SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

কলকাতায় অনেক ভূত, অনেক বাড়ি ভৌতিক, খোঁজ মিলল বইমেলায়

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯
```` Comments
আদ্যিকালের শহরে রাত নামলেই জেগে ওঠে কারা! একবার জেনে নেবেন নাকি? 

‘এ কলকাতার মধ্যে আছে আরেকটা কলকাতা’। কবি শঙ্খ ঘোষের অতি বিখ্যাত লাইনটি ছুঁয়ে একবার নতুন করে কলকাতাকে চিনে দেখতে পারেন। সারা দিনের জ্যাম, হকারদের চিৎকার, ভিড়ে ঠাসা মেট্রো, বাস, ট্রেনের চেনা ছবির উলটো দিকে সেই শহর। আদ্যিকালের শহরে রাত নামলেই জেগে ওঠে কারা! একবার জেনে নেবেন নাকি? 

সত্যিই কি মৃত্যুর পরে মায়ার টানে ফিরে আসে মানুষ? ছবি: শাটারস্টক

ধরা যাক, আপনি পৌঁছে গিয়েছেন মিউজিয়ামের কাছে। ১৮১৪ সালে স্থাপিত ‘ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম’। তার পাশের রাস্তাটির নাম সদর স্ট্রিট। যেতে যেতে হঠাৎ কথা কাটাকাটি ও গুলির শব্দ শুনলে কিন্তু সাবধান! একদা এখানেই এক শিখ যুবককে গুলি করে মেরেছিল নৈশ প্রহরী। সে আজকের কথা নয়। সেই কবে, ওই এলাকার বাসিন্দা স্পিক সাহেবের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল ওই শিখের। কী এক আর্জি ছিল তাঁর। কিন্তু সাহেব তা মেনে নেননি। সেখান থেকেই গণ্ডগোল। যার পরিণতি মর্মান্তিক মৃত্যু। সেই মৃত যুবক আজও ফিরে ফিরে আসেন শহরের রাজপথে।

কেবল ওই রাস্তাই নয়। রাতে নাকি সাদা চাদর মুড়ি দেওয়া কোনও অচেনা আগন্তুক মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে মিশে যান শহরের অন্দরে। মিউজিয়ামে থাকা মমির আত্মাই কি সাদা চাদরে শরীর মুড়ে দেখা দেন, প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি। 
 

কলকাতা মিউজিয়ামে মমির ঘর। ছবি: কলকাতা মিউজিয়ামের উইকিপিডিয়া

কিংবা ধরুন আপনি ভোরের দিকে মল্লিক ঘাটে। চোখের সামনে গঙ্গার বিপুল উপস্থিতি। হঠাৎই জলের ভিতর থেকে কারও হাত উঁকি মারতে লাগল। যেন ডুবে যাওয়ার আগে শেষ খড়কুটো খুঁজছে কেউ। খবরদার! ওই হাত কোনও জীবিত মানুষের নয়। আপনি একবার লাফ দিয়ে পড়লেই সব শেষ। আপনাকে ওই হাতের মালিক নিয়ে যাবে সেই জগতে, যেখানে গেলে আর ফেরা যায় না। কেবল ফেরার আকুতিটুকু থেকে যায়। 

শেষ রাত বা মধ্য রাত নয়। মনে করুন, রবীন্দ্র সরোবর স্টেশন থেকে দিনের শেষ ট্রেনে উঠেছেন। চোখের সামনে হঠাৎই সরে যেতে পারে কোনও এক রহস্যময় ছায়া! এমনকী, জানলা দিয়ে তাকালে চোখে পড়ে যেতে পারে অন্য কোনও ফাঁকা স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় কোনও ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে!

বছর তিনেক আগের কথা। পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা শহরবাসী, বলা যায় রাজ্যের মানুষের মনে। কলকাতার গণেশ টকিজ-পোস্তা অঞ্চলে নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের ওই দুর্ঘটনার পরে ওই এলাকায় নাকি রাতের দিকে কেউ কেউ জল চান। কিন্তু জল দিতে গেলেই দেখা যায়, কেউ নেই! গল্পের বইতে পড়া ভৌতিক ঘটনার জলছাপ পড়ে গিয়েছে এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই দুর্ঘটনায় মৃত মানুষেরা ফিরে আসেন রাতের শহরে। 

উপরে বলা সব ঘটনা আমি পেয়েছি উপমন্যু রায়ের লেখা ‘অশরীরী আতঙ্ক পৃথিবীর রহস্যময় ঠিকানা’ বইটি থেকে। সত্যিই কি ভূত বলে কিছু আছে? মৃত্যুর পরে কি ফিরে আসেন মৃত মানুষেরা? এই তর্ক আবহমানের। মজার কথা হলো, কেউ ভূতে বিশ্বাস করেন। কেউ বা করেন না। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাঁরা ভূতে বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিয়ে দোলাচলে থাকলেও ভূতের ভয় তাঁদের ষোলো আনা। আর সেই ভয় কেবল পোড়ো বাড়ির অন্ধকার ঘর বা কুয়াশা মাখা কবরখানায় আটকে নেই। আলো ঝলমলে শহরেও যে কত রকম অলৌকিক কাহিনি ছড়িয়ে আছে, তার ইয়ত্তা নেই। 

কলকাতা বইমেলায় মিলবে ২১৭ নম্বর স্টলে। নিজস্ব চিত্র

উপমন্যুর বইতে অবশ্য কেবল কলকাতার ভূতের হদিশই নেই। বলতে গেলে সারা পৃথিবী জুড়েই ভূত খুঁজে বেরিয়েছেন লেখক। কলকাতার ভূতের যে ক’টা ঘটনা লেখা হল, তাও নেহাতই হিমশৈলের চূড়া। গোটা বই জুড়ে কলকাতা সহ সারা দুনিয়ার ভূত কিলবিল করছে। রাতের অবসরে (অন্য সময়েও পড়া যাবে, তবে তেনাদের সঙ্গে রাতের সম্পর্ক বড়ই নিবিড় কিনা) বইটির পাতায় চোখ বোলালে সেই সব ভূতেদের সঙ্গে আলাপ পরিচয় করা যাবে। একবার পাতা উলটে দেখতে পারেন। 

পেশায় সাংবাদিক, নেশায় গল্পকার। ভালবাসেন রোমাঞ্চকর খাওয়া-দাওয়া। ভালবাসেন কল্পবিজ্ঞান, ভূতের গল্পও।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -