SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

‘‘হ্যাঁ শরীর দিয়েছি, বিনিময়ে নিয়েছি অনেক’’, অকপট মেয়ের কল্প-স্বীকারোক্তি

অক্টোবর ২৩, ২০১৮
```` Comments
অনেকেই মুখ খোলেননি। কারণ, অনেকেই বোঝাপড়ার সেই ‘দেওয়া-নেওয়া’ নিয়ে মনে মনে অকপট। অভাব শুধু মুখ খোলার। যে আজকে দাঁড়িয়ে বলে দেবে— ‘‘হ্যাঁ, শরীর দিয়েছি। বিনিময়ে নিয়েছি অনেক অনেক কিছু।’’ আসুন দেখে নেওয়া যাক, সেই অলিখিত, কল্পিত স্বীকারোক্তি ঠিক কেমন হতে পারত— 

হ্যাশট্যাগ ‘মিটু’। দেশজুড়ে সত্যকথনের হই হই, রই রই কাণ্ড। অন্যায়। পদ তথা ক্ষমতার অপব্যবহার অন্যায়। আর সেই অন্যায়ের সবটা সামনে এলে স্পষ্ট হয়ে যাবে, এই সমাজে ‘দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া’ আসলে এক মহামারী। যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁদের অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— এত দিন পরে কেন? এত কাল চুপ থাকার পরে কেন এখন অভিযোগ?

জবাবটাও সহজ— তখন অভিযোগ করার জায়গায় ছিলাম না, তাই চুপ ছিলাম এখন নেই তাই খুলেছি মুখ। সহজ, সরল, সত্য কথা। কিন্তু আজকে বলার মতো জায়গায় আসার জন্যই ‘অন্যায়’-কে মনে মনে মেনে নেওয়া ছিল না তো! এমনটাও তো হতে পারে, অনেক মেনে নেওয়াই ছিল আসলে— ‘চুপ পলিসি।’ এমন কটাক্ষও জুটছে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আবার অনেকেই মুখ খোলেননি। কারণ, অনেকেই বোঝাপড়ার সেই ‘দেওয়া-নেওয়া’ নিয়ে মনে মনে অকপট। অভাব শুধু মুখ খোলার। যে আজকে দাঁড়িয়ে বলে দেবে— ‘‘হ্যাঁ, শরীর দিয়েছি। বিনিময়ে নিয়েছি অনেক অনেক কিছু।’’

আসুন দেখে নেওয়া যাক, সেই অলিখিত, কল্পিত স্বীকারোক্তি ঠিক কেমন হতে পারত —

আমি বড় হতে চেয়েছিলাম। স্বপ্ন সফল করতে চেয়েছিলাম। সেই স্বপ্নটা এতটাই বড় ছিল যে তার জন্য যে কোনও কম্প্রোমাইজকে ছোট করে দেখেছি। এলেবেলে ভেবেছি। হ্যাঁ, স্বপ্নটাকে সত্যি আমি নিজের থেকেও বেশি ভালবাসতাম। লক্ষ্যে পৌঁছনোটা ছিল আমার জেদ। ফিগার ঠিক রাখতে যেমন সব পছন্দের খাবারকে বাতিলের তালিকায় ফেলে দিয়েছিলাম, মুহূর্তের সিদ্ধান্তে তেমনই সব ইগোকেও সরিয়ে রেখেছিলাম। দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর সভায় অর্জুনের চোখ যেমন শুধু মাছের চোখে ছিল, তেমনই আমার মন, প্রাণ, শরীর সবেই ছিল এক লক্ষ্য— স্বপ্নপূরণ।

আমি জানতাম, উপরে ওঠার সময়ে নীচের দিকে তাকাতে নেই। পুরুষ তাই আমার বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। পুরুষের শরীরের প্রতি লোভ আমায় থামিয়ে রাখতে পারেনি। কখনও মই হিসেবে, কখনও পাপোষ হিসেবে পুরুষকে আমি ব্যবহার করেছি আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে। না, নিজেকে সঁপে দিইনি। উপভোগ করেছি।

আমি তখন আমার কাজের জগতে নবাগতা। নগণ্য। সেই নগণ্যের দিকে নজর পড়েছে মাংসলোলুপ অনেক বড়কর্তার। ঠিক তেমন করেই এই ‘নগণ্য’ নিজের বঁড়শিতে গেঁথে ফেলেছে বড়কর্তাদের। কখনও তিনি পরিচালক, কখনও সিনিয়র, কখনও প্রশাসক। কিংবা আরও মস্ত কেউ। অনেক ‘নগণ্য’কে হারিয়ে এই ‘নগণ্য’ জিতে নিয়েছে তাঁদের। না, তাঁরা একা এই ‘নগণ্য’-কে ভোগ করতে পারেননি। ভেবেছেন কিন্তু পারেননি। পারতে দিইনি। সমান ভাবে কিংবা কখনও বেশি করে ভোগ করেছি আমি। এক ‘নগণ্য’ হয়ে প্রতিষ্ঠিতকে ‘ভোগে’র আনন্দ যে অনেক বেশি।

সেই বোকা পুরুষ পেয়েছে শুধু আমার শরীর। আর আমি অনেক কিছু। নামী, দামির শরীর শুধু নয়, হাজারো সুবিধা। ইচ্ছা মতো ছুটি, ভাল লাগা অ্যাসাইনমেন্ট, পিরিয়ডের সময়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোম।

না, শরীর বেচিনি। আমি মন ও শরীর দিয়ে আমার স্বপ্নের পথে হেঁটেছি। সেই জার্নিকে উপভোগ করেছি। পুরুষকে বোকা বানিয়ে স্বপ্নপূরণ হয়েছে। লক্ষ্য ছুঁয়েছি। 

আগেই বলেছি, উপরে উঠে নীচের দিকে তাকাতে নেই। তাই আমার স্বেচ্ছায় তৈরি করা উত্তরণের পথ নিয়ে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। কোনও ‘মিটু’ অভিযোগ নেই। রয়েছে পাওয়ার আনন্দ। ভোগের তৃপ্তি। স্বপ্নপূরণের সাফল্য।

পিনাকপাণি ঘোষ: রাজনীতি থেকে ঠেকবাজি, ধুলোগড় থেকে ধুলোঝড়, সবেতেই স্বচ্ছন্দ। ভালবাসেন টিপ্পনি কাটতে।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -