SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

পরকীয়ায় বড় প্রতিক্রিয়া, মুখ্যমন্ত্রীর রোষে প্রশ্নের মুখে ‘বিশেষ’ সম্পর্কের অধিকার

অক্টোবর ১০, ২০১৮
```` Comments
সুপ্রিম কোর্ট বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সমাজ কি দেবে! পরকীয়া নিয়ে এই প্রশ্ন তো সবার মনে। হরিপদ কেরানির প্রেম বা পরকীয়া কিছু নিয়েই হয়তো কারও যায় আসে না। কিন্তু যাঁরা ‘পাবলিক ফিগার’ তাঁদের ‘বিশেষ’ সম্পর্ককে বাঁকা চোখে দেখা থেকে কি বাঁচানো যাবে?

তিনি মন্ত্রী। তিনি কলকাতার মহানাগরিক। সেই সঙ্গে তিনি তো রাম-শ্যাম-যদু-মধুর মতো এক জন পুরুষ। আবার তিনি রাম-শ্যাম-যদু-মধুর মতো এলেবেলে কেউ নন। তিনি কেউকেটা। তাই তাঁর সম্পর্ক যদি প্রকাশ্যে আসে তবে ‘ফিসফিসানি’ থাকবেই। কিন্তু না, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পরকীয়া সম্পর্কটি এখন যে ভাবে ‘খুল্লামখুল্লা’ তাতে আর ফিসফিস, কানাকানি নেই। আর পুজোর মুখে সেই সম্পর্ক নিয়ে নাকি প্রশ্ন তুলে পরকীয়ায় বড় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

খবরে প্রকাশ, সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের শেষে নাকি সরাসরি শোভনের বিরুদ্ধে দলের কাজ ফেলে বিশেষ বান্ধবীকে নিয়ে শপিং করার অভিযোগ তুলেছেন খোদ মমতা। আর তার জবাবে নাকি ‘বেশ করেছি’ ধরনের মনোভাব দেখিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

আদালতে শোভন ও বৈশাখী। — নিজস্ব চিত্র

ঘটনার যে বিবরণ মিলেছে তাতে গত সোমবার মহালয়ার দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় মুখপত্র ‘জাগো-বাংলা’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গরহাজির ছিলেন মেয়র তথা মন্ত্রিমশাই। তাতেই নাকি ক্ষিপ্ত হন দলনেত্রী। আর তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায় মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের শেষে। দলের অনুষ্ঠানে না এসে মেয়র মন্ত্রী যে বান্ধবীকে নিয়ে পুজো শপিং করে বেরিয়েছেন সেটাও নাকি ‘খবর আছে’ বলে দাবি করেছেন দলনেত্রী।

এটা অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও মুখ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শোভন-বৈশাখী সম্পর্ক নিয়ে। অন্যান্য নেতা, মন্ত্রীদের সামনে ভর্ৎসনা করেন বলেও অতীতে জানা যায়। শুধু তাই নয়, বার বার দিদির মুখে বৈশাখী সংক্রান্ত প্রশ্ন শুনে শুনে সব দলীয় দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চান শোভন। সব দায়িত্ব না গেলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সভাপতির পদ থেকে পরিবেশ দফতরের মন্ত্রিত্ব অনেক কিছুই খোয়াতে হয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। আর সবটাই হয়েছে পরকীয়া প্রকাশ্যে আসার পরে।

খেসারত দিতে হয়েছে মেয়রের বান্ধবী বৈশাখীকেও। শোভনের হাতে থাকা পরিবেশ দফতরের বোর্ড সদস্য ছিলেন বৈশাখী। সেই দফতর পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে যেতেই শোভনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবেশ দফতরের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। এখন আর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপাতেও কোনও দায়িত্ব নেই।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

একটা সময় পর্যন্ত শোভনের পারিবারিক তথা ব্যক্তিগত জীবনে না ঢোকার পথই নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই তা আর সম্ভব ছিল না। আসলে মেয়রের পরিবার গোটাটাই যে তৃণমূল কংগ্রেস। শ্বশুর, প্রয়াত শাশুড়ি, স্ত্রী, বান্ধবী সকলেই যে তৃণমূলের। চাটুজ্যে পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সমস্যা তাই এক সময়ে বৃহত্তর তৃণমূল পরিবারের সমস্যা হয়ে যায়। আইন-আদালত সবেতেই যে নানা ভাবে জড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নানা জন। এমন কী মেয়রমশাই নিজেই এমন অভিযোগ করেছেন যে— দলেরই বেশ কয়েকজন নেতা তাঁর বিরোধিতা করার জন্য স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে পরামর্শ ও মদত দিচ্ছেন।

একদা একান্ত ভরসার কানন। — ফাইল চিত্র

প্রশ্নটা শুধু রাজনীতির নয়। প্রশ্নটা উঠবে যে কোনও ক্ষেত্রের পরিচিতদের নিয়েই। প্রশ্নটা ‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক’-এর স্বীকৃতি নিয়ে। প্রশ্নটা পরকীয়ার অভিযোগে কোণঠাসা হওয়া নিয়ে। মেয়র ‘বুকের পাটা’ দেখিয়ে ‘বিশেষ বান্ধবী’-র প্রকাশ্য স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেকেই সেটা দেননি, দেন না। সেটা ‘কম কথা’ নয়।

পিনাকপাণি ঘোষ: রাজনীতি থেকে ঠেকবাজি, ধুলোগড় থেকে ধুলোঝড়, সবেতেই স্বচ্ছন্দ। ভালবাসেন টিপ্পনি কাটতে।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -