SEND FEEDBACK

English
Bengali

মণীশের পরিচয় নিয়ে ধন্দে পুলিশ, ‘ঝেড়ে’ ফেললেন না বাবুল!

নিজস্ব সংবাদদাতা | ডিসেম্বর ৮, ২০১৬
Share it on
তৃণমূলকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি বাবুল। তাঁর অভিযোগ, নোট-কাণ্ডে ধৃত মাফিয়া রাজু ঝা বেআইনি কয়লার ব্যবসা চালানোর জন্য শাসকদলকে কোটি কোটি টাকা দেয়। কয়লা মাফিয়ার সঙ্গে তৃণমূলের যোগ প্রমাণ করতে মুখ্যমন্ত্রীর ২০১৪ সালের সিঙ্গাপুর সফরের প্রসঙ্গও তুলেছেন বাবুল।

নোট-কাণ্ডে পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে ধৃত বিজেপি নেতা মণীশ শর্মা নাম ভাঁড়িয়ে গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার পুলিশ সূত্রের খবর, মণীশ জাল ভোটার কার্ড ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
উল্টোডাঙা থেকে মণীশকে গ্রেফতার করার পর তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসটিএফ গ্রেফতার করার পর সে নিজের পরিচয় দিয়েছিল মণীশ জোশী বলে। বাড়ির ঠিকানা বলেছিল মহারাষ্ট্রের পুণের কণিষ্ক অ্যাপার্টমেন্ট। এরপর পুলিশ ধন্দে পড়ে যায়, মণীশের আসল পরিচয় কী? শর্মা এবং জোশী, দু’জনেই কী একই ব্যক্তি?
গত বিধানসভা নির্বাচনে রানিগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপি’র প্রার্থী হয়েছিল মণীশ। সেখানে পদবী ছিল শর্মা। ওই মণীশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে যে হলফনামা দাখিল করেছিল, সেখানেও একাধিক প্রসঙ্গ সে কৌশলে এড়িয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সে কতদূর পড়াশোনা করেছে তার নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। শুধু লেখা রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন স্কুলে পড়াশোনা করেছে।
বিজেপি’র তরফে আগেই জানানো হয়েছে, গত ৩০ জুন দুর্নীতি এবং একাধিক অভিযোগে দল থেকে মণীশ বহিষ্কৃত হয়েছিল। বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন,

‘‘বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আমি চিনতামও না সকলকে (প্রার্থীদের)। যখনই অভিযোগ এসেছে তখনই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ দিলীপের উল্টো সুর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ের। তিনি বলেন, ‘‘আমি ওঁকে ঝেড়ে ফেলছি না। ওঁর হয়ে বিধানসভা ভোটে আক্রমণাত্মক প্রচার করেছিলাম। ও তো চুনোপুঁটি!’’
পাশাপাশি, তৃণমূলকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি বাবুল। তাঁর অভিযোগ, নোট-কাণ্ডে ধৃত মাফিয়া রাজু ঝা বেআইনি কয়লার ব্যবসা চালানোর জন্য শাসকদলকে কোটি কোটি টাকা দেয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, ‘‘শাসকদলের সঙ্গে যুক্তদের নাম পুলিশ বলে কি না, সেটা দেখতে চাই।’’ কয়লা মাফিয়ার সঙ্গে তৃণমূলের যোগ প্রমাণ করতে মুখ্যমন্ত্রীর ২০১৪ সালের সিঙ্গাপুর সফরের প্রসঙ্গও তুলেছেন বাবুল। তাঁর অভিযোগ, ‘‘কৃষ্ণকান্ত নামে এক মাফিয়া ডন তো সরকারি প্রতিনিধি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুর গিয়েছিল।’’
বিজেপি নেতা হওয়ার পর মণীশ ছোট ব্যবসা থেকে হঠাত্ই বৈভবের শিখরে উঠে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাং‌শের মতে, কয়লা মাফিয়া বলে এলাকায় পরিচিত মণীশ সম্প্রতি তৃণমূলের নিচুতলার নেতৃত্বের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেছিল। এদিন রানিগঞ্জের ভালোটিয়া কমপ্লেক্সে বিজেপি’র দলীয় কার্যালয়ে (যেখানে মণীশের প্রভাব রয়েছে) গিয়ে দেখা যায় তা তালাবন্ধ। 
নগদ টাকা এবং অস্ত্র-সহ গত সোমবার এসটিএফে’র হাতে মণীশ-সহ পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছিল। 

 

Babul Supriyo Manish Sharma
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -