SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

আর কত কাল ছোটপর্দায় ‘বিনোদন’ দেবে শিশুরা আর ‘সিস্টেম’ ডুগডুগি বাজাবে

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯
```` Comments
অনেক স্ট্র্যাটেজির পর আবারও সেই পুরনো স্ট্র্যাটেজি। শিশু-চরিত্রকে সামনে রাখলেই বুঝি চড়চড় করে বাড়ে ভিউয়ারশিপ!

টেলিভিশনের বিনোদন চ্যানেলগুলিকে ব্যবসা করতে হয়, তাই ভিউয়ারশিপ বাড়াতেই হয় যে কোনও উপায়ে। কারণ ভিউয়ারশিপ বাড়লে তবেই চ্যানেলের জিআরপি বাড়বে এবং তার উপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দেবেন। তাই সময়ে সময়ে সব বিনোদন চ্যানেলগুলিকে নানা ধরনের কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি নিতে হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে আধ্যাত্মিক, বায়োপিক, সাহিত্য সব কিছুর পরেও বার বার করে ফিরে আসছে শিশুকেন্দ্রিক ধারাবাহিক। গত ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া স্টার জলসা-র ‘গুড্ডু যেখানে গুড়িয়া সেখানে’ একটি সাম্প্রতিক সংযোজন। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

‘গুড্ডু-গুড়িয়া’ ধারাবাহিকের বিজ্ঞাপন থেকে

নির্মাতারা মানুন না মানুন, ওই চ্যানেলেরই আর এক ধারাবাহিক, ‘রাখিবন্ধন’-এর ভিন্ন সংস্করণ এটি। পাত্র-পাত্রী, অভিনেতা-অভিনেত্রী ভিন্ন, প্রেক্ষাপট আলাদা এবং গল্পের গতিপ্রকৃতি হয়তো আলাদা কিন্তু একই স্ট্র্যাটেজির বহিঃপ্রকাশ। ‘রাখিবন্ধন’-এ যেমনটা ঘটেছিল, কয়েক মাস পরে এই দুই শিশুশিল্পীকে নিস্তার দিয়ে হয়তো আসবে একটি টাইম লিপ, আসবেন এক জোড়া পরিচিত মুখ। অথবা তা না হলেও কোনও না কোনও কুচক্রী মাসিমা অথবা পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা-র মতো পেয়ে যাওয়া কোনও স্নেহময়ী পিসিমা, দুই শিশুকে কাছে টেনে নতুন প্রোমো-তে জায়গা করে নেবেন! 

‘রাখিবন্ধন’-এর বিজ্ঞাপন থেকে

এই ভাবে কি সত্যিই কোনও ভ্যালু অ্যাডিশন হয়? আর শিশুদের সামনে রেখে সাম্প্রতিক কালে যে সব ধারাবাহিক এসেছে, সেগুলির সাফল্য খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়। জি বাংলা-র ‘আমলকী’ বরাবরই মধ্যমানের রেটিং দিয়েছে। কালারস বাংলা-র ‘ঝুমুর’-ও তাই। আবার ওই চ্যানেলেরই ‘রেশমঝাঁপি’-র কথা যদি ধরা যায়, তবে সেখানেও টাইম লিপ করে সুন্দরী নায়িকাকে এনে, ত্রিকোণ প্রেম ও সাংসারিক ষড়যন্ত্র ইত্যাদির পাঁচফোড়ন দিয়ে তবেই রেটিং বেড়েছে। ‘গোপাল ভাঁড়’ একটি দারুণ প্রচেষ্টা ছিল কিন্তু সেটিও পথ হারায় কিছুদিন যেতে না যেতেই। অথচ বিশেষ বিশেষ সময়ে ‘আমার দুর্গা’, ‘অগ্নিজল’, ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ইত্যাদি ধারাবাহিকে টিআরপি বাড়াতে শিশুদের ব্যবহার করা হয়েছে। শিশুদেরকে একটি বহতা পাঁকের অংশ করে তোলা হচ্ছে অবিরত। তারা কি এর শরিক হতে চায়? হলফ করে বলা যায়, তারা জানে না। এমনকী তারা যে জানে না, সেটাও তারা জানে না, কেননা গ্রুমিং(পড়ুন মগজধোলাই)নামক গালভরা শব্দটি শিশুমনকে আচ্ছন্ন করে চুপিসারে।

‘আমলকী’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্য। ছবি সৌজন্য: জি বাংলা

এই শিশুকেন্দ্রিক ধারাবাহিকের মধ্যে সবচেয়ে স্বতন্ত্র ছিল ‘ভুতু’। বহমানতার বাইরে দাঁড়িয়ে, ভিন্ন একটা পার্সপেক্টিভ থেকে একজন শিশুর চোখে জীবনকে দেখার প্রসঙ্গ ছিল। সেই ধারাবাহিকও কিন্তু একটা সময় পরে দর্শক দেখেননি। অন্যদিকে ‘রাখিবন্ধন’-এ যখন শ্লীল-অশ্লীল ইঙ্গিতে ভরপুর সংলাপ এসেছে ‘রাখি’-র মুখে, দর্শক সেটা উপভোগ করেছেন। রেটিংও বেড়েছে। ঠিক যে অসুখে শিশুধর্ষকের জন্ম হয়, ঠিক সেই অসুখ থেকেই কিন্তু শিশুদের মুখে অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ কথা শুনতে পছন্দ করেন মানুষ। অডিও-ভিস্যুয়াল বিনোদনের মূল মাধ্যম, টেলিভিশন কি সেই অসুখ নিরাময় করবে নাকি এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলির প্রতি উদাসীন থেকে, পরোক্ষে উসকে দেবে সেই অসুখকেই? 

শুধু তাই নয়, শিশুদের মনন সমৃদ্ধ করার মতো ধারাবাহিক কোথায়? রূপকথার গল্পগুলির বিচিত্র গ্রাফিক্স-শোভিত ধারাবাহিকেই কি শেষ? বছরের পর বছর বাংলা টেলিভিশনের রিয়্যালিটি মঞ্চে কুৎসিত, অ-শিশুসুলভ পোশাকে-ভঙ্গিমায় নেচে যাবে আমাদের ভবিষ্যৎ আর টেলি-বিনোদনের ‘সিস্টেম’ ডুগডুগি বাজাবে?    

শাঁওলি দেবনাথ: কফি ও ক্যাফে অন্ত-প্রাণ। সুদূরের পিয়াসী আবার প্রিয় গান, প্রিয় সিনেমা, প্রিয় বই ও প্রিয় খাবার সহযোগে ঘরকুনো হতে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -