SEND FEEDBACK

English
Bengali

নারদ-কাণ্ডে এফআইআর দায়ের মেয়র শোভনের স্ত্রীয়ের

জয়ন্ত মজুমদার | জুন ২০, ২০১৬
Share it on
নিউ মার্কেট থানায় নারদ-কাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে ‘অজ্ঞাতপরিচয়ে’র বিরুদ্ধে ‘জনৈক ব্যক্তি’ যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা রবিবারের কাগজেই লিখেছিল ‘এবেলা’। এদিন তাঁর পরিচয় জানা গেল। ওই ‘জনৈক’ হলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়।

নিউ মার্কেট থানায় নারদ-কাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে ‘অজ্ঞাতপরিচয়ে’র বিরুদ্ধে ‘জনৈক ব্যক্তি’ যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা রবিবারের কাগজেই লিখেছিল ‘এবেলা’। এদিন তাঁর পরিচয় জানা গেল। ওই ‘জনৈক’ হলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়।
লিখিত অভিযোগে সরাসরি ‘নারদনিউজ ডটকমে’র সিইও ম্যাথু স্যামুয়েল বা তাঁর সংস্থার নাম করা হয়নি। ‘অজ্ঞাতপরিচয়ে’র বিরুদ্ধেই এফআইআর করা হয়েছে। গত ১৪ মার্চ গোপন ক্যামেরা অভিযানের প্রথম ফুটেজ প্রকাশ করেন নারদ-কর্ণধার। সূত্রের খবর, জালিয়াতি করে সম্মানহানি এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মেয়র-পত্নী তাঁর বয়ানে লিখেছেন, ওই দিন থেকে শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর স্বামী-সহ তৃণমূলের বিভিন্ন সাংসদ-মন্ত্রীরা ঘুষ নিচ্ছেন বলে দেখানো হয়েছে। এতে তাঁর স্বামী এবং অন্য অভিযুক্তদের সম্মানহানি হয়েছে। ফুটেজে বলা হয়েছে, গোপন ক্যামেরা অভিযানটি ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগের। সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগে রত্নার বক্তব্য, ২০১৪ সালের আগের ভিডিও কেন দু’বছর পর বিধানসভা ভোটের সময় প্রকাশ করা হল? যার প্রেক্ষিতে ফুটেজ প্রকাশের সঙ্গে ‘ব্ল্যাকমেলে’র সম্পর্ক থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়র-পত্নী।
প্রসঙ্গত, ফুটেজ প্রকাশের সময়টি যে তদন্তের অন্যতম বিষয় তা এদিনের ‘এবেলা’র প্রথম পাতার খবরে লেখা হয়েছে। আর ‘ব্ল্যাকমেলিং’য়ের অভিযোগ তো শনিবার নেতাজি ইন্ডোরের কর্মশালার মঞ্চ থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই করেছেন। রাজনীতির কারবারিদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের যে অভিমুখ ঠিক করে দিয়েছেন, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই অভিযোগপত্রের বয়ান তৈরি করা হয়েছে। সেই বয়ানের ভিত্তিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের নেতৃত্বে তদন্ত করবে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আর্থিক অপরাধদমন শাখা। 
সূত্রের খবর, মেয়র-পত্নী তাঁর লিখিত অভিযোগে লিখেছেন, ‘কোন সংস্থা এই ষড়যন্ত্র করেছে তাদের খুঁজে বার করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক’। আর সেই অভিযোগ সম্পর্কে ম্যাথুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রই বটে! আমাকে গ্রেফতার করার জন্য এসব করা হচ্ছে। উনি (মুখ্যমন্ত্রী) আমাকে শেষ করে দিতে চাইছেন।’’ লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরে নারদ-সিইও’কে যে কোনও দিন লালবাজারে ডাকা হতে পারে। যার প্রেক্ষিতে এদিন ম্যাথু বলেন, ‘‘সুবিচারের জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। আমার আইনজীবীদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি।’’ কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের আগেই যদি তলব চলে আসে? শনিবারের জবাবই এক্ষেত্রে বহাল রেখেছেন ম্যাথু। তিনি এখন বিদেশে।
এরই মধ্যে এদিন আবার ম্যাথুকে কটাক্ষ করেছেন সারদা-কাণ্ডে জেলবন্দি তথা ঘুষ-কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। তদন্তের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে মদন বলেন, ‘‘এই ম্যাথু না কী নাম, এই লোকটা কে আমি জানি না। আমি দেখে যাচ্ছি, মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির পাল্টা বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। স্টিং অপারেশনের একটা কোম্পানি কি রেজিস্টার্ড পলিটিক্যাল পার্টি। তিনি কি ভোটে দাঁড়াবেন! রাজ্যসভায় যাবেন!’’ 
মদনের নিশানায় যখন ম্যাথু তখন বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন। শনিবার নেতাজি ইন্ডোরে নারদ-অভিযুক্ত ভাইদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বলেছিলেন, ‘‘শুভেন্দু-ফিরহাদ কি খেতে পায় না যে ওদের টাকা নিতে হবে।’’ যার প্রেক্ষিতে এদিন দিলীপ বলেন, ‘‘গরিব মানুষ মাত্রই কি চুরি করে? বাংলার মানুষকে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?’’

 

মন্ত্রী শোভনের দৌলতে জোরদার হচ্ছে পুরসভার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

দেবাশিস ঘড়াই :

তিনি এখন আর শুধুই মেয়র নন। রাজ্য সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রীও বটে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রী হওয়ার দৌলতে এবার কলকাতা পুরসভার নিরাপত্তার ফাঁকফোকর বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। প্রায় সাড়ে তিন বছর পরে পুরসভার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য নতুন করে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এমনকী, কেন্দ্রীয় পুরভবনের নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হতেপারে বলেও সূত্রের খবর। 
কেন্দ্রীয় পুরভবন-সহ বিভিন্ন বরো অফিস, পার্ক, পাম্পিং স্টেশনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলানোর জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। প্রধানত চারটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে পুরসভা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়োগ করেছে। তাঁদের মাইনে এবং অন্য খরচ বাবদ প্রত্যেক বছর পুরসভার ব্যয় হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। কিন্তু এ সত্ত্বেও পুরসভার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর রয়েছে বলে একাধিকবার সরব হয়েছিল পুর প্রশাসনেরই একাংশ।
অতীতে বেশ কয়েকবার নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে পুরকর্মীদেরই মোটরবাইক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকী, নিরাপত্তারক্ষীদের চোখের সামনেই পুরসভার বিভিন্ন পরিষেবার সুবিধা পাইয়ে দিতে দালালচক্র সক্রিয় বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে পুর কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর বলেই জানাচ্ছেন পুর আধিকারিকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, শোভন মন্ত্রী হওয়ার পরে ছোট লালবাড়ির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এক পুর আধিকারিকের কথায়, ‘‘মেয়রের কল্যাণে পুরসভার গুরুত্ব বেড়েছে! তাই নিরাপত্তাও সে রকমই হওয়া দরকার।’’ যদিও শোভনের মন্ত্রী হওয়ার সঙ্গে দরপত্র ডাকার ঘটনার কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ। পুরসভার এক পদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘‘নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করার জন্য নতুনভাবে দরপত্র ডাকা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রী হওয়ার সঙ্গে এই দরপত্র ডাকার কোনও সম্পর্ক নেই। অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’’
পুর প্রশাসনের একাংশের অভিযোগ, কোনও কাউন্সিলর বা রাজনৈতিক দাদার ‘সুপারিশ’ মেনেই পুরসভায় বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়। এর ফলে কিছু বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তাঁদের ছাঁটাই করতে পারেননি পুর কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন বিভাগে কত উদ্বৃত্ত নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন, তা নির্ধারণের জন্য একসময় ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ও তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পুরসভা। তা-ও বাস্তবায়িত হয়নি। পুর প্রশাসনের ওই অংশের বক্তব্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হলে আগে এই ‘পুরনো রোগ’ সারাতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

 

Ratna Chatterjee Sovon Chatterjee Narada Mathew Samuels
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -