SEND FEEDBACK

English
Bengali

অন্তর্ঘাত নিয়ে কঠোর মমতা। প্রশ্নের মুখে গৌতম ও শুভেন্দু

নিজস্ব সংবাদদাতা | মে ২১, ২০১৬
Share it on
মুখ্যমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় ইনিংসে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অন্তর্ঘাত মোকাবিলায় ‘কঠোর’ হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে দুই প্রথমসারির নেতাকে সেই ‘বার্তা’ই দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় ইনিংসে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অন্তর্ঘাত মোকাবিলায় ‘কঠোর’ হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে দুই প্রথমসারির নেতাকে সেই ‘বার্তা’ই দিয়েছেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুরে হাতছাড়া তিনটি আসনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে দলনেত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে। আর শিলিগুড়িতে সিপিএমের সঙ্গে দলের ‘যোগসাজশে’র অভিযোগ নিয়ে নেত্রীর কোপে পড়তে হয়েছে গৌতম দেবকে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্যই পরাজিত মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর নাম করেও বৈঠকে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তৃণমূলনেত্রী।    
ফল প্রকাশের পরদিন, শুক্রবারের দলীয় বৈঠকে ওই দুই সমস্যা নিয়ে নিজের ‘অবস্থান’ স্পষ্ট করেছেন তৃণমূলনেত্রী। বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও শাসকদলের সাফল্যে এবার কাঁটা হয়ে ফুটেছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। পরিস্থিতি এতটাই জটিল, যে নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রথম বৈঠকেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টির উল্লেখ করেছেন মমতা। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ‘অন্তর্ঘাতে’র জন্য আসন হারিয়েছে তৃণমূল। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া-পূর্ব, হলদিয়া ও তমলুক আসন হাতছাড়া হওয়ার জন্য একবাক্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই দায়ী করছে তৃণমূল। তার মধ্যে একটি আসনে শুভেন্দুর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বাকি দু’টি আসনের জন্য অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে। এদিনের বৈঠকে শুভেন্দুর কাছে এই তিনটি আসনে হার নিয়ে জানতে চান মমতা। নেত্রীর প্রশ্নের মুখে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু। তবে তমলুকে নির্বেদ রায়ের হারের জন্য মূলত দায়ী করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন দাস মহাপাত্রকে।  
কিন্তু শিলিগুড়ি নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন নেত্রী নিজেই। গৌতমের উপস্থিতিতেই মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, শিলিগুড়িতে দলের একাংশ সিপিএমের সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ করে চলছে। এভাবে চললে ফল খারাপ হতে বাধ্য। তাই সেখানকার জন্য ‘প্রয়োজনীয়’ ব্যবস্থা তিনি নিজেই করবেন। বস্তুত, মমতা জানিয়েছেন, এবার থেকে তিনি দলে বেশি সময় দেবেন। মাসে একবার করে কলকাতার বাইরে সফরে যাবেন। 
বিপুল সাফল্য পেলেও গোষ্ঠীলড়াইয়ের কারণে মালদহে খাতাই খুলতে পারেনি তৃণমূল। ধারাবাহিকভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িত জেলার দুই মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু ও সাবিত্রী মিত্র হেরেছেন। সেই প্রসঙ্গেই কৃষ্ণেন্দুর নাম উল্লেখ করে মমতা জানিয়ে দেন, মালদহের সংগঠনের জন্য তিনি শীর্ষনেতাদের মধ্যে কাউকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। নেত্রীর সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এক নেতা-বিধায়ক বলেন, ‘‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে যেখানে ক্ষতি হয়েছে, সেখানে নেত্রী কড়া ব্যবস্থা নেবেন। কাউকে রেয়াত করবেন না।’’ 
দক্ষিণ দিনাজপুরে হেরেছেন দলের দীর্ঘদিনের নেতা তথা বিগত সরকারের মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে জেলা দলের নেতা বিপ্লব মিত্রের গোষ্ঠীর বিরোধ একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা জনিত সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন সেই গোষ্ঠীবাজি নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মমতা। বৈঠকে জানিয়েছেন, ওই কারণেই কয়েকটি পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ পদাধিকারী বদল করবেন। মমতার ওই মনোভাবের ‘ছায়া’ এবারের মন্ত্রিসভায় পড়তে পারে বলেও মনে করছেন দলের একাংশ। তাঁদের ধারণা, যে কোনও ধরনের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেই এবার মমতা ‘ছাঁকনি’ ব্যবহার করবেন। দলনেত্রীর সেই মনোভাব বুঝেই নতুন নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা বুঝিয়ে বৈঠকে মমতা জানান, এসব নিয়ে পরে ‘পর্যালোচনা’ করবেন তিনি।
নতুন বিধায়কদের ‘করণীয়’ সম্পর্কেও সতর্ক করে দিয়েছেন মমতা। সারা বছর জনসংযোগ বজায় রাখতে বলেছেন। বিধায়ক হওয়ার পরেই কেউ যেন নিজেকে ‘বাবু’ ভেবে না বসেন, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ‘সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা’র পরমার্শ দিয়ে মমতা জানান, নিজের ইচ্ছেমতো ফোন বন্ধ করে দেওয়া চলবে না। জেতার পরে বিধায়কদের আচরণে বিশেষত ওই পরিবর্তন হওয়ায় এবারে অনেকে হেরে গিয়েছেন। মালদহ ও দার্জিলিং জেলা থেকে এবার কোনও আসন পায়নি তৃণমূল। দার্জিলিং জেলায় প্রচুর সরকারি কাজ করার পরেও এই ফলাফলে হতাশ দল। যে প্রসঙ্গে মমতা জানান, সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক পদক্ষেপ করবেন তিনি।
শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যেরাও শপথ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ‘নতুন মুখ’ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। উত্তর ২৪ পরগনায় দলের তিন মন্ত্রী হেরে গিয়েছেন। ওই জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আসতে পারে। হেরে গিয়েছেন বিদ্যুত্ ও পূর্তমন্ত্রীও। সেখানেও নতুন মুখ আনতে হবে। দলের একটি সূত্রের খবর, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতর হাতবদল হতে পারে।
প্রত্যাশিতভাবেই বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার নাম চূড়ান্ত হয়েছে। দলের সহ-সভাপতি মুকুল রায় ওই পদে মমতার নাম প্রস্তাব করেন। দু’হাত তুলে সমর্থন করেন বিধায়কেরা। তার পরেই অবশ্য নতুন বিধায়কদের ঈষৎ অবাক করেই মুকুল জানতে চান, অন্য কোনও নাম এই পদের দাবিদার হিসাবে আছে কি? কোনও হাত ওঠেনি। 

Mamata Banerjee Goutam Deb Shuvendu Adhikari
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -