইনালে আমি শেষ ওভার করতে যাওয়ার আগে যেমন বলেছিল, ‘‘ইরফান, তুই এত খারাপ বোলার মোটেও না যে, লাস্ট ওভারে ১২ রান দিয়ে দিবি।’’ তখন ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান আছে দেখেও আমাকে এটা বলে দিল। ক্যাপ্টেনের আত্মবিশ্বাস পেয়ে আমিও উত্তেজিত। শেষ ওভারে দু’টো উইকেট নিয়ে ম্যাচটা জিতিয়ে দিয়েছিলাম। অস্ট্রেলিয়ায় সেই সিরিজে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।

নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে
সালটা ২০০৬। পাকিস্তানে ফৈজলাবাদ টেস্টের কথা মনে পড়ছে। পাকিস্তান পাঁচশোর ওপর রান করেছিল। দ্রুত কয়েকটা উইকেট পড়ে গিয়ে আমরা খুব চাপে ছিলাম। ধোনি দেড়শোর কাছাকাছি রান করেছিল (ধোনি ১৪৮ করেছিলেন সেই ইনিংসে)। সেটাই ছিল ওর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ওই ইনিংসটাতেই আমার সঙ্গে লম্বা পার্টনারশিপ ছিল (ইরফান করেছিলেন ৯০)। ওই ইনিংসটাতে শোয়েব আখতারকে যেভাবে পিটিয়েছিল ধোনি, জীবনে ভুলব না। এই পার্টনারশিপটা আমার কাছে সেরা স্মৃতি হিসাবে থেকে যাবে। নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে ব্যাটসম্যান ধোনির ঝড় দেখেছি অনেকবারই। কিন্তু সেদিন পাকিস্তানের মাটিতে শোয়েবদের বিরুদ্ধে যে বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখেছিলাম, অবিশ্বাস্য! 

মাঠের বাইরের বন্ধু ধোনি 
মজা করতে ভালবাসে। বিদেশ সফরে গেলে আমরা বাইরে খেতে যেতাম। ম্যাকডোনাল্ড‌স, কেএফসি, ন্যান্দোস— এগুলো ছিল আমাদের ফেভারিট ফুড জয়েন্ট। ড্রেসিংরুমেও গম্ভীর পরিবেশ রাখার পক্ষপাতী নয় ধোনি। মজার-মজার কথা বলে নিজেই পরিস্থিতি হাল্কা করে দেবে। দারুণ ‘মিমিক্রি’ করে। মাঠের মধ্যে প্রান্ত বদল করার সময় কতবার যে আমার হাঁটাচলা নকল করে দেখিয়েছে! মাঠে আবেগ দেখায় না, কিন্তু বন্ধু হিসাবে ঠিক তার উল্টো। আবেগ নিয়ে মেশে। যে আবেগ মাঠে দেখায় না। আমার বাড়িতে এসেছে। আমার পরিবারের সকলের সঙ্গেও দারুণভাবে মিশেছে। ধোনি আমার কাছে শুধুই ক্যাপ্টেন নয়, দারুণ বন্ধুও। 

ভবিষ্যতের রাস্তায় কী
ক্যাপ্টেন্সি ছেড়ে দিলেও খেলা চালিয়ে যাবে বলেছে। আমার মতে, একদম ঠিক সিদ্ধান্ত। এখনও ভারতীয় ক্রিকেটকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে ধোনির। ওর মতো ক্রিকেটারকে যতদিন ভারতীয় দলের জন্য ব্যবহার করা যায়, ততই ভাল। 

Irfan Pathan MS Dhoni
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -