SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

কেচ্ছায় মেয়র, অসহায় নগরপাল, কলকাতাই যেন আজ হাসির খোরাক

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯
```` Comments
শোভন এবং রাজীবের ক্ষেত্রে অবশ্য আরও অন্য একটি মিল রয়েছে। দু’ জনেই মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং প্রিয় ছিলেন।

এক জন শহরের সদ্য প্রাক্তন মহানাগরিক। অন্য জন শহরের নগরপাল। প্রথম জন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং দ্বিতীয়জন রাজীব কুমার। কয়েক মাসের ব্যবধানে কলকাতার নগরজীবনের গুরুদায়িত্বে থাকা দুই ব্যক্তিত্বই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন। তবে যে কারণে তাঁরা সংবাদ শিরোনামে উঠে এলেন, তা তাঁদের পদের গরিমার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। 

শোভনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের কেচ্ছা, রাজীবের ক্ষেত্রে আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রমাণ লোপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ। শহর কলকাতার দুই শীর্ষ নাগরিকই অল্প সময়ের ব্যবধানে হয়তো বা শহরের মাথা হেঁট করিয়ে দিলেন।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

শোভন এবং রাজীবের ক্ষেত্রে অবশ্য আরও অন্য একটি মিল রয়েছে। দু’ জনেই মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং প্রিয় ছিলেন। তাই শোভনের পারিবারিক কেচ্ছা নিয়ে প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন চর্চা চললেও তাঁকে সময় দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কঠিন সিদ্ধান্তটা শোভনই নিয়েছিলেন। নিজের পদ থেকেই সরে দাঁড়ান তিনি। তার আগে অবশ্য শহরের প্রথম নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনের দৈনন্দিন কেচ্ছা টিভি সিরিয়ালের রসালো গল্পের মতো বাসে, ট্রামে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা আর হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

সারদা কাণ্ডে রাজীবের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠলেও নিজের পদেই বহাল থেকেছেন নগরপাল। তাঁর হয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এর পরে যা হওয়ার তাই হয়েছে। দুর্গাপুজোয় ভিড় সামলানোর মতো নগরপালের বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে সিবিআই অফিসারদের আটকেছে পুলিশ। রাজীব কুমারের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সারসত্যটা হয়তো মমতাই বলেছেন, ‘‘নগরপালের বাড়িতেই যদি এভাবে গোয়েন্দারা হানা দেন, তাহলে তো গোটা বাহিনীর মনোবলই ভেঙে যাবে!’’ সত্যিই তো, লক্ষ লক্ষ মানুষকে যাঁর নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, কার্যত তাঁকেই নিরাপত্তা দিতে ছুটে যেতে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে। 

রাজীব কুমার সত্যিই অভিযুক্ত কি না, তা সময় বলবে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমজনতা চর্চা করবেন কেন, তাও তর্কস্বাপেক্ষ। কিন্তু যে পদে তাঁরা ছিলেন, তার প্রতি কি সুবিচার করলেন শোভন এবং রাজীব? বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে পারিবারিক জীবনের কেচ্ছা প্রকাশ্যে আনার জন্য শোভন নিজেও অনেকাংশে দায়ী। আবার রাজীব কুমার নিজের মেধায় আইপিএস অফিসার হয়েছেন। কর্মজীবনে দক্ষতার সঙ্গে অনেক গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। দু’ জনের ক্ষেত্রেই তাঁরা পদ এবং যোগ্যতার কথা ভেবে নিজে থেকে অনেক আগে সরে যেতে পারতেন, অথবা তাঁদের সরিয়েও দেওয়া যেত। বিতর্ক এবং অভিযোগমুক্ত হয়ে ফিরলে তাঁদেরই মান বাড়ত। কিন্তু অত সহজ অঙ্কে রাজনীতি চলে না। তাই গোটা দেশ-দুনিয়া হাসলেও কেচ্ছা-বিতর্ক নিয়েও পদে আসীন থাকেন শোভন, রাজীবরা। টিভিতে, সংবাদপত্রে এসব দেখে শহরবাসীও হাসেন, হয়তো বা নিজেদের অজান্তেই লজ্জায় মাথাও হেঁট হয়ে যায় তাঁদের।

শোভন, রাজীবরা নিয়ম মেনেই পদ থেকে চলে যাবেন। তাঁদের কেচ্ছা, বিতর্কে হয়তো সরাসরি শহরবাসীর নিত্যজীবনে কোনও প্রভাব পড়ে না। শুধু সম্মানহানি হয় তাঁদের চেয়ারগুলির। মহানাগরিক, নগরপাল পদের যে সম্ভ্রম ছিল, আমজনতার চোখে সেটুকুও থাকল তো?

দেবময় ঘোষ: ছোটাছুটি করে খবর সংগ্রহ প্রথম পছন্দ। ট্রেন থেকে টোটো— পরিবহণ সংক্রান্ত খবরে বিশেষ আগ্রহ।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -