SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

এবার তো অমাবস্যা, একাদশীর দিনেও রাজ্যে ছুটি, বাংলা এগিয়ে দেশের মধ্যে

নভেম্বর ১৪, ২০১৮
```` Comments
সরকারি ছুটির দিনের তালিকায় এই রকম হলে ক্ষতি কী? আমাদের রাজ্য তো এগিয়ে সবার থেকে!

ছুটি। ছুটি। ছুটি। ছটের ছুটি নিয়ে আবার খিল্লি নানা মহলে। ছুটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা যে গর্ব করার মতো একটি তথ্য হাতের সামনে পাচ্ছেন, তার হদিশ ক’জন রাখেন।

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই দিঘার সৈকতে ছুটে চলে গেলেও, তাঁদের কেউ কেউ আবার পরিচিত জনের কাছে মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছেন। ছুটির কথা তুললেই মুখে লাজুক হাসি। রাজ্য সরকারের ছুটির কথা বললেই নাকি তাঁদের কেউ ‘মিষ্টি মুখে জুতোর বাড়ি’ মারছে বলে মনে হচ্ছে।

তবে গর্ব করার মতো তথ্য হল, আর কিছু হোক না হোক দেশের মধ্যে বাংলা প্রথম সারিতেই রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমেই খবর, রাজস্থানে যখন ৩০ দিন, মহারাষ্ট্রে ২৩ দিন, গুজরাতে ২৯ দিন, ছত্তীশগড়ে ২১ দিন, অসমে ৩৫ দিন ছুটি তখন পশ্চিমবঙ্গে এ বছরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ৪০ দিন ছুটি পেয়েছেন। সরকারি সূত্রেই নাকি দাবি করা হচ্ছে ২০১৯ সালে সেই দিনের সংখ্যা আরও দু’দিন বাড়বে। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

দাদাদের রাজ্যের থেকে দিদির রাজ্য যে এগিয়ে রয়েছে তা এক পলকে সরকারি ছুটির তালিকা দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

শিল্প-টিল্প না হোক, ছুটির নিরিখেই না হয় এক নম্বর হওয়া গেল দেশে। এর থেকে কম গর্বের বিষয় আর কী হতে পারে!

জামাইষষ্ঠীতে হাফ ছুটি, ছটের দু’দিন ছুটি, বিশ্বকর্মা পুজোতেও হাফ দিন, আর দুর্গা পুজোতে তো কথাই নেই। রাজ্য উৎসবে আছে আর নবান্ন ছুটিতে। উৎসবের ছুটি নিয়ে কারও মনে কোনও রাজনীতির সুযোগ নেই। এখানে সর্বধর্ম সমন্বয়। 

এ বার অমাবস্যা, একাদশী কিংবা পূর্ণিমার উপোস করলেও ছুটি দেওয়া চালু হয়ে যাক তবে। ওটাই বা বাকি থাকে কেন?

তালিকায় এখনও কিছু ছুটি বাকি আছে, তবে সেগুলিও যে অচিরেই ঢুকে যাবে নবান্নের নোটিশে, তা নিয়ে অনেকের মনে আর সন্দেহ নেই।

বেশি কথা বলা অবশ্য উচিত নয়। সরকারি কাজ চুলোয় উঠুক। কিন্তু বলতেই হবে যে, কর্মসংস্কৃতি এ রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গেই ফিরে এসেছে। কর্মদিবস নষ্ট হয় না আর। বন‌্‌ধের দিন কান ধরে যখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অফিসে নিয়ে আসা হয়, তখন তো কর্মসংস্কৃতিরই ধ্বজা উড়ে বেড়ায় জেলা থেকে শহরে।

দুর্জনেরা অবশ্য বলেন ডিএ-র মতো বকেয়া পাওনা নিয়ে কেউ যাতে ‘ঘেউ ঘেউ’ না করেন, তার জন্যই এই ছুটির-সংস্কৃতির আমদানি।

রাজ্য মেলায়, কর্মচারীরা ছুটিতে আর রাজ্যবাসী উৎসব উদযাপনে মেতে থাকলে লাভের গুড় তো ভোটের বাক্সেই এসেছে। আসবেও হয়তো ভবিষ্যতে।

খবর তো অনেকেই লেখেন, খবরের পিছনের খবর খোঁজা নেশারুদের অন্যতম। লালগড় থেকে লন্ডন, টেক্সট বুক থেকে ফেসবুক সব নিয়েই সমান কৌতূহল।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -