SEND FEEDBACK

English
Bengali

রাজনীতি ‘নাজাউম নাজাউম’। হেরে ফেসবুকে পোস্ট সৌমিত্রের

নিজস্ব সংবাদদাতা | মে ২৩, ২০১৬
Share it on
শুধু চাঁচল বলে নয়, সারা মালদহ জুড়েই পরিস্থিতি একইরকম বলে জানিয়েছেন সৌমিত্র। ঠিকই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে ইংরেজবাজারে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং মানিকচকে যে সাবিত্রী মিত্রকে হারতে হয়েছে, সে কথা তো দলীয় বৈঠকেই জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

রাজনীতিতে আর থাকতে চান না ‘পচা কাকা’! নিজেই ফেসবুকে সে কথা জানিয়েছেন মালদহের চাঁচলের পরাজিত তৃণমূলপ্রার্থী তথা গায়ক সৌমিত্র রায়।
গত বৃহস্পতিবার ফলপ্রকাশের রাতেই ফেসবুকে সৌমিত্র লিখেছেন, ‘আর রাজনীতি নয়... মানুষের পাশে আমি সর্বদা থাকব। তবে তার জন্য প্রার্থী হব না’। বিপুল জয়ের আনন্দে যেদিন সারা বাংলা জুড়ে সবুজ আবির মেখে উল্লসিত তৃণমূলকর্মী-সমর্থকেরা সেদিন রাতেই ফেসবুকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্নেহধন্য’ সৌমিত্রের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। 

তবে সেই ‘পোস্টে’র তিনদিন পরে বিধিসম্মত সতর্কীকরণও রয়েছে। রবিবার ‘এবেলা’কে সৌমিত্র বলেন, ‘‘হারার পরে ওটাই মনে হয়েছিল। একপ্রকার হতাশা থেকে লিখেছিলাম। তবে দিদি যদি আমাকে কোনও দায়িত্ব দেন, না করতে পারব না।’’ যদি প্রার্থী হতে বলেন? সৌমিত্রের জবাব, ‘‘প্রার্থী হোক, যা-ই হোক, যে কোনও দায়িত্ব।’’

চাঁচলে তৃণমূলপ্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের আসিফ মেহবুব। কংগ্রেসপ্রার্থীর কাছে ৫২ হাজার ৩৬৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন সৌমিত্র। এই ফল তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী। আর তা থেকেই ‘হতাশা’। তাঁর কথায়, ‘‘প্রচারের সময় রাত ১০টা বেজে গেলেও কাতারে কাতারে লোক বেরিয়ে আসছেন। জয় নিশ্চিত সেরকম একটা ব্যাপার। কিন্তু তোমার টিমই যদি হারায় তাহলে কী হবে! যে সব বুথে আমাদের প্রচুর ভোট হওয়ার কথা, সেখানে ১০০ ভোটও পড়েনি! এ সব মিলিয়েই হতাশ।’’

শুধু চাঁচল বলে নয়, সারা মালদহ জুড়েই পরিস্থিতি একইরকম বলে জানিয়েছেন সৌমিত্র। ঠিকই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে ইংরেজবাজারে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং মানিকচকে যে সাবিত্রী মিত্রকে হারতে হয়েছে, সে কথা তো দলীয় বৈঠকেই জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। দলের অন্দরের খবর, তারকা প্রার্থীর ‘হতাশা’র পিছনেও কৃষ্ণেন্দুর ভূমিকা রয়েছে। এদিন সৌমিত্র বলেন, ‘‘সকলকে এক করে বললাম, দিদি তোমাদের জন্য এত করছেন, আর তোমরা একসঙ্গে চা খেতে পারছ না। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবার একে অপরের পিছনে কথা বলতে শুরু করল।’’ 
এসব কারণেই আর প্রার্থী হতে চান না সৌমিত্র। ফলঘোষণার পরে ব্যর্থতার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে নেত্রীকে টেক্সট মেসেজ করেছিলেন গায়ক-প্রার্থী। যার প্রেক্ষিতে মন খারাপ না করার পরামর্শ দিয়েছেন দলনেত্রী। জুগিয়েছেন উৎসাহ। এই ক’দিনে ফেসবুকে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অনেকেই অনেক কথা লিখেছেন। এদিন তার মধ্যে

বিশেষ একটি মন্তব্যের কথা উল্লেখ করলেন। সৌমিত্র বলেন, ‘‘এই মাত্র একজন কমেন্ট করেছে, দাদা তুমি ছেড়ে দিলে কী হবে, দিদি তোমাকে ছাড়বে না!’’
মাছ ধরার জন্য ডানহাতে পুকুরে ছিপ ফেলে বসে আছেন। বাঁহাত থুতনির নীচে। চিন্তামগ্ন— ফেসবুকে এমনই একটি ছবি ‘পোস্ট’ করে তার উপরে দু’লাইনে রাজনীতি ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন সৌমিত্র। আর রবিবেলায় ‘পচা কাকা’র কলার টিউন, ‘মন যে তোমার দরদিয়া...’। 

Soumitra Roy Tmc
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -