SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

বাঙালি এবার মাছ-মাংস খাওয়াই না ছেড়ে দেয়, জমি তো অনেকটাই ছাড়ল

নভেম্বর ৬, ২০১৮
```` Comments
বাঙালির একটি উপলক্ষ পেলেই হল। তার পরে বাকিটা সে নিজের মতো করেই বুঝে নেবে। এই হুজুকে মাততে মাততে ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে বাঙালি?

বারো মাসে তেরো পার্বণের বদলে এখন বাঙালির বারো মাসে উনচল্লিশ পার্বণ। কারণ, বাঙালি কিছুই বাদ দেয় না। এত বড় ‘দিলদরিয়া’ জাতি আর কোথায় রয়েছে! বাঙালি যা পায়, তাকেই বুকে জড়িয়ে ধরে। ধনতেরসের দিন বাঙালির সোনার দোকানে হামলে পড়া তো অনেক পুরনো হয়ে গিয়েছে। এখন হ্যালোয়েন, করবা চৌথও বাঙালির ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে পড়েছে।

এক মারাঠি বন্ধুকে দুর্গাপুজোর আড়ম্বর বোঝাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। কিন্তু সেই বন্ধু যদি গণেশ চতুর্থী নিয়ে আমাদের পাড়ার কালুদাকে বোঝাতে যেত, তাহলে কালুদাই সম্ভবত সেই মারাঠিকে বেশি বুঝিয়ে দিত।

কারণ মহারাষ্ট্রের পাড়ায় পাড়ায় দুর্গাপুজো না হলেও, বাংলার পাড়ার মোড়ে মোড়ে ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’ যে ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে আমাদের বিশ্বকর্মা পুজোও হার মানছে।

বা ধরুন ক্রিসমাসের দিন যেখানে বিলেতে রাস্তা খাঁ খাঁ করে, সবাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত থাকে, সেখানে ২৫ ডিসেম্বর কলকাতার রাস্তার ছবি দেখে বেশ অবাক হয়েছিলেন এক পরিচিত ব্রিটিশ দম্পতি।

আসলে বাঙালির বেশি কিছু লাগে না। লাগে শুধু একটা হুজুক। সে হুজুকে গা ভাসাতে দু’দণ্ড লাগে না তাদের। অচিরেই তা বাঙালির ‘নিজের উৎসব’ হয়ে যায়। উৎসব করতে কে না ভালবাসে! আমরা তো উৎসব-মেলাতেই আছি। ৩৬৫ দিন।

রামনবমীর অস্ত্র মিছিল নিয়ে যাঁদের চিন্তা বা মাছ-মাংস খাওয়া তুলে দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে যাঁরা আড্ডার টেবিলে মাথার চুল ছিঁড়ছেন, তাঁদের বেশি চিন্তা না করলেও চলবে। সবই সর্বজনীন হয়ে উঠতে পারে অদূর ভবিষ্যতে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

অনেকেই তো শুনি নবরাত্রির ‘নিরামিষ’ খাওয়া ধরে ফেলেছেন। দু’দিন পরে যদি এই ‘উৎসবে’ থুড়ি হুজুকে মাততে গিয়ে বাঙালি অতি প্রিয় মাছ-মাংস ছেড়ে দেয়, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এই তো সেদিন হ্যালোয়েন উৎসব করতে গিয়ে জেলা শহরের রাস্তায় ‘ভূতের’ দেখা পাওয়া গিয়েছিল। একদল যুবক নেমে পড়েছিলেন ভূতের সাজে।

এতে কি বাঙালি তাঁর নিজস্ব সত্তা হারিয়ে ফেলছে? এ বড় গম্ভীর প্রশ্ন। এ নিয়ে তর্ক বহুদূর। বাঙালি কেন ইতু পুজো ছেড়ে দিওয়ালি পুজোতে মন দিচ্ছে? কেন এতটা জমি ছেড়ে দিচ্ছে? তার পিছনে রয়েছে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অনেক কারণ। 

কিন্তু যতক্ষণ উৎসব উৎসবের জায়গায় রয়েছে এবং তার পিছনে চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি নেই, ততক্ষণ একটি বহুত্ববাদী সংস্কৃতির মোড়কে বাঙালি যে কোনও হুজুকে ভাসতে চাইলে ভাসুক। তা নিয়ে কোনও দিক্কত নেই। আর বাঙালির হুজুক তো কোনও নতুন ট্রেন্ড নয়। বাঙালি তো হুতোমের আমল থেকেই হুজুকে ভাসতে ভালবাসে। তবে তাতে আর আপত্তি কেন? 

বাঙালির সংস্কৃতি সর্বদাই ‘দিবে আর নিবে’-র। কিন্তু বাঙালিরটা কে নেয়, তা বাঙালি জানে কি? এ মরপৃথিবীতে বাঙালিই খালি নিয়ে গেল অন্য জাতের উৎসব। এই নিয়ে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ধূম উদ্গীরণ করছেন, তাঁরা করুন গিয়ে। বাঙালি ততক্ষণে গঙ্গৌরের ঘেবর ভাজায় মুখ ডুবিয়ে বসে রয়েছে।

খবর তো অনেকেই লেখেন, খবরের পিছনের খবর খোঁজা নেশারুদের অন্যতম। লালগড় থেকে লন্ডন, টেক্সট বুক থেকে ফেসবুক সব নিয়েই সমান কৌতূহল।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -