SEND FEEDBACK

English
Bengali

জাতীয় প্যারালিম্পিক্সে সাহেবদের যাওয়ার খরচ জোগালেন সাধারণ মানুষ

তানিয়া রায় | মার্চ ১৮, ২০১৭
Share it on
চলতি মাসের শেষে জয়পুরে হচ্ছে জাতীয় প্যারালিম্পিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানেও অংশ নেওয়ার যাওয়ার সামর্থ্য নেই বাংলার সাহেব, রুবিয়াদের। তবে এবার এই অ্যাথলিটদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকা এই শহরেরই কিছু যুবক যুবতী।

বহু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছেন না বাংলার প্যারালিম্পিক্স অ্যাথলিটরা। কারণ অর্থাভাব। কেউই তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না।
চলতি মাসের শেষে জয়পুরে হচ্ছে জাতীয় প্যারালিম্পিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানেও অংশ নেওয়ার যাওয়ার সামর্থ্য নেই বাংলার সাহেব, রুবিয়াদের। তবে এবার এই অ্যাথলিটদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকা এই শহরেরই কিছু যুবক যুবতী। 
সাহেব হুসেন। বাংলার প্রতিভাবান এই অ্যাথলিটের জন্ম থেকেই দু’চোখে পঁচাত্তর শতাংশ দৃষ্টি নেই। অথচ জাতীয় পর্যায়ে ট্র্যাক ইভেন্টে সাহেবের বহু রেকর্ড রয়েছে। ২০১৩-২০১৬ টানা চার বছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ১০০ এবং ২০০ মিটারে সাহেবের টাইমিংয়ের সঙ্গে বিশ্বরেকর্ডের খুব পার্থক্য নেই। তবু জুটমিল কর্মীর ছেলে সাহেব আক্ষেপ করছিলেন, ‘‘আমার কাছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পর্যায়ের টুর্নামেন্টের আমন্ত্রণপত্র পড়ে রয়েছে। টাকার অভাবে যেতে পারছি না।’’
রুবিয়া চট্টোপাধ্যায়ের গল্পটাও সাহেবের চেয়ে আলাদা নয়। ডান পা পোলিও-র জন্য অকেজো। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। শটপাট, ডিসকাস, জ্যাভেলিনে তাঁর সাফল্য চমকপ্রদ। তবু জাতীয় স্তরে টুর্নামেন্টে যোগ দিতে দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে রুবিয়াকে। তিনিও বললেন, ‘‘অর্থের অভাবেই একটার বেশি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারি না। তবু, প্র্যাক্টিস মন দিয়ে করে যাই এই আশায় যে, কোনওদিন হয়তো আমরাও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা পাব।’’
রাজ্যে প্যারালিম্পিক্সের কোনও স্বীকৃত সংস্থা নেই। সিভিলিয়ান ওয়েলফেয়ার নামের একটি সংস্থার উদ্যোগে মাঝে মাঝে এই প্যারালিম্পিক অ্যাথলিটরা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নন। কিন্তু স্পনসর না থাকায় সাহেবদের পক্ষে জয়পুরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই অবস্থায় একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত থাকা কিছু সাধারণ মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছেন সাহেবদের। এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েসাইটের উদ্যোগেই সাহেবদের কথা প্রচার করা হয়। এমনকী এর সঙ্গে যুক্ত ছেলেমেয়েরা চাঁদা তুলে সাহেবদের জয়পুরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। হতাশা কাটিয়ে এখন হাসি ফিরেছে বাংলার প্যারা অ্যাথলিটদের মুখে।

Paralympians Saheb Rubia
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -