SEND FEEDBACK

English
Bengali

দুই বিড়ম্বনা: নারদ-তদন্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন। জেলা গঠনে অধরা অনুমতি

নিজস্ব সংবাদদাতা | জুলাই ২৮, ২০১৬
Share it on
আদালতে নারদ মামলা চলাকালীন তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন চেল্লুরের। অন্যদিকে ঘোষণা হয়েছে বহুদিন। তবুও আদালতকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে না পারায় এখনও পর্যন্ত নতুন জেলা গঠন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারল না রাজ্য সরকার।

আদালতে মামলা চলাকালীন তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন চেল্লুরের
শুরু থেকে নারদ-কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল যা বলে আসছিলেন বুধবার কার্যত একই কথা বললেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর।
নারদ-তদন্তে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রথম সমন পাওয়ার পরে ম্যাথু বলেছিলেন, ‘‘হাইকোর্টে মামলাটি বিচারাধীন। এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের এই তদন্তের অর্থ কী!’’ বস্তুত, কলকাতা পুলিশের চিঠির প্রেক্ষিতে ম্যাথু যে জবাব দিয়েছেন, সেখানেও বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারাধীন হওয়ায় সমন প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছিলেন নারদ-কর্তা। ঘটনাচক্রে, নারদ-কাণ্ডে তিনটি জনস্বার্থ মামলা বিচারাধীন থাকার মাঝে পুলিশের সমান্তরাল তদন্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতিও। তবে প্রশ্ন তুললেও, কোনও নির্দেশ দেয়নি প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
গত সোমবার নারদ-কাণ্ডে গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ম্যাথু। যার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ম্যাথুকে লিখিতভাবে তাঁর বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেন। এদিন ‘নারদনিউজ ডটকমে’র সিইও’র আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ আদালতে জানান, ম্যাথু দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই তাঁর পক্ষে আবেদন দায়ের করা সম্ভব হয়নি। আবেদন দায়েরের জন্য কিছুদিন সময় চেয়ে নেন ম্যাথুর আইনজীবী। প্রধান বিচারপতি সেই সময় মঞ্জুর করেছেন।
প্রধান বিচারপতি এবং ম্যাথুর আইনজীবীর কথাবার্তার মাঝেই মূল মামলার এক আইনজীবী বলেন, ‘‘হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন। অথচ এরই মধ্যে পুলিশ সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে।’’ যার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘একটি মামলা যখন এই ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে তখন পুলিশের সমান্তরাল তদন্তের কোনও যৌক্তিকতা নেই!’’ 
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, ‘‘ম্যাথু এখনও কোনও আবেদন দায়ের করেননি। তিনি আবেদন করলে রাজ্য তার বক্তব্য জানাবে। বিচারাধীন মামলার সঙ্গে পুলিশের তদন্ত সমান্তরাল কি না, সে প্রসঙ্গে রাজ্যও তার বক্তব্য আদালতের কাছে তুলে ধরবে বলে জানান অ্যাডভোকেট জেনারেল। সেই বক্তব্য শোনার পরে ঠিক-ভুলের বিচার করার আর্জি জানান তিনি। এরপরই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, আগামী ৫ অগস্ট মূল মামলার সঙ্গে এই আবেদনটিরও শুনানি হবে।
প্রসঙ্গত, মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রীয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যাথুকে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে এ পর্যন্ত দু’টি সমন পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ম্যাথু তাতেও হাজির না-হওয়ায় ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বারস্থ হয় কলকাতা পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে নিম্ন আদালত দ্রুত ম্যাথুকে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দিলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ম্যাথু।

নতুন জেলা গঠন কোর্টের সম্মতির অপেক্ষায় রাজ্য
ঘোষণা হয়েছে বহুদিন। তবুও আদালতকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে না পারায় এখনও পর্যন্ত নতুন জেলা গঠন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারল না রাজ্য সরকার।
প্রথম তৃণমূল সরকারের আমলেই আসানসোল, ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং, বসিরহাট এবং সুন্দরবনকে নতুন জেলা করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরও সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক পর্যায়ে আসানসোল এবং ঝাড়গ্রামকে নতুন জেলা করার কথা ভাবা হয়েছিল। এরপর কালিম্পং, বসিরহাট এবং সুন্দরবনকেও পৃথক জেলা করার পরিকল্পনা ছিল। নতুন জেলা তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হল, আদালতের সম্মতি আদায়। প্রস্তাবিত নতুন জেলায় আইনবিভাগের পরিকাঠামো উপযুক্ত কি না, তা দেখে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট সেই অনুমতি দেবে রাজ্যকে।
সূত্রের খবর, বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামোর একটি প্রাথমিক রূপরেখা রাজ্যের তরফে হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আধিকারিকমহলের একাংশের বক্তব্য, রাজ্য প্রাথমিকভাবে পরিকাঠামোর যে রূপরেখা আদালতের কাছে জমা করেছিল, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে আরেকটি প্রস্তাব আদালতে জমা করা হয়েছে। প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘সাব ডিভিশন থেকে জেলা আদালতে উন্নীত করতে গেলে পরিকাঠামো বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতকে জানানো হয়েছে। হাইকোর্টের ছাড়পত্র পেলেই বিজ্ঞপ্তি জারির দিনক্ষণ স্থির করবে রাজ্য।’’
যদিও হাইকোর্ট প্রশাসন সূত্রের খবর, নতুন প্রস্তাব রাজ্য আদৌ জমা দিয়েছে কি না, সে সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরেই কিছু বলা সম্ভব হবে। 
রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, নতুন জেলায় আদালত ভবন, বিচারক-সহ দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের থাকার ব্যবস্থা, সংশোধনাগারের উপযুক্ত পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট। জেলা চালাতে গেলে এ ধরনের পরিকাঠামো থাকা আবশ্যক। 
তাই প্রশাসনিক পদ তৈরি সম্পর্কিত কাজ অনেকখানি এগিয়ে গেলেও, জেলা গঠনের বিষয়টি এখনও আশানুরূপ গতি পায়নি। আসানসোল এবং ঝাড়গ্রামের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি মিললে, পরবর্তী পর্যায়ে কালিম্পংকে জেলা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বসিরহাট এবং সুন্দরবনকে জেলা তৈরির প্রক্রিয়া  আপাতত থমকে রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ধাপে ধাপে সব প্রক্রিয়াই শুরু হবে।’’

Kolkata High Court Mamata Banerjee Narada Mathew Samuels
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -