SEND FEEDBACK

English
Bengali

তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ দিতে ‘সঙ্ঘ’ টোটকা অমিতের। রাজ্য বিজেপি-তে বদল শীঘ্রই

পিনাকপাণি ঘোষ, এবেলা.ইন | মার্চ ২০, ২০১৭
Share it on
আরএসএস মডেলে রাজ্য বিজেপির সংগঠনকে মজবুত করার লক্ষ্য নিলেন অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্বকে।

উত্তর বিজয়ের পরে এবার দেশের যে সব রাজ্যে এখনও গেরুয়া ঝড় ওঠেনি সেখানেও ‘উত্তর’-এর পথে হাঁটতে চান বিজেপি সভাপতি। ইতিমধ্যেই তাঁর পরিকল্পনা তৈরি হয়ে গিয়েছে। এবার সরাসরি আরএসএস-এর কায়দায় দলের বিস্তার চাইছেন অমিত শাহ। আর তেমন সংগঠন গড়ে তুলতে সব রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বাংলার নেতৃত্বকেও তলব করেছেন বিজেপি সভাপতি।

আরও পড়ুন... 

এবার লক্ষ্য বাংলা। উত্তরপ্রদেশ মডেলে ৫ পদক্ষেপ, আসছেন অমিত শাহ 

দুর্নীতিবাজরা চিন্তিত হবেন। মমতা চিন্তিত কেন? প্রশ্ন তুললেন অমিত

কেমন সংগঠন চাইছেন অমিত? বিজেপি সূত্রের খবর, আর পূর্ণকালীন কার্যকর্তা নিয়োগ করবে না দল। তার বদলে আরএসএস-এর কায়দায় গ্রামে গ্রামে ‘বিস্তারক’ পাঠাবে। এক একজনের দায়িত্বে থাকবে তিনটি করে বুথ।

বিস্তারক কী? রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ গোটা দেশে ‘বিস্তারক’-এর মাধ্যমেই সংগঠনের বিস্তার করে। আরএসএস-এ যারা পুরোপুরি সংগঠনের জন্য ঘর, সংসার ছেড়ে কাজ করেন তাদের বলা হয় ‘প্রচারক।’ আর সংগঠনের যুবক সদস্যরা ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য সংগঠনের কাজে বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় থেকে কাজ করেন। যে যার নিজের সুবিধা মতো সময় সংগঠনের জন্য দিয়ে থাকে। এদেরই বলা হয় ‘বিস্তারক।’ এর জন্য সংগঠনের পক্ষে কোনও টাকা পয়সা দেওয়া হয় না। নিজের খরচেই সব করতে হয়। যে এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয় সেখানে সংগঠনের ঘনিষ্ঠ কোনও বাড়িতে থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা হয়। আরএসএস-এর এই পদ্ধতিই এবার বিজেপিতে প্রয়োগ করতে চান অমিত শাহ। তাঁর প্রশ্ন, সঙ্ঘ যদি পেরে থাকে তবে বিজেপি পারবে না কেন? উত্তরপ্রদেশে এই পদ্ধতি কাজে দেওয়ার পরেই তা সব রাজ্য প্রয়োগ করতে চাইছেন অমিত।

এখন রাজ্য বিজেপিতে যে পদ্ধতি রয়েছে তাতে কয়েকজন পূর্ণকালীন কার্যকর্তা রয়েছেন। এদের দল মাসে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা করে দেয়। আগামী দিনে এমন নিয়োগ আর বিশেষ হবে না। তবে কিছু দিনের মধ্যেই এক বছরের জন্য সংগঠনের ‘বিস্তারক’ বের হচ্ছেন ৫০ জন কর্মী। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮৮ জনের নামের তালিকা এসেছিল। প্রশিক্ষণের পরে এর মধ্যে ৫০ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। এবার প্রতিটি জেলা থেকে ১৫ দিনের ‘বিস্তারক’ নেওয়া হবে। আপাতত ছ’হাজার ‘বিস্তারক’ নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য বিজেপি। জেলায় জেলায় সেই তালিকা তৈরি হচ্ছে। কী ভাবে এই ‘বিস্তারক’রা কাজ করবেন তার প্রাথমিক পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এ বিষয়ে বৈঠক ডেকেছেন অমিত শাহ। আরও অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে সেখানে আলোচনা হলেও ‘বিস্তারক’ নিয়োগ বেশি গুরুত্ব পাবে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এ নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘সংগঠন বাড়াতে নানা রকম পরিকল্পনাই চলছে। গ্রামে গ্রামে কর্মীদের পাঠানো হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্য ও জেলা নেতাদের এলাকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে থেকে সংগঠনের কাজ করতে বলা হয়েছে। সেই মতো কাজ চলছে। আমি নিজেও জেলায় জেলায় ঘুরছি। কর্মীদের সঙ্গে দরকারে আমিও গ্রামে থেকে কাজ করব।’

বিজেপি সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষ নিজে আরএসএস-এর প্রাক্তন প্রচারক হলেও এই ‘বিস্তারক’ নিয়োগ এবং পরিচালনার বিষয়টি দেখবেন রাজ্য বিজেপিতে দায়িত্বে থাকা সঙ্ঘ প্রচারক তথা সহকারী সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। তিনিই অমিত শাহর বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। 

বিজেপি সূত্রের খবর, নিঃশব্দে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে আরএসএস-এর পদ্ধতি অনুসরণ করাই লক্ষ্য। এ কারণেই সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মতো পুরনো সঙ্ঘ প্রচারককে বিজেপির ‘বিস্তারক’ কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্য আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গে বোঝাপড়াও সহজ হবে। 

এপ্রিল মাসের শেষ দিকে অথবা মে মাসের গোড়ায় দু’দিনের জন্য রাজ্যে আসবেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সেই সময়ে ‘বিস্তারক’দের নিয়ে আলাদা বৈঠকও করতে পারেন তিনি। সামনেই বেশ কয়েকটি পুরসভায় নির্বাচন রয়েছে রাজ্যে। এর পরে ২০১৮ সালেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট। পর পর নির্বাচন রয়েছে। তার মধ্যে টানা ‘বিস্তারক’ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চায় বিজেপি। ধাপে ধাপে সংগঠন মজবুত করে প্রথমে লোকসভা ও পরে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানানোই লক্ষ্য। 

উত্তর প্রদেশে ঐতিহাসিক জয়ের পর কী বলেছিলেন অমিত শাহ, দেখুন ভিডিও স্টোরি

BJP Amit Shah
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -