SEND FEEDBACK

English
Bengali

দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা গঠনে মুন্সিয়ানার পরিচয় ‘পরিণত’ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজীব চট্টোপাধ্যায় | মে ২৭, ২০১৬
Share it on
মমতার মন্ত্রীসভায় অনেক চমক। কারও দায়িত্ব বেড়েছে। কিন্তু অনেকেরই দায়িত্ব কমেছে।

গত পাঁচ বছরের কাজের মূল্যায়ন, আনুগত্য এবং দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা। নবান্নে দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগে শুক্রবার নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনে এই তিন মাপকাঠির কৌশলী মিশ্রণে পরিণতিবোধ দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যেমন তিনি ডানা ছেঁটেছেন কয়েকজন মন্ত্রীর, তেমনই কয়েকজনকে আনুগত্যের পুরস্কার দিয়েছেন। আবার গোষ্ঠী রাজনীতিতে দীর্ণ দলে পারস্পরিক সম্পর্কের ভারসাম্যের অপরিবর্তন সুনিশ্চিত করেছেন। 

মোদ্দা কথায়— পাঁচ বছর সরকার এবং ১৯ বছর তৃণমূল চালানোর অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে মন্ত্রিসভা গড়েছেন মমতা। 
প্রসঙ্গত, এদিন মমতা জানিয়েছেন, চার পরাজিত মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, উপেন বিশ্বাস এবং শঙ্কর চক্রবর্তীকে তিনি সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘পুনর্বাসন’ দিচ্ছেন। প্রত্যেকেই তাঁদের বিগত মন্ত্রক সংক্রান্ত দায়িত্ব পাবেন। যেমন মণীশ বিদ্যুতে। চন্দ্রিমা আইনে। তবে মণীশকে ভবিষ্যতে কলকাতার মেয়র করতে চান মমতা। ফলে রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমে মণীশকে ‘আপাতত’ রাখছেন তিনি।  


বৃহস্পতিবারই প্রথম মন্ত্রিসভার ন’জনকে বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ মন্ত্রীদের ‘কড়া বার্তা’ দিয়েছিলেন মমতা। এদিন দফতর বণ্টনেও তাঁর ‘বার্তা’ রয়েছে। মন্ত্রিসভায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ শুভেন্দু অধিকারীকে পরিবহণ দিয়েছেন মমতা। দলীয় সূত্রের খবর, শুভেন্দুকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী করার অনুরোধ ছিল। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটের দিকে তাকিয়ে ওই দুই দফতরের দায়িত্ব ‘অভিজ্ঞ ও সফল’ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাম সরকারের ভূমি ও ভূমিসংস্কার দফতরের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাকের দফতর নিয়ে জল্পনা ছিল। অনেকের মতে, রেজ্জাককে ওই দফতরে দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তাঁকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যানপালন দফতরের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় স্তরের সদস্য করে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সদ্য তৃণমূলে যোগ-দেওয়া সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী পেয়েছেন জনশিক্ষা, গ্রন্থাগার ও পরিষদীয় দফতরের ‘স্বাধীন দায়িত্ব’।
শোভন চট্টোপাধ্যায়কে মেয়রের পাশাপাশি মন্ত্রী করায় মনে করা হয়েছিল ফিরহাদ হাকিমের ডানা ছাঁটা পড়বে। কিন্তু ফিরহাদ তাঁর পুরনো দফতর পুর-নগরোন্নয়নই পেয়েছেন। শোভনকে মমতা দিয়েছেন দমকল, আবাসন এবং পরিবেশ দফতর। নবান্ন সূত্রের খবর, গত পাঁচ বছর দমকলমন্ত্রী হিসাবে জাভেদ খানের কাজে খুব খুশি ছিলেন না মমতা। তাঁকে তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


অরূপ বিশ্বাসকে প্রথম মন্ত্রিসভায় আবাসন ও যুবকল্যাণমন্ত্রী করেছিলেন মমতা। পরে পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র সারদা-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ায় তাঁর ক্রীড়া এবং পরিবহণ দফতরের দায়িত্বও অরূপকে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার অরূপের থেকে আবাসন দফতর নিলেও মমতা তাঁকে দিয়েছেন পূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরে অরূপের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে ক্রিকেটার লক্ষ্ণীরতন শুক্লকে। 


পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সাধন পাণ্ডে, শশী পাঁজা, পূর্ণেন্দু বসু, বিনয় বর্মণ, চন্দ্রনাথ সিংহ, মলয় ঘটক, সৌমেন মহাপাত্র, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কয়েকজনের দফতর বদল হয়নি। দার্জিলিং জেলায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য শিলিগুড়ি পুরসভা এবং মহকুমা পরিষদ নির্বাচনে বামেদের কাছে তৃণমূলের পরাজয় মেনে নিতে পারেননি মমতা। ফলে গৌতম দেবের বদলে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দিয়েছেন। গৌতমকে দিয়েছেন পর্যটন দফতরের দায়িত্ব। 
অর্থ, আবগারি, শিল্প-বাণিজ্য এবং শিল্প পুনর্গঠন দফতরের দায়িত্ব মমতা দিয়েছেন তাঁর ‘বিশ্বস্ত’ অমিত মিত্রের হাতেই। তবে তাঁর কাজের ভার কিছুটা ‘হাল্কা’ করতে তাঁর অধীনস্থ তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের দায়িত্ব দিয়েছেন ব্রাত্য বসুকে। গত পাঁচ বছর ক্রেতাসুরক্ষামন্ত্রী সাধন পাণ্ডে এবং নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজার গোষ্ঠীলড়াই উদ্বেগ বাড়িয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁদের দফতর বদল না-করে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে দু’জনকে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে’র সুযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে শশীকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ‘বা়ড়তি দায়িত্ব’ দিয়ে সাধনকে ‘কড়া বার্তা’ দিয়েছেন। 
প্রথম মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের। এবার বিদ্যুতের মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দফতরের দায়িত্ব তাঁকে দিয়েছেন মমতা। কারামন্ত্রী হয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অবনীমোহন জোয়ারদার। হুগলিতে গোষ্ঠীবিবাদে লিপ্ত থাকার কারণে বেচারাম মান্না এবং রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে মন্ত্রিসভায় রাখেননি মমতা। ওই জেলা থেকে এবার মন্ত্রী হয়েছেন তপন দাশগুপ্ত, অসীমা পাত্র এবং ইন্দ্রনীল সেন।

 একনজরে দেখে নেওয়া যাক, মমতার মন্ত্রিসভায় কে কোন দফতর পাচ্ছেন—

পূর্ণমন্ত্রী—

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- স্বরাষ্ট্র, সংখ্যালঘু, পাহাড় বিষয়ক, স্বাস্থ্য, তথ্য সংস্কৃতি, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, কর্মিবর্গ, ক্ষুদ্র শিল্প

অমিত মিত্র- অর্থ, শিল্প বাণিজ্য, শিল্প পুনর্গঠন

ব্রাত্য বসু- তথ্যপ্রযুক্তি 

পার্থ চট্টোপাধ্যায়- স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা, পরিষদীয়

 সুব্রত মুখোপাধ্যায়- পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়- বিদ্যুৎ

অবনী জোয়ারদার- কারামন্ত্রী 

ফিরহাদ হাকিম- পুর ও নগরোন্নয়ন

অরূপ বিশ্বাস - পূর্ত, ক্রীড়া, যুবকল্যাণ

ইন্দ্রনীল সেন- তথ্য সংস্কৃতি দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী

জাভেদ খান- ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, সিভিল ডিফেন্স

আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, উদ্যান

গৌতম দেব- পর্যটন

 জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-  খাদ্য সরবরাহ

শুভেন্দু অধিকারী- পরিবহণ

বিনয় বর্মন- বন

শোভন চট্টোপাধ্যায়- দমকল, আবাসন, পরিবেশ

সাধন পাণ্ডে- ক্রেতা সুরক্ষা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী

পুর্ণেন্দু বসু- কৃষি

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর

অরূপ রায়- কো-অপারেশন

শান্তিরাম মাহাতো- পশ্চিমাঞ্চল

চন্দ্রনাথ সিংহ- মৎস

মলয় ঘটক- শ্রম এবং আইনমন্ত্রী

সৌমেন মহাপাত্র- জলসম্পদ

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়- সেচ ও জলপথ

চূড়ামণি মাহাত- অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন

প্রতিমন্ত্রী—

লক্ষ্মীরতন শুক্ল- ক্রীড়া দফতর, যুবকল্যাণ

স্বপন দেবনাথ- ক্ষুদ্র শিল্প, ভূমি এবং ভূমি সংস্কার

আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়- বায়ো  টেকনলজি, পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান

তপন দাশগুপ্ত- কৃষি বিপণন

জেমস কুজুর- আদিবাসী উন্নয়ন

আরও পড়ুন

আপাতত সরকারি কর্মীদের ১০% অন্তবর্তী বাড়তি অর্থ

Mamata Banerjee Chief Minister Ministers
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -