SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

নীল-সাদা ও গেরুয়া যুগে কারা বয়ে চলে ‘লাল’ পতাকা

নভেম্বর ২৯, ২০১৮
```` Comments
এক দিকে সারা দেশ জুড়ে গৈরিকীকরণের ঢেউ, অন্যদিকে রাজ্যে নীল-সাদার আধিপত্য। এর মধ্যেই এক চিলতে লাল এল কোথা থেকে?

২৯ নভেম্বর যখন দিল্লিতে সারা ভারত কিষাণ সংঘর্ষ কমিটির প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কৃষকরা, তখনই দক্ষিণবঙ্গে হঠাৎই ঝলসে উঠল এক চিলতে লাল আগুন! এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অবশ্য কেন্দ্রীয় প্রতিবাদেরই অঙ্গবিশেষ, কিন্তু ধর্মতলায় সারি সারি গ্রাম থেকে আসা মুখ, শয়ে শয়ে লাল টুপি দেখে প্রশ্ন জাগে— এখনও লাল পতাকা বয়ে নিয়ে চলেছেন কারা? 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

যে কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক-কর্মীদের কাছেই দলীয় পতাকা, জাতীয় পতাকার মতোই সম্মানীয়। বামপন্থীরা লাল পতাকা নিয়ে আবেগপ্রবণ হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পতাকাগুলির সঙ্গে ‘লাল’ পতাকার কিঞ্চিৎ পার্থক্য রয়েছে। কারণ, এই পতাকা আন্তর্জাতিক এবং এর উৎপত্তি ও বিবর্তনের ইতিহাস প্রায় ১৭০ বছর পুরনো। 

১৮৪৮ সালে ফ্রান্সের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কাল থেকেই বেশিরভাগ সমাজবাদীরা এই রংকে তাঁদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৮৭১ সালে পারী কমিউন থেকে লাল পতাকা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ১৯১৭ সালে রুশদেশের নভেম্বর বিপ্লব, ১৯৪৯ চিনের জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে ১৯৫৯ সালে কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর অভ্যুত্থান— লাল পতাকাই ছিল রাজনৈতিক আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। 

১৮৪৮ সালে অঁরি ফেলিক্স ইমানুয়েল ফিলিপ্পোতাও-এর আঁকা ছবিতে লাল পতাকা

এ দেশে লাল পতাকার ইতিহাস প্রায় একশো বছরের— সাংগঠনিক ভাবে ১৯২৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিষ্ঠা থেকে। এর পরে বহুবিভক্ত হয়েছে ভারতীয় বামপন্থী দলগুলি, পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধাচারণ করেছে প্রকাশ্যে। কিন্তু অনন্ত দ্বন্দ্ব-আঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে, কখনও গেরুয়াবাহিনী, কখনও সবুজ অথবা আঞ্চলিক নীল-সাদা-রংবেরঙের কাছে রাজনৈতিক ভাবে পরাস্ত হতে হতেও কীভাবে যেন এখনও ‘টিকে’ রয়েছে এই পতাকার সেন্টিমেন্ট। 

বামফ্রন্টের ভোট শতাংশ যখন কমতে কমতে তলানিতে এসে ঠেকেছে, প্রায় সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে, তখন কী ভাবে সংগঠিত হলেন হাজার হাজার মানুষ? না হলে যে সময়ে রাজ্যে ক্ষমতাসীন এক আগ্রাসী দক্ষিণপন্থী দল, যে সময়ে সারা দেশ জুড়ে করপোরেট তৎপরতায় চলেছে জনমানস-মাস মিডিয়ার গৈরিকীকরণ, সেই সময় কী ভাবে হঠাৎ লাল পতাকায় ঢেকে গেল সিঙ্গুরের আকাশ? এই সেই সিঙ্গুর, যেখানে ২০০৮-এ রাজ্য দেখেছিল রাজনৈতিক পালাবদলের ‘পালা’। সেই সিঙ্গুর থেকে পায়ে হেঁটে, লাল পতাকা বয়ে, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে পা মিলিয়ে কলকাতায় এলেন যাঁরা, তাঁরা কি জানেন, নিঃশব্দে কী বিপ্লব ঘটিয়ে ফেললেন? 

সিঙ্গুর থেকে মিছিলে জনতা। ছবি: নিজস্ব

এই সময় বলে রাজনীতিতে ‘লাল’ নিষিদ্ধ! লাল হতে পারে প্রেমিকার দামি লিপস্টিকের রং, লাল হতে পারে নববধূর সাজসজ্জা অথবা নিদেনপক্ষে যৌনপল্লির নিষিদ্ধ আভাস। কিন্তু যে মাটির মানুষ এক দিন দু’পায়ে মাড়িয়ে গিয়েছিল এই রং, দিনের আলোয় ‘লাল’ পতাকা নিয়ে সেই মাটি দিয়ে হেঁটে যেতে আর কিছু না হোক— বুকের পাটা লাগে!

এই চওড়া বুকের পাটাসমেত সমর্থকরা যদি ‘সত্য’, তবে রাজনীতির ময়দানে বামফ্রন্ট এখনও এত ফিকে কেন? যদি মার খেতে খেতেও উঠে দাঁড়ানোর মতো মানুষ সঙ্গে রয়েছেন, তবে কি যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই দিকভ্রষ্ট বাম রাজনীতি? নাকি এই সমাবেশ লোক-দেখানো, অনেকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মতোই। ফুলকির মতো ফুরিয়ে যাবে এই লাল আগুন?    

শাঁওলি দেবনাথ: কফি ও ক্যাফে অন্ত-প্রাণ। সুদূরের পিয়াসী আবার প্রিয় গান, প্রিয় সিনেমা, প্রিয় বই ও প্রিয় খাবার সহযোগে ঘরকুনো হতে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -