SEND FEEDBACK

English
Bengali

নেই লুকোচুরি, বাড়তি সার্ভিস দিচ্ছে স্পা-ও

স্যমন্তক ঘোষ | মার্চ ২০, ২০১৭
Share it on
বিধাননগরে পরিচিত আইল্যান্ড। বড় রাস্তা ছেড়ে গলিতে ঢুকতেই গাড়ির লাইন। কোটি থেকে লক্ষাধিক— সব দামের গাড়িই হাজির। লাউঞ্জে বুদ্ধের প্রমাণ মাপের মূর্তির উপর হলুদ স্পটলাইট। সোফা। জোড়ায় জোড়ায় ব্র্যান্ডেড স্লিপার। এবং ক্যাশ ও কার্ডে পেমেন্টের ব্যবস্থা।

বিধাননগরে পরিচিত আইল্যান্ড। বড় রাস্তা ছেড়ে গলিতে ঢুকতেই গাড়ির লাইন। কোটি থেকে লক্ষাধিক— সব দামের গাড়িই হাজির। লাউঞ্জে বুদ্ধের প্রমাণ মাপের মূর্তির উপর হলুদ স্পটলাইট। সোফা। জোড়ায় জোড়ায় ব্র্যান্ডেড স্লিপার। এবং ক্যাশ ও কার্ডে পেমেন্টের ব্যবস্থা।
ইউনিসেক্স পার্লারের সঙ্গে এ জায়গার যে ‘ক্লাস-পার্থক্য’ আছে, মাসাজ রুমে ঢুকলেই মালুম হয়। নীলচে আলোয় মায়াবি জাকুজ়ি। পাশে কাচের বাথ-কিউবিক্‌ল। হ্যাঙারে টার্কিশ শাওয়ার গাউন। 
স্পায়ের লোগোঅলা কোট পরে ঘরে প্রবেশ তরুণীর। মাসাজের প্রেশার, ধরন ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন তিনি। ইংরেজিতে। পাল্টা প্রশ্নে জানালেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতায় এসেছেন বহুদিন। বিয়ে করেননি। স্নাতক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। সাজগোজের নেশায় দিল্লিতে বিউটিশিয়ান কোর্স করেছেন বেশ খরচ করেই। প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছিলেন সেখানেই। এখন সল্টলেকে মাসিক ১২ হাজার টাকায় ভাড়া থাকেন। ইচ্ছে, আরও কিছু টাকা জমিয়ে পাকাপাকিভাবে ব্যাংককে যাওয়ার।
মিনিট দশেক পরেই অবশ্য এল অমোঘ প্রশ্নটি। ‘‘এক্সট্রা সার্ভিস?’’ তিন হাজার টাকা থেকে শুরু। বলা হল, এক্সট্রা সার্ভিসের প্রয়োজন নেই। তরুণী জানালেন, ডিমনিটাইজেশন কোনও সমস্যা নয়। চাইলে কার্ডেও এক্সট্রা সার্ভিসের টাকা দেওয়া যাবে! 
‘‘তার মানে, ম্যানেজার, মালিক সকলেরই জানা আছে বিষয়টা?’’
অবাকই হলেন তরুণী। ‘‘না-জানার কী আছে! স্পা’য়ে কেউ শুধু মাসাজ নিতে আসেন নাকি?’’
সাংবাদিক শুধু মাসাজ নিতেই এসেছেন শুনে এখানে রীতিমতো হুমকি। পরিশীলিত ভঙ্গি ঝেড়ে ফেলে তরুণী জানান, এক্সট্রা সার্ভিস নিতেই হবে। খানিকক্ষণ বাদানুবাদ চলার পর ঘরে ঢুকলেন রিসেপশনের এক সুভাষী। সটান প্রশ্ন— ‘‘অন্য মেয়ে দেখবেন?’’
চড়া সুরেই তাঁকে জানানো গেল, মাত্রা ছাড়াচ্ছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে দরজার বাইরে হাজির নিরাপত্তারক্ষী। 
স্পা’য়ে এমন খুল্লমখুল্লা দেহব্যবসার কথা জানে পুলিশও। বিধাননগর সিটি পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান সন্তোষ পাণ্ডে বলেন, ‘‘এধরনের স্পা এবং পার্লারে আগেও রেড হয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আবারও রেড হবে।’’ তবে এলাকাবাসীর বক্তব্য, যে হারে ‘স্পা’য়ের মেলা বসেছে, সেই অনুপাতে পুলিশি নজরদারি নেই।
বিধাননগরের এক বাসিন্দার আবার ব্যাখ্যা, গত কয়েক দশকে বিধাননগর ‘বৃদ্ধাবাসে’ পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই শহরে কিংবা দেশে থাকেন না। বিরাট বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করাই সমস্যা। ‘বিভিন্ন কাজে’ বাড়ি ভাড়া দিতে হচ্ছে অগত্যা!
পার্লার এবং স্পা’য়ে এই ব্যবসার রমরমা সম্পর্কে সমাজতত্ত্ববিদ প্রশান্ত রায়ের ব্যাখ্যা, সোনাগাছি এলাকার সঙ্গে সামাজিক ‘স্টিগমা’ জড়িয়ে রয়েছে। স্পা বা মাসাজ সেন্টারে গেলে সেই অসুবিধা নেই। এছাড়া, তাঁর কথায়, ‘‘সোনাগাছি বহরে বড় হয়নি। ফলে এধরনের ব্যবসার সুযোগ বেড়েছে। মধ্যবিত্তের হাতে টাকা বেড়েছে। ফলে খরচও হচ্ছে দেদার।’’
 (চলবে)

 

Massage parlor Kolkata
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -