SEND FEEDBACK

English
Bengali

শিশু উদ্যানের স্বপ্নভঙ্গ, কাউন্সিলরের ভূমিকায় ‘ক্ষুব্ধ’ স্থানীয় বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা | জানুয়ারি ১২, ২০১৭
Share it on
ইতিমধ্যে পুর নির্বাচনে অহিনের জায়গায় কাউন্সিলর হন তৃণমূলের মুনমুন চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, এরপর শিশু উদ্যানের প্রস্তাব নিয়ে আর নাড়াচাড়া হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যে, ওই জমিতে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সেই কাজ এগোচ্ছে দ্রুত। নির্মাণের কাজ মসৃণ করতে পুরসভার পাম্পঘরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কী করে সম্ভব?

কথা হয়েছিল একটা শিশু উদ্যান হবে। কিন্তু সেই প্রস্তাব এখন প্রোমোটারের গ্রাসে!
দক্ষিণ দমদমের বর্মণপাড়ায় দু’কাঠা জমিটা দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ফাঁকাই পড়ে ছিল। শুধু পুরসভার একটা পাম্পঘর ছিল। ‘পরিত্যক্ত’ ওই জমিতে অনেকদিন আগে একটা শিশু উদ্যান করার প্রস্তাব দেন সংশ্লিষ্ট ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর অহিন মজুমদার। স্থানীয় সূত্রের খবর, সেইমতো জমি ঘেরার কাজ শুরু হওয়ার পর পাইকপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, তিনি ওই জমির মালিক। ব্যক্তিগত জমিতে পুরসভা কীভাবে শিশু উদ্যান গড়বে সেই প্রশ্ন উঠলে পিছিয়ে আসেন অহিন। এরপর স্থানীয় ক্লাবের সদস্যেরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন, শিশু উদ্যানের জন্য জমিটি কিনে নেওয়া হবে। জমির মালিক রাজিও হন।  

ইতিমধ্যে পুর নির্বাচনে অহিনের জায়গায় কাউন্সিলর হন তৃণমূলের মুনমুন চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, এরপর শিশু উদ্যানের প্রস্তাব নিয়ে আর নাড়াচাড়া হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যে, ওই জমিতে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সেই কাজ এগোচ্ছে দ্রুত। নির্মাণের কাজ মসৃণ করতে পুরসভার পাম্পঘরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কী করে সম্ভব? বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাটবাড়ির অন্যতম প্রোমোটার সুশান্ত সরকার ও সুকেশ মণ্ডল কাউন্সিলর মুনমুনের ‘ঘনিষ্ঠ’। 
মুনমুনের বক্তব্য, অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনেছেন বলে শুনেছি। আমি কাউন্সিলর হওয়ার আগেই তাঁরা নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছেন।’’ কিন্তু উদ্যানের প্রস্তাবকে বাস্তবায়িত করার জন্য পুরপ্রতিনিধি হিসাবে তিনি কেন সক্রিয় হলেন না? মুনমুনের জবাব, ‘‘শিশু উদ্যানের প্রস্তাব সংক্রান্ত কী কাগজপত্র রয়েছে তা দেখানোর জন্য এলাকাবাসীকে বলেছিলাম। ওঁরা তা দেখাতে পারেননি। তাই আমিও কোনও পদক্ষেপ করিনি। আর ফ্ল্যাটবাড়ির অনুমোদনে আমার কোনও ভূমিকা নেই। কাকে দিয়ে প্ল্যান অনুমোদন করানো হয়েছে তা জানি না।’’ আর প্রোমোটার সুশান্তের বক্তব্য, ‘‘দীর্ঘদিন সময় পেয়েও পাড়ার লোকেরা জমি কেনার টাকা জোগাড় করতে পারেননি। আমরাই জমিটা কিনে নিই। এর মধ্যে অন্যায় কোথায়!’’ 

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান পাচু রায়ের বক্তব্য, ‘‘ব্যক্তিগত জমিতে পুরসভা কীভাবে হস্তক্ষেপ করবে? তাছাড়া পাম্পহাউসের অনুমোদন সংক্রান্ত কোনও নথি পুরসভার কাছে নেই।’’ ওখানে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নির্মাণকাজের জন্য পুরসভা কোনও অনুমোদন দেয়নি বলেই জানি।’’

TMC Councillor
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -