SEND FEEDBACK

English
Bengali

পূজারার ২০২ দেখেও অবাক নন বর্ষীয়ান এই কোচ। যা বললেন, তা অবাক করবে

কৃশানু মজুমদার, এবেলা.ইন | মার্চ ২০, ২০১৭
Share it on
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কোচ তিনি। রবীন্দ্র জাদেজা ও চেতেশ্বর পূজারাকেও হাতের তালুর মতো চেনেন তিনি। পূজারার ডাবল হান্ড্রেড দেখে তিনি মোটেও বিস্মিত নন। কারণ হিসেবে যা জানালেন, তা অবাক করে দেবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

একা চেতেশ্বর পূজারায় রক্ষে নেই। সঙ্গী আবার ঋদ্ধিমান সাহা।

এই দু’জনের ব্যাটিং দৌরাত্ম্যে রাঁচী টেস্টে অস্ট্রেলিয়া একসময়ে খাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির রাজ্যে অনুষ্ঠিত টেস্টে কোনওরকমে মান বাঁচাল স্টিভ স্মিথের দল। একটা সময়ে অজিদের শ্বাসরোধ করে দিয়েছিল পূজারার ডাবল হান্ড্রেড ও ঋদ্ধিমানের শতরান। সেই ফাঁস কোনওরকমে আলগা করলেন অজিরা।  

চলতি টেস্ট সিরিজের প্রথম দু’টি টেস্টে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যাট ‘বোবা’ থেকে গিয়েছে। পুণে ও বেঙ্গালুরুতে সেঞ্চুরির কাছে পৌঁছেও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি কোনও ভারতীয় ব্যাটসম্যানই।

ধোনির শহরে এসে সব বদলে যায়। টেস্টের পঞ্চম দিন অন্য ছবি ধরা পড়ে। সদ্যসমাপ্ত এই টেস্টেই ভারতীয়রা প্রথম সেঞ্চুরি পান। ভারতের পাহাড়প্রমাণ রানের চাপে পড়ে ম্যাচ বাঁচানোর খেলা খেলতে হয় অজিদের। শেষমেশ ড্রয়ের কোলে ঢলে পড়ে রাঁচী টেস্ট।

বিরাট কোহলির মতো চ্যাম্পিয়ন ব্যাটসম্যান এখনও পর্যন্ত ব্যর্থ চলতি সিরিজে। পূজারা সখানে রাঁচীতেই ২০২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছেন। কীভাবে সম্ভব হল তা? এবেলা.ইন-এর তরফ থেকে প্রশ্নটা ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল বর্ষীয়ান কোচ দেবু মিত্রের কাছে। পূজারা, রবীন্দ্র জাদেজাকে হাতের তালুর মতো চেনেন এই কোচ। সৌরাষ্ট্রের উত্থানের পিছনে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই দেবু মিত্র জবাবে বলছিলেন, ‘কনসেনট্রেশন ও ডিটারমিনেশন পূজারার আসল শক্তি। ক্রিজে ব্যাট করতে নেমে ধৈর্যের পরীক্ষা দেয় চিন্টু। মেরিট অনুয়ায়ী প্রতিটি বল খেলে। রাঁচীতে ডাবল হান্ড্রেড করেছে ঠিকই। কিন্তু ইনিংসের গুরুত্ব ও পরিস্থিতির বিচার করতে বসলে আমি কিন্তু এগিয়ে রাখব বেঙ্গালুরুতে পূজারার খেলা ৯২ রানের ইনিংসকেই। আমার মতে ওই ইনিংসটা রাঁচীর থেকেও দামি। চিন্টুর খেলা ওই ইনিংসটা ভারতকে জেতাতে সাহায্য করেছে।’ বেঙ্গালুরুতে জিতেই যে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনেছে কোহলির ভারত।

চিন্নাস্বামীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯২ রান করেন পূজারা।বর্ষীয়ান কোচ কেন এগিয়ে রাখছেন বেঙ্গালুরুর ইনিংসকে? জবাবে দেবু মিত্র বলছেন, ‘আমার মতে রাঁচীর পিচটা সহজ। এখানে ব্যাট করা খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়। বেঙ্গালুরুর পিচে ব্যাট করা কিন্তু খুবই কঠিন ছিল। অস্ট্রেলিয়া তো দ্বিতীয় ইনিংসে ১১২ রানেই ভেঙে পড়ল। সেখানে রাঁচীতে চার-চারটে উইকেট পড়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সামলে নিল। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া করে ৪৫১ রান। ভারত সেখানে ৬০৩ করে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে পিচ খারাপ নয়। আমি বলব, বেঙ্গালুরুতে পূজারার ৯২ রানের ইনিংসই পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল। আসলে চিন্টুর অনেক লম্বা ইনিংস আমি দেখেছি। তাই রাঁচীর ইনিংস আমাকে অবাক করেনি। ও কী করতে পারে, তা আমি জানি।’

দেবু মিত্র ছিলেন বলেই পূজারা ও জাদেজাকে আজ গোটা ক্রিকেটবিশ্ব চিনেছে। তাঁর কথায়, ‘চিন্টুকে আমার কথা জিজ্ঞাসা করবেন। দেখবেন, ও বলবে, দেবু স্যার আমাকে অনেক টিপস দিয়েছেন। পূজারাকে সুইপ মারতে দেখেছেন? আমি ওকে সুইপ মারতে বারণ করে দিয়েছিলাম।’ পূজারাও ‘দ্রোণাচার্য’-এর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।

লম্বা ইনিংস খেলতে দক্ষ পূজারা। ঘরোয়া ক্রিকেটে পূজারা একাধিক বার লম্বা ইনিংস খেলেছেন। দেবু মিত্র বলছিলেন, ‘একটা ম্যাচের কথা খুব মনে পড়ছে।রনজি ট্রফিতে কর্নাটকের বিরুদ্ধে  প্রথম ইনিংসে বেশি রান করতে পারেনি পূজারা। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমেছে। ব্যাট করতে যাওয়ার সময়ে আমার সঙ্গে ওর কথাও হয়নি। লাঞ্চের সময়ে আমি ওকে বলেছিলাম, ধৈর্য ধরে খেলবে। স্ট্রেট খেলে যাও। ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ কর্নাটকের বিরুদ্ধে রনজি ট্রফিরে সেই ম্যাচে কত রান করেছিলেন পূজারা? ৩৫২ রান করে শেষে থেমেছিলেন পূজারা।

তাই ধোনির ঘরের মাঠে পূজারার খেলা ২০২ রান নিয়ে হইচই হলেও দেবুবাবু কিন্তু মোটেও বিস্মিত নন। শিষ্যকে এর আগেও যে লম্বা ইনিংস খেলতে বহুবার দেখেছেন দ্রোণাচার্য।  

Debu Mitra Cheteswar Pujara India Australia
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -