SEND FEEDBACK

English
Bengali

‘দাদা’ শুভেন্দুর ষোলোকলা অপূর্ণ

অর্ক ভাদুড়ি | মে ২০, ২০১৬
Share it on
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মতো পূর্ব মেদিনীপুর বিরোধীশূন্য করতে পারলেন না তমলুকের সাংসদ তথা জেলায় তৃণমূলের ‘দাদা’ শুভেন্দু অধিকারী। জেলায় তিনটি আসন হারিয়েছে শাসকদল।

‘ভাই’য়েরা পারলেও ‘দাদা’ পারলেন না! 
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মতো পূর্ব মেদিনীপুর বিরোধীশূন্য করতে পারলেন না তমলুকের সাংসদ তথা জেলায় তৃণমূলের ‘দাদা’ শুভেন্দু অধিকারী। জেলায় তিনটি আসন হারিয়েছে শাসকদল। অথচ গত সোমবারই উচ্চমাধ্যমিকে জেলার ৯২.৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় পাশের হারে সবার আগের স্থানটি ছিল পূর্ব মেদিনীপুরেরই। ‘ভাই’দের এই সাফল্য ভোটে শুভেন্দু ধরে রাখতে পারেন কি না, সেই পরীক্ষা ছিল বৃহস্পতিবার। আর তাতেই ‘ফুলমার্কস’ পেলেন না নন্দীগ্রামের তৃণমূলপ্রার্থী।  
জেলার যে তিনটি আসন শাসকদল হারিয়েছে, তার মধ্যে পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রে ৪৭৬৭ ভোটে তৃণমূলপ্রার্থী বিপ্লব রায়চৌধুরীকে পরাজিত করেছেন সিপিএমপ্রার্থী শেখ ইব্রাহিম আলি। হলদিয়ায় সিপিএমের তাপসী মণ্ডলের কাছে পরাস্ত হয়েছেন তৃণমূলের মধুরিমা মণ্ডল। ব্যবধান ২২ হাজার ৪৯৩ ভোটের। তমলুক আসনে শাসকদলের নির্বেদ রায় ৫২০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন সিপিআইপ্রার্থী অশোককুমার দিন্দার কাছে। প্রসঙ্গত, এই তিনটি বিধানসভাই শুভেন্দুর তমলুক লোকসভার অন্তর্গত। 
শুভেন্দু নিজে অবশ্য নন্দীগ্রামে ৮১ হাজার ২৩০ ভোটের বিপুল ব্যবধানে সিপিআইপ্রার্থী আব্দুল কবির শেখকে হারিয়েছেন। এদিন ‘এবেলা’কে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের সর্বত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মসূচির পক্ষে মানুষ রায় দিয়েছেন। বিরোধীদের লাগাতার অপপ্রচার কোনও কাজে আসেনি। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি কেন্দ্রে হয়তো প্রত্যাশামতো ফল হয়নি।’’
তৃণমূল সূত্রের খবর, শুভেন্দুর কাছে জেলার ১৬টি আসনই চেয়েছিলেন দলনেত্রী। কেন তা হল না? জেলার এক তৃণমূলনেতার কথায়, ‘‘যে তিনটি আসনে আমরা পরাজিত হয়েছি, সেগুলির প্রত্যেকটিতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল। সেই বিরোধ সামাল দিতে পারেননি শুভেন্দু।’’ প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবারই ‘এবেলা’ লিখেছিল, জেলার ছ’টি আসন নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন শুভেন্দু। দেখা যাচ্ছে, ওই ছ’টি আসনের তিনটিতে হেরেছে তৃণমূল।
সূত্রের খবর, তমলুকে নির্বেদকে হারাতে ‘সক্রিয়’ ছিলেন সৌমেন মহাপাত্রের অনুগামীরা। ২০১১ সালে তমলুক থেকে জিতেই মন্ত্রী হন সৌমেন। এবার তাঁকে পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় সরিয়ে দিয়ে নির্বেদকে টিকিট দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার এক ঘনিষ্ঠকে ফোন করে নির্বেদ জানান, নির্বাচনে সৌমেনের অনুগামীদের ভূমিকা নিয়ে তিনি সংশয়ে আছেন। এদিন সৌমেন ‘এবেলা’কে বলেন, ‘‘আমার অনুগামী বলে কিছু নেই। সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। তমলুকের তৃণমূলকর্মীরা সকলে দলীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন বলেই জানি।’’
হলদিয়াতেও মধুরিমার পরাজয়ের জন্য দলের একাংশের অন্তর্ঘাত দায়ী বলে মনে করছেন জেলার তৃণমূল নেতাদের একাংশ। তাঁদের একজনের কথায়, ‘‘এই কেন্দ্রে শিউলি সাহাকে সরিয়ে যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল, তাঁকে মেনে নিতে পারেননি অনেকে।’’ পাঁশকুড়া পূর্ব আসনে আবার উল্টো ছবি। তৃণমূলপ্রার্থী বিপ্লব রায়চৌধুরী অধিকারী-বিরোধী শিবিরের নেতা হিসাবেই পরিচিত। শুভেন্দুর অনুগামীদের ‘অসহযোগিতা’র কারণেই তাঁকে হারতে হয়েছে বলে জল্পনা               তৃণমূলের একাংশের। 
রাজনীতির কারবারিদের একাংশের মতে, শুভেন্দু ‘ধাক্কা’ খেলেন এমন একটা সময়ে, যখন তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে মুকুল রায়ের। পাশাপাশি, দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকছেন নেত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দু’জনের সঙ্গেই যেহেতু শুভেন্দুর সম্পর্ক যথেষ্ট ‘মধুর’, তাই এই ফল তাঁর ‘সমস্যা’ বাড়াতেই পারে। আবার জেলার রাজনীতিতে তাঁর ‘বিরোধী’ হিসাবে পরিচিত রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি তাঁকে ‘বিপাকে’ ফেলতে পারেন। ফলে ‘দাদা’র চিন্তা যাচ্ছে না!

Subhendu Adhikari TMC East Midnapore
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -