SEND FEEDBACK

English
Bengali

প্রতিশ্রুতি রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী। মমতার বিরুদ্ধে ‘নারদ’ অভিযোগ তৃণমূলেই। রইল ভিডিও

নিজস্ব প্রতিবেদন, এবেলা.ইন | মার্চ ১৭, ২০১৭
Share it on
যখন নারদ টিভির ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে তখন জাল বলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এর পরে দফায় দফায় বয়ান বদলায় তৃণমূল কংগ্রেস। বয়ান বদলান দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পর্বের মধ্যেই কার্যত ওই ফুটজকে সত্য বলে মেনে নেয় তৃণমূল।

বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে ২০১৬-র মার্চ মাসে যখন নারদ টিভির ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে তখন জাল বলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এর পরে দফায় দফায় বয়ান বদলায় তৃণমূল কংগ্রেস। বয়ান বদলান দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পর্বের মধ্যেই কার্যত ওই ফুটজকে সত্য বলে মেনে নেয় তৃণমূল। এক নজরে একবার দেখে নেওয়া যাক তৃণমূলের ভোল-বদল। মুখ্যমন্ত্রীর বয়ান-বদল।

মার্চ ১৪, ২০১৬ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)

‘রাজনৈতিক জীবনে আমাকে একাধিকবার প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল এবং এখন নানাভাবে তৃমমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারকে কলুষিত করার ষড়য়ন্ত্র চলছে’। সেইসঙ্গে আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি যতই চক্রান্ত করুক তাতে গোল্লা ছাড়া আর কিছুই জুটবে না।’ 

মার্চ ১৬, ২০১৬ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)

‘চ্যালেঞ্জ করে বলছি, বিদেশি টাকায় এই অপারেশনটার নাম করে একটা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে। যে লোকটিকে দিয়ে করানো হয়েছে, সেই ভদ্রলোক আগেও এরকম একটা করেছিলেন। তারপর তিনি নিজে গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে শুনেছি। সুতরাং তাঁর কোনও ক্রেডিবিলিটি নেই। এটা আদৌ সত্য ঘটনা কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। ঘটনাটা তো সাজানো! এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংযোগ আছে কি না, আমার সন্দেহ আছে। যদি ২০১৪’তেই যদি অপারেশনটা করে থাকে, তাহলে ২০১৬’য় এসে মনে হল কেন? এই দু’বছর কি ঘুমোচ্ছিলেন? জোচ্চুরি করা হচ্ছে। তদন্ত হোক না, টাকাটা কোথা থেকে এসেছিল? ফরেন মানি এতে যুক্ত আছে কি না? বিদেশি টাকা এখানে কোথা থেকে এল? কোথায় চলে গেছে এদের চিন্তাধারা! আমার মনে হয়, চিন্তাধারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। কী ক্রেডিবিলিটি আছে তৃণমূলকে প্রশ্ন করার? কত টাকার ডিল হয়েছে বলুন আগে? কারা ডিল করেছে? কোন রাজনৈতিক দল? সব খুঁজে বার করব! প্রত্যেকটা উত্তর আমরা দিয়ে দেব।’

এপ্রিল ৭, ২০১৬ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)

‘যদি কেউ কাউকে টাকা দিয়েছে কাজ করার জন্য, যে দিয়েছে সে-ও অন্যায় করেছে! সেগুলো তো আদৌ সত্য কি না, তদন্ত হওয়ার পরে দেখা যাবে। আপনারা আমায় বলুন, এক লক্ষ, দু’লক্ষ, ৫০ টাকা ছবিতে দেখাচ্ছে বলে খুব খারাপ! আর যারা চুরি করে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে, তাদের কী হবে!’

এপ্রিল ১৭, ২০১৬ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)

‘প্রার্থী ঘোষণার পর হঠাৎ করে একটি বেআইনি কোম্পানিকে এনে এই সব দেখানো হচ্ছে (নারদ-কাণ্ড)। আগে হলে আমি ভেবে দেখতাম। কিন্তু এখন প্রার্থী বদল সম্ভব নয়। সব তদন্ত হচ্ছে, তারপরই সব বোঝা যাবে।’

এপ্রিল ২১, ২০১৬ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)
‘আমি রাস্তা দিয়ে আসছি, শুনছি সিপিএম বলছে, নারদের টাকা কোথায় গেল কাকলি ঘোষ দস্তিদার জবাব দাও। কাকলি ঘোষ দস্তিদার না ওরকম ৫০টা নারদ কিনে নিতে পারে! ওদের ওই সব টাকা দিয়ে এই সব করতে হয় না!’

এপ্রিল ২২, ২০১৬ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)

‘একটা সংসারে যদি ২০ জন লোক থাকে, একটা মায়ের পক্ষে ২০ জনকে সামলানো নাও সম্ভব হতে পারে। তাই বলে সংসারটা খারাপ এটা আমি বিশ্বাস করি না।’ এখানেই না থেমে মমতা বলেন, একজন দু’জন দুষ্টু থাকতেই পারে তা বলে এটা বলা যাবে না যে তৃণমূল দলটাই খারাপ দল।’

এপ্রিল ২৬, ২০১৬ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)

‘যদি মনে করেন আমি চোর, ভোট দেবেন না! চাই না! মানুষ না চাইলে থাকব না!’

ভোট যত এগিয়েছে ততই নারদ-কাণ্ড নিয়ে ‘সত্য’ মানার পথে এগিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমে ‘জাল ভিডিও’ থেকে ‘অনুদান তত্ব’ হয়ে শেষে বলা হয় ‘দুষ্টু ছেলে’-দের কাজ। 

ভোটের আগে তৃণমূলনেত্রীর বক্তব্যে মনে হয়েছিল, ভোটে জেতার পর সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। মনে করা হয়েছিল ঠিকঠাক তদন্ত করে দোষীদের সাজা দেবে দল। কমপক্ষে নিন্দা বা সতর্ক করবেন তৃণমূলনেত্রী। কিন্তু তার কোনওটাই হয়নি। 

তদন্ত হলেও সেটা ছিল নিছকই নাম কা ওয়াস্তে। মুখে শাস্তির প্রতিশ্রুতি না দিলেও নির্বাচনী জনসভায় এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মমতা।

কিন্তু সরকার গঠনের পরে দেখা যায় শাস্তি অনেক দূর, উল্টে অভিযুক্তরা পুরস্কৃত হয়েছেন। তৃণমূলনেত্রী যুক্তি দিয়েছিলেন, যাঁরা নির্বাচনে জিতেছেন তাঁদের তো সাধারণ মানুষই ক্ষমা করে দিয়েছে। সেই সময়েই দলের এই অবস্থান নিয়ে অনেক তৃণমূল নেতা আড়ালে সমালোচনা করেছেন।

নারদকাণ্ডে অভিযুক্ত কলকাতার মেয়রকে মন্ত্রিত্বের পুরস্কার নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন অনেকে। এখন নারদ তদন্ত সিবিআই-এর হাতে যাওয়ার পরে নতুন সঙ্কটে তৃণমূল। আর এই সঙ্কট নিয়ে অস্বস্তিতে তৃণমূলের ‘স্বচ্ছ’ নেতারা। শুক্রবার আদালতের রায় জানার পরে তাঁদেরই এক জনের বক্তব্য— ‘আদালতের বিরুদ্ধে তো কিছু বলা যাবে না। তদন্ত হবেই। কিন্তু দল যদি আগেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিত তবে ভাবমূর্তিতে আঘাত লাগত না। এখন একই সঙ্গে সিবিআই ও ভাবমূর্তি সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হবে।

দেখে নিন ভিডিও। শুনুন নারদকাণ্ড নিয়ে বিধানসভা ভোটের শেষ পর্বে ঠিক কী বলেছিলেন মমতা— 

Narada TMC Mamata Banerjee
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -