SEND FEEDBACK

English
Bengali

‘টিম দিদি’র অনুপস্থিতিতে ক্ষুণ্ণ মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। তবে ঝালহীন বাবুল

নিজস্ব সংবাদদাতা | অগস্ট ১৫, ২০১৬
Share it on
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যখন এ কথা বলছেন, তখন মঞ্চে উপস্থিত বাবুল। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে দিদি’র সরকারের সমালোচনার ভার নিজের কাঁধেই তুলে নেন তিনি। কিন্তু এদিন বাবুল প্রথমে কোনও মন্তব্যই করতে চাননি।

কেন্দ্রীয় সরকারের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রীদের গরহাজিরা নিয়ে পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রকাশ্যেই উষ্মা প্রকাশ করলেন। তুলনায় কিছুটা ‘নরম’ মনোভাব নিলেন ভারী শিল্পের প্রতিমন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়!
সারা দেশে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী ১০ কোটি পরিবারের কাছে এলপিজি সংযোগ পৌঁছে দিতে ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। রবিবার এ রাজ্যে ওই প্রকল্পের সূচনা উপলক্ষে শহরে এসেছিলেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের তরফে কেউ হাজির ছিলেন না। তাতেই ‘ক্ষুণ্ণ’ পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী নিজের বক্তৃতায় বলেন, ‘‘মোদীজি’র স্বপ্নপূরণে দিদি যদি আজ আমাদের সঙ্গে থাকতেন, তাহলে খুব ভাল হতো। তিনি নিজে আসতে না পারলেও, মন্ত্রিসভার দু’একজনকে পাঠিয়ে দিলেও ঠিক ছিল! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও প্রতিনিধি না থাকায় আমি কিছুটা হতাশ। রাজনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের গরিব মায়েরা খুশি হলে তা নিয়ে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়!’’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যখন এ কথা বলছেন, তখন মঞ্চে উপস্থিত বাবুল। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে দিদি’র সরকারের সমালোচনার ভার নিজের কাঁধেই তুলে নেন তিনি। কিন্তু এদিন বাবুল প্রথমে কোনও মন্তব্যই করতে চাননি। পরে তিনি বলেন, ‘‘হয়তো ওঁরা অন্য কাজে আটকে পড়েছেন। তবে এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে রাজ্যের একটা ভূমিকা থাকবে। আশা রাখি, ভবিষ্যতে ওঁদের সাহায্য পাব।” এই প্রতিক্রিয়া মোটেই বাবুলসুলভ নয় বলে মত রাজনীতির কারবারিদের। যার প্রেক্ষিতে বাবুলের বক্তব্য, ‘‘যা বলার ধর্মেন্দ্র’জি বলেছেন। এরপর আমি আর কী বলব!’’
কেন্দ্রের মঞ্চে রাজ্যের মন্ত্রীদের গরহাজিরার ঘটনা এই প্রথম নয়। অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্যের নজিরও খুব একটা নেই। এদিন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি অনুষ্ঠানে হাজির থাকার অনুরোধ করেছিলেন। রাজ্যের তরফে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। স্থানীয় বিধায়ক তথা বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং সাংসদ সুব্রত বক্সীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘‘আমন্ত্রণ জানানোর একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। আমাকে কোনও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি।’’ আর পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তবে এসবই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রের খবর, সম্প্রতি রেশনে কেরোসিনের বরাদ্দ কমানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির জবাব না আসায় সকলেই কেন্দ্রের অনুষ্ঠান এড়িয়ে গিয়েছেন।

Dharmendra Pradhan Babul Supriyo
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -