SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

স্বামী ‘জোর’ করলে তা বৈধ! বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে কোনও ‘মিটু’ হবে কি ভারতে

অক্টোবর ২৮, ২০১৮
```` Comments
কর্মক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিনোদন জগতে যৌন হেনস্থা নিয়ে সারা দেশ তোলপাড়। অথচ বিবাহের সামাজিক সিলমোহর নিয়ে যে ধর্ষণ চলে বেডরুমে, তা নিয়ে মুখ খুলবেন না কেউ?

‘ভাগ মিলখা ভাগ’ (২০১৩) ছবির সেই দৃশ্যটির কথা বললেই মনে পড়বে আপনার। কিশোর মিলখা-র সামনে, একটা পর্দার ওপারে প্রতি রাতে স্বামীকে শারীরিক সঙ্গদান করতে বাধ্য হতেন তাঁর দিদি। সেই শরীরী মিলনে যে কোনও প্রেম নেই, সেই মিলন যে শুধুমাত্র পুরুষের কামনা চরিতার্থ করতে নারীর বাধ্যতা, সংবেদনশীল দর্শকের সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। ছবিটি দেখতে গিয়ে ক’জন নারী মনে মনে ফিরে গিয়েছেন তাঁর নিজের বেডরুমে, তার কোনও সমীক্ষিত পরিসংখ্যান নেই। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

কিন্তু ২০১৮ সালের একটি জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা বলছে, ভারতে ৮০ শতাংশেরও বেশি বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীর হাতে যৌন লাঞ্ছনা ও নির্যাতন ভোগ করেন। ‘ম্যারাইটাল রেপ’ অথবা ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ সম্পর্কে এদেশের মানুষ কতটা সচেতন, সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কারণ চতুর্থ জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী, সারা ভারতে সমীক্ষিত ১০০ জন পুরুষের মধ্যে ৯ জনই মনে করেন যে, স্ত্রীর অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁর শারীরিক সম্ভোগ একজন স্বামীর অধিকার। 

এই গণমানসিকতাকে নীরবে সমর্থন করে ভারতীয় সংবিধান। ভারতীয় পেনাল কোডের আর্টিকল ২০ অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে যৌনাচার, তা যদি তাঁর অনুমতির বিরুদ্ধেও হয়, তবে তা ধর্ষণ নয়। আবার আর্টিকল ২১-এ গিয়ে বলা হয়েছে যে স্বামী যদি যৌন হেনস্থা করেন তবে স্ত্রী তাঁর সঙ্গে থাকতে বাধ্য নন। তবুও আজও এদেশে বৈবাহিক ধর্ষণ কোনও ‘ক্রাইম’ নয়। আইনের চোখে এটি বিবাহবিচ্ছেদের একটি কারণ হতে পারে, কিন্তু স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গে যৌন সংসর্গ স্থাপন করলে কোনও স্বামীকে ‘ক্রিমিনাল’ বলবে না এদেশের বিচারব্যবস্থা। 

ভারত হল পৃথিবীর ৩৬টি দেশের অন্যতম, যেখানে বৈবাহিক ধর্ষণ কোনও ক্রিমিনাল অফেন্স নয়। অথচ ইউনাইটেড নেশনস-এর পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে বহু বার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে এদেশের বিবাহিত পুরুষের এই জঘন্য অভ্যাসটিকে ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বার বার এ দেশের আইনব্যবস্থা বাধ সেধেছে। গত বছর একটি বিশেষ মামলায় দিল্লি হাই কোর্ট রায় দেয় যে, বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে দেশে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে পড়বে। 

অথচ প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভূটানে কিন্তু এটি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। ব্রিটেন, ৫০টি মার্কিনি স্টেটস ও প্রথম বিশ্বের দেশগুলি ছাড়াও আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার তৃতীয়/চতুর্থ বিশ্বের দেশগুলিতেও বৈবাহিক ধর্ষণ ক্রিমিনাল অফেন্স। উলটো দিকে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইয়েমেন, তাজিকিস্তান, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, প্যালেস্টাইন, ওমান, নাইজেরিয়া ও ভারতের মতো দেশ, যেখানে স্ত্রীর শরীর স্বামীর যৌন বাসনা চরিতার্থ করার একটি ‘টুল’ মাত্র। 

যে দেশগুলিতে ম্যারাইটাল রেপ-কে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়, সেখানে কিন্তু এই আইনি সংশোধন এসেছে সে দেশের নারীদের গণপ্রতিবাদের মধ্যে দিয়েই। এর বেলা কেন চুপ ভারতীয় নারী? এ দেশে নাকি নারী দেবী হিসেবে পূজিত হন? তার পরেও একটি জঘন্য অপরাধকে স্বাভাবিক এবং আইনসিদ্ধ বলে শিখিয়ে যাবেন এ দেশের মায়েরা, এদেশের পারিবারিক কাঠামো? এই অবমাননার বিরুদ্ধে কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক হবেন না কেউ? কেন বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে হবে না কোনও ‘মিটু’ আন্দোলন?

শাঁওলি দেবনাথ: কফি ও ক্যাফে অন্ত-প্রাণ। সুদূরের পিয়াসী আবার প্রিয় গান, প্রিয় সিনেমা, প্রিয় বই ও প্রিয় খাবার সহযোগে ঘরকুনো হতে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন।


      

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -