SEND FEEDBACK

English
Bengali

ইকবাল-মির্জার সঙ্গে ম্যাথুর আলাপ কীভাবে!

নিজস্ব সংবাদদাতা | জুলাই ২০, ২০১৬
Share it on
গোপন ক্যামেরা অভিযানের অসম্পাদিত ফুটেজে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছিল। অভিযানের সাফল্য প্রসঙ্গে ম্যাথু স্যামুয়েল নিজে একাধিকবার তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। তবুও নামটা নিয়ে এতদিন খুব একটা হইচই হয়নি। সোমবার নারদ-তদন্তে তৃণমূল বিধায়ক ইকবাল আহমেদকে জেরা করে সবার অলক্ষ্যে থাকা সেই তাজদার আলি মির্জাকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।

গোপন ক্যামেরা অভিযানের অসম্পাদিত ফুটেজে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছিল। অভিযানের সাফল্য প্রসঙ্গে ম্যাথু স্যামুয়েল নিজে একাধিকবার তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। তবুও নামটা নিয়ে এতদিন খুব একটা হইচই হয়নি। সোমবার নারদ-তদন্তে তৃণমূল বিধায়ক ইকবাল আহমেদকে জেরা করে সবার অলক্ষ্যে থাকা সেই তাজদার আলি মির্জাকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।
এই তাজদার আলি মির্জা’কেই একাধিকবার ‘টাইগার’ বলে পরিচয় দিয়েছেন ‘নারদনিউজ ডটকমে’র সিইও ম্যাথু। প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রের যে অসম্পাদিত ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছিল সেখানে ম্যাথুর সঙ্গী ছিলেন তাজদার। মদন তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, বর্ধমানের প্রাক্তন পুলিশ সুপার এস এম এইচ মির্জার খুড়তুতো ভাই তিনি। মুর্শিদাবাদে তাঁদের পাশাপাশি বাড়ি। আর যে সময়ের এই ফুটেজ তখন তিনি স্কুলশিক্ষা দফতরে কর্মরত। ফুটেজের সত্যতা অবশ্য যাচাই করেনি ‘এবেলা’।
 তাজদারের এই পরিচয়ই বলে দিচ্ছে মির্জা, ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে, আরেক মির্জাকে তলব করার কারণ কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। তাজদার ওরফে টাইগারকে তলবের খবর পেয়ে এদিন ম্যাথু যা বললেন, তা-ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
নারদ-কর্তা জানান, শহরে পৌঁছে অভিযানের কাজ শুরু করার জন্য একটি ট্যাক্সি ভাড়া করেছিলেন তিনি। দু’দিন উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরার পরে ট্যাক্সিচালক ম্যাথুর কাছে জানতে চান, তিনি কী খুঁজছেন? ম্যাথুর কথায়, ‘‘আমি বলি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড় মাপের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই।’’ নারদ-কর্তার দাবি, তিনি নির্দিষ্টভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম করেননি। 
প্রথমে অবশ্য সাফল্য আসেনি। ম্যাথুর কথায়, ‘‘ট্যাক্সিচালক আমাকে অনেক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। এরপর ওই চালক টাইগারকে ফোন করেন। সেই সময় টাইগার কলকাতায় ছিলেন না। ফোন করার একদিন পরে টাইগার কলকাতায় ফেরেন। ওঁর সঙ্গে আলাপ হওয়ার পরই লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগোতে থাকলাম।’’ তাজদারের সাহায্যেই প্রথমে খানাকুলের বিধায়ক তথা ডেপুটি মেয়র ইকবাল এবং তারপর মির্জার সঙ্গে যোগাযোগ হয় বলে জানিয়েছেন ম্যাথু। এর জন্য তাজদারকে প্রায় এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলে দাবি ম্যাথুর। একইসঙ্গে নারদ-কর্তা জানিয়েছেন, তাজদারের সঙ্গে কথোপকথনের পুরোটাই রেকর্ড করেছেন তিনি।
লালবাজার সূত্রের খবর, এদিন ইকবালও তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তাজদারই ম্যাথুর সঙ্গে তাঁর আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন। গোয়েন্দাদের তিনি বলেছেন, রাজনীতির সূত্রে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। তাঁদের উদ্দেশ্য যাচাই করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর তিনি বিস্মিত হন। ম্যাথুর সঙ্গে কতবার কথা হয়েছিল? কোথায় কোথায় ম্যাথুকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন, তা জানতে চাওয়া হলে ইকবাল তদন্তকারীদের বলেছেন, এতদিন আগের কথা তাঁর হুবহু মনে পড়ছে না। তবে যেটুক মনে পড়ছে তা সবই তিনি বলবেন।
এদিন লালবাজারে যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় পুরভবনে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ শলা পরামর্শ করেন ইকবাল। বিকেল ৫টা নাগাদ পৌঁছন লালবাজারে। প্রায় দু’ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইকবাল বলেন, ‘‘কী জন্য এসেছিল না এসেছিল, সত্যি কথা বলে এসেছি।’’ 
তবে টাকা নেওয়ার কথা কার্যত তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। ইকবালের কথায়, ‘‘নির্বাচনের সময় আমাদের ডোনেশন দেয় লোকে। কেউ বিরিয়ানি দেয়, অন্য কিছু দেয়। আমরা এটা নিয়ে থাকি।’’ এরই ফাঁকে অন্তর্ঘাতের অভিযোগও করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কথায়, ‘‘দলের সঙ্গে যে অন্তর্ঘাত করেছে নিশ্চয় তার শাস্তি হওয়া উচিত।’’ দলেরই কোনও লোক অন্তর্ঘাত করেছে? ইকবালের জবাব, ‘‘তদন্ত হচ্ছে তো। দেখা যাবে।’’

Iqbal Ahmed Mathew Samuels
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -