SEND FEEDBACK

English
Bengali

আমার নতুন বাংলার মাস্টার মশাই

নিজস্ব সংবাদদাতা | অগস্ট ৩১, ২০১৬
Share it on
ছাত্র প্রস্তুত। শিক্ষকও। তবে শিক্ষাপর্ব কবে শুরু, তা এখনও জানা যায়নি।

ছাত্র প্রস্তুত। শিক্ষকও। তবে শিক্ষাপর্ব কবে শুরু, তা এখনও জানা যায়নি। 
ছাত্র বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয় ভারীশিল্প প্রতিমন্ত্রী। আসানসোলের সাংসদ। শিক্ষক রাহুল সিংহ। রাজ্য বিজেপি’র প্রাক্তন সভাপতি। শিক্ষককে তাঁর মাস্টারের আসন দিয়েছেন ছাত্র নিজেই। নতুন বাংলা শেখার জন্য। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন সম্পর্কে সোমবার ‘ছাত্র’ যা বলেছিলেন, তাতে ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন ‘শিক্ষক’। জানিয়েছিলেন, বাংলার নাম বদল সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই ‘ছাত্রে’র। কারণ, রাজ্যের ‘বাংলা’ নাম বাবুল সমর্থন করেছেন। বিজেপি করেছে বিরোধিতা। 
রাজ্য বিজেপি’তে রাহুলের সঙ্গে বাবুলের ‘বৈরিতা’র সম্পর্ক অজানা নয়। রাজ্যের নাম বদল নিয়ে সেই সম্পর্কই আবার ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার সকালে রাহুলকে খোঁচা দিয়ে টুইট করেন বাবুল। লেখেন, ‘বন্ধুগণ। রাহুল সিংহ বিজেপি’তে অনেক সিনিয়র। উনি ঠিকই বলেছেন। বাংলা নিয়ে জানতে ওঁর কাছে ক্লাস শুরু করছি। শীঘ্রই’। সঙ্গে একটি ‘স্মাইলি’। বিকেলে আরও একটি টুইট করেন বাবুল। সেখানে কারও নাম না-করেই তিনি লিখেছেন, ‘হিংসে বড় হিংস্র জিনিস। মানুষ দৃষ্টিশক্তি, শুভবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে’। সঙ্গে একটি বাঁদরের ‘ইমোজি’। যে চোখ ঢেকে বসে আছে। দুটি টুইটের মধ্যে কি কোনও যোগসূত্র আছে? সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।  
‘ছাত্রে’র টুইট-খোঁচায় অবশ্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাননি ‘শিক্ষক’। শুধু বলেছেন, ‘‘বাবুল তো ঠিকই বলেছেন! আমি সোমবারেই বলেছি, বাবুল সবটা জানেন না। আমরা বাবুলকে দলীয় অবস্থানের কথা জানালে ও বুঝতে পারবে।’’ আর বাবুল? সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে বলেছেন, ‘‘ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দের সঙ্গে রাজনীতিকে জুড়ে দেওয়া হলে নিজস্বতা অবশিষ্ট থাকে না।’’ 
রাজ্যের নামবদল নিয়ে বাবুল এবং রাহুলের মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যে ‘অস্বস্তি’তে পড়তে হচ্ছে রাজ্য বিজেপি’কে। বাবুলের অভিমত ‘ব্যক্তিগত’ বললেও ‘অস্বস্তি’ ঢাকতে পারছেন না রাজ্য বিজেপি’র সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘‘কারও ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে। কিন্তু দলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই তো নতুন। আর বিজেপি এমন দল নয়, যে কেউ কোনও কথাই বলতে পারবেন না।’’ তবে বাবুল রাজ্য বিজেপি’র প্রাক্তন সভাপতিকে নিশানা করতে ছাড়েননি। বলেছেন, ‘‘দলকে কেন অস্বস্তিতে ফেলছেন, সে প্রশ্নের উত্তর রাহুল সিংহ দিতে পারবেন!’’ দলকে ‘বিড়ম্বনা’য় ফেলা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব অবশ্য সরাসরি দেননি রাহুলও। বলেছেন, ‘‘না-না, তা নয়! আমি শুধু দলীয় অবস্থানের কথা জানিয়েছি।’’ 


 

ঝালমুড়ির গুণ গেয়ে আসানসোল হাসপাতালে অর্থ বরাদ্দের জন্য দিদিকে ধন্যবাদ বাবুলের


বছর ঘুরেছে। তবু ঝালমুড়ির ‘স্বাদ’ ভুলতে পারছেন না বাবুল সুপ্রিয়। তাই সেই প্রসঙ্গ টেনে আসানসোলে ইএসআই হাসপাতালে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের প্রসঙ্গে যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করলেন, তেমনই নাম-না করে ঝালমুড়ি-তত্ত্বের বিরোধীদেরও বিঁধলেন। 
আসানসোলের ইএসআই হাসপাতালের আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সেই বরাদ্দের পিছনে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বাবুল। কেননা, ওই বরাদ্দের জন্য বাবুলের অনুরোধ মেনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছিলেন। 
এই প্রশংসার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল গত বছর ৯ মে। সেদিন রাজ্য সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতার গাড়িতে রাজভবনে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল। পথে ভিক্টোরিয়ার সামনে গাড়ি থামিয়ে বাবুলকে ফুচকা এবং ঝালমুড়ি খাইয়েছিলেন মমতা। কয়েকদিন পরে রাজারহাটে কোল ইন্ডিয়ার অনুষ্ঠানে মমতার দরাজ প্রশংসা করেছিলেন বাবুল। রাজ্য রাজনীতিতে যে পর্ব ‘ঝালমুড়িসূত্র’ নামে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গাড়িতে যেতে যেতেই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর জন্য উচ্ছেদ, আসানসোলকে জেলা ঘোষণা করা নিয়ে কথা হয়েছিল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর। ইএসআই হাসপাতালে বরাদ্দের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়ার জন্যও মমতাকে অনুরোধ করেছিলেন বাবুল। এর পরে ওই বাবদ ২৫ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ চেয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমরকে চিঠি দেন মমতা। সেইমতোই অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা করা হয়েছে। 
মঙ্গলবার বাবুল বললেন, ‘‘আমি অর্থ বরাদ্দ চেয়ে দরবার করলেও রাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিতে হয়। আমি দিদিকে সেই অনুরোধটা করেছিলাম। দিদি সেই অনুরোধ রেখেছেন।’’ সঙ্গে ঝালমুড়ি-তত্ত্বের বিরোধীদের প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। বাবুলের কথায়, ‘‘ঝালমুড়ি-কাণ্ডের কথা বলা হয়েছিল না? ওই ঝালমুড়ি-কাণ্ডে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো, আসানসোল জেলা ঘোষণার পাশাপাশি এটাও একটা বিষয় ছিল।’’ 
ঘটনাচক্রে, বাবুলকে ওই প্রসঙ্গে বিঁধেছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন অবশ্য সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন রাজ্য বিজেপি’র মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। বরং উন্নয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রী হিসাবে যা করণীয়, বাবুল তাই করেছেন বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রশংসাই করেছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করতে ছাড়েননি তিনি। রূপার কথায়, ‘‘বাবুল বুদ্ধিমান। কাজের জন্য যা করা উচিত, তাই করেছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে কেউ না উঠলে কি তিনি কোনও কাজ করবেন না! কেন্দ্রীয় বরাদ্দের জন্য চিঠি লেখা তো মুখ্যমন্ত্রীর কাজের মধ্যেই পড়ে।’’ 
আসানসোলের ইএসআই হাসপাতালের আধুনিকীকরণের জন্য এইচপিএল’কে বরাত দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সে কাজ শুরু হবে বলে এদিন জানিয়েছেন বাবুল। আগামী সপ্তাহে আসানসোলের উন্নয়নে কয়েকটি রাস্তা এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের উদ্বোধনও করার কথা তাঁর। বাবুলের কথায়, ‘‘যাঁরা বলেন বাবুল উন্নয়ন করে না, তাঁরা নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন কীভাবে আসানসোলে কাজ হচ্ছে!’’ 

 

Rahul Sinha babul Supriyo
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -