SEND FEEDBACK

English
Bengali

নতুন দফার শপথ, সমষ্টির অঙ্গীকার সফল হোক

সম্পাদকীয় | মে ২৭, ২০১৬
Share it on
প্রথম দফায় যাঁদের উপর ভরসা করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী, তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেননি বলে অভিযোগ। নানা কাণ্ড-কেলেংকারি-অনিয়মে তাঁরা জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁদের প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন। আশা করাই যায়, নতুন দফায় সেই সমস্ত মন্ত্রী দলনেত্রীর প্রতি মর্যাদা দেখাবেন।

বিপুল জনাদেশ মাথায় নিয়ে দ্বিতীয়বার সরকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উন্মুক্ত রেড রোডে শপথ নিল তাঁর মন্ত্রিসভা। রসিকজনে অবশ্য বলছেন, আসলে শপথ নিলেন একজনই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তৃণমূলনেত্রী বলেছিলেন, ২৯৪টি আসনে তিনিই প্রার্থী। বস্তুত, সরকারও যে তিনি একাই, গত পাঁচ বছরে তা বারংবার প্রমাণিত। শপথগ্রহণের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্ত এবং স্থিতধী ব্যক্তিত্বই ইঙ্গিত দেয়, তিনি একাই বিশল্যকরণীর খুঁটিনাটি জানেন। কিন্তু একাই পর্বত তোলপাড় করে আয়ুর্বেদীয় গুল্মের সন্ধান করতে বিস্তর বেলা বয়ে যায়। সময় এবং শক্তি বাঁচাতে তাই ভরসা করতেই হয় অন্যদের উপর। প্রথম দফায় যাঁদের উপর ভরসা করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী, তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেননি বলে অভিযোগ। নানা কাণ্ড-কেলেংকারি-অনিয়মে তাঁরা জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁদের প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন। 


আশা করাই যায়, নতুন দফায় সেই সমস্ত মন্ত্রী দলনেত্রীর প্রতি মর্যাদা দেখাবেন। নেত্রীর প্রতি মানুষের আস্থা নিজেরাও ভাগ করে নিতে পারবেন। পরবর্তী নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে তৃণমূলনেত্রীকে যেন আর বলতে না-হয় যে, সব আসনে তিনিই প্রার্থী। বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য। কারণ, গণতন্ত্র একক ব্যক্তিতে বিশ্বাস করে না, সমষ্টিতে বিশ্বাস করে। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও সমষ্টির মতামত গণতন্ত্রে জরুরি। তাতে বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা পায়। জরুরি আরও কয়েকটি বিষয়। শপথ-পর্বে অঙ্গীকার নেওয়া হয় যে, ভয় বা পক্ষপাত, অনুরাগ বা দ্বেষ রহিত হয়ে ন্যায়াচরণ করা হবে। অাশা করা যাক, নতুন মন্ত্রিসভা জনৈক কেষ্টবিষ্টুর মাথায় কতটা অক্সিজেন-সংবহন ঘটে, তা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। শপথে মন্ত্রগুপ্তির কথাও বলা হয়। আশা করা যায়, নতুন মন্ত্রিসভা আর জনসভা থেকে প্রশাসনিক নির্দেশ শোনাবে না, ধ্বনিভোটে রাজ্য পরিচালনার দিশা নির্ধারণ করবে না। এবং আশা করা নিশ্চয়ই অবান্তর হবে না যে, নতুন সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলির সুপারিশকে মান্যতা দেবে। 


দ্বিতীয় দফায় সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রীরা পেশাদারিত্ব দেখাতে না-পারলে দায়িত্ব বদলের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এমনই হওয়া শ্রেয়। এই মানসিক দৃঢ়তা বাস্তবে অনূদিত হলে রাজ্যের উপকার হবে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে শোভনসুন্দর হয়েছে। দেশের নানা রাজনৈতিক দলের এবং প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিত্বে অন্য মাত্রা পেয়েছে। একভাবে সম্মানিত হয়েছে বহুত্ববাদই। গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন শাসনকালের গোটা মেয়াদ জুড়ে সম্পাদন করা গেলে বাংলার রাজনীতি নতুন মাত্রা পাবে। বাংলার বিরোধীরা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। সে দুর্ভাগ্য বিরোধীদেরই। কিন্তু বিরোধীহীন গণতন্ত্র সুস্থ ব্যবস্থা নয়। বিরোধীস্বরের পরিসর অবাধ করা শাসকেরই কাজ। আশা, অঙ্গরাজ্যের শাসক এবং বিরোধী— দু’পক্ষের কাছ থেকেই প্রাপ্য মর্যাদা পাবে বৃহত্তম গণতন্ত্র।

Editorial Mamata Banerjee TMC Oath
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -