SEND FEEDBACK

হক কথা

‘ডিম্ভাত’ নিয়ে এত কথা কীসের, রাগ না করে এক থালা খেয়ে নিন

জানুয়ারি ২০, ২০১৯
```` Comments
ব্রিগেড শেষ হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিলেন একজনই। না কোনও নেতা বা নেত্রী নন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যাবতীয় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ চলছে ডিম-ভাত নিয়ে।

হাল্লা রাজার সেনাদের যুদ্ধে যাওয়া আটকাতে হাঁড়ি হাঁড়ি মন্ডা-মেঠাই নামাতে হয়েছিল গুপি-বাঘাকে। ব্রিগেড ভরাতে যদি থালা, থালা ডিম-ভাত বিলি হয়, তাতে দোষ কোথায়?

শনিবার থেকে যে নেটিজেনরা ‘ডিম্ভাত’ নিয়ে মিম ছড়াচ্ছেন, তাঁরা হয়তো নিয়মিত ডিম-ভাত না খেয়েই পুষ্টির অভাবে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় ভুগছেন। বছরের পর বছর ব্রিগেডে সভা হলেই বাড়ি বাড়ি থেকে হাত-রুটি জোগাড় করতেন কমরেডরা। শুকনো রুটির সঙ্গে আলু-বেগুন ভাজা থেকে ঝোলা গুড়, তখন ব্যাজার মুখে তাই চিবোতেন ব্রিগেড ভরানো ‘মেহনতি মানুষের দল’। এখন ‘ডিম্ভাত’ খেলেই দোষ। যাঁরা ব্রিগেডে বসে ভাষণ শুনতে আগ্রহী ছিলেন, তাঁরা রুটি খেয়েও শুনতেন, যাঁরা না শোনার, তাঁরা ‘ডিম্ভাত’ খেয়েও চিড়িয়াখানায় শিম্পাঞ্জি দেখতে যান।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

উন্নয়নের ছোঁয়ায় নাকি গ্রামের মাটির রাস্তা পিচের হয়েছে। মাটির বাড়ি পাকা হয়েছে। তা হলে রুটি থেকে ডিম-ভাত হলে, কীসের দোষ? কেষ্টদা আসলে ঠিকই বলেন, বিরোধীরা উন্নয়ন চোখে দেখে না। এমন তো নয় যে, চৌত্রিশ বছরে ডিমের সাপ্লাই কম ছিল। আবার এমনও নয় যে লক্ষ, লক্ষ মানুষকে ডিম খাওয়াতে গিয়ে বাজারে ডিমের আকাল হয়েছে। পোলট্রির ডিমের দাম রাতারাতি কুড়ি টাকা জোড়া হয়ে গিয়েছে। তার উপরে সরকারি বিজ্ঞাপনেই তো বলা হতো, ‘সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খাও আন্ডে’। তা হলে ‘ব্রিগেড ডে’-তে ডিমের ডালনা আর ভাত খাওয়ালে এত কথা কীসের?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে এমনই সব মিম।

গরম ভাতে ডিমের ঝোল, সঙ্গে এক টুকরো আলু। শুনতে যতই সাধারণ হোক না কেন, শীতের দুপুরে খিদের পেটে টিভির পরদায় গরম ডিম-ভাতের ছবি ভেসে উঠলে নিজের অজান্তেই অনেকের জিভ সুড়সুড় করে উঠবে। গত দু’-তিন ধরে তৃণমূলের কর্মী শিবিরের রান্নাঘর থেকে অনর্গল ডিম-ভাত খাওয়ার ছবি বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে বারবার দেখা গিয়েছে। যাঁরা সারা বছর ডিম-ভাতকে হ্যালাফ্যালা করেন, অনর্গল টিভির পর্দায় আর ফেসবুকে দেখতে দেখতে তাঁদের ডিম-ভাতের প্রতি এক অদম্য আকর্ষণ জন্মাতেই পারে। তাই ডিম-ভাতের মিম হোয়াটসঅ্যাপে চালাচালি না করে বরং এক থালা ডিম-ভাত খেয়ে রাগ মিটিয়ে নিন। খামোখা যাঁরা ডিম-ভাত খেয়েছেন, তাঁদের বিদ্রুপ করা কেন? ব্রিগেডের সভার পরে আলিপুরের ‘সৌজন্যে’ বসে দেশের তাবড় নেতারাও তো মহার্ঘ্য পদ চেখেছেন। আর ব্রিগেড ভরানো জনতা ডিম-ভাত খেলেই যত রাগ!

এ বার একটু অন্যদিকটাও ভাবুন। গোটা কলকাতার পাইস হোটেলগুলিতেও মাছ-ভাত বা মাংস-ভাত খাওয়ার সামর্থ্য হয় না যাঁদের, তাঁদের কাছেও আমিষ খাবার বলতে একমাত্র ভরসা সেই সস্তার ডিম-ভাত। তাই ‘ডিম্ভাতের’ অমোঘ আকর্ষণ সবার কাছেই রয়েছে। নিছক পেট ভরানোর জন্য হোক অথবা মিছিলে হাঁটার টানে। ডিমে অ্যালার্জি থাকলে অবশ্য অন্য কথা!

দেবময় ঘোষ: ছোটাছুটি করে খবর সংগ্রহ প্রথম পছন্দ। ট্রেন থেকে টোটো— পরিবহণ সংক্রান্ত খবরে বিশেষ আগ্রহ।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -