SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

অলক্ষ্মী বিদায় ছেড়ে ধনতরসের লাইনে। বাঙালির হলটা কী

নভেম্বর ৫, ২০১৮
```` Comments
এতদিনের ছবি ধাঁ করে পালটে গিয়েছে গত কয়েক বছরে। বাঙালি ধনতেরসে লাইন দিয়েছে সোনার দোকানে। কিন্তু কেন?

বাঙালির হুজুগেপনা নিয়ে সেই কবে হুতোম কলম ধরেছিলেন। বাঙালি আড়ে বহরে যতই বদলাক, এই হুজুগপ্রবণতাকে আজও ত্যাগ করতে পারেনি। বরং যত দিন গিয়েছে আরও আঁকড়ে ধরেছে। তার চরিত্রের সঙ্গে কে যেন ‘ট্যাগ’ করে দিয়েছে হুজুগকে। ধনতেরসের দিনে কথাটা বলার উদ্দেশ্য বোঝা কঠিন নয়। বাঙালির ‘হুজুগ হুজুগ’ খেলা পৌঁছে গিয়েছে চরমে। বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল, কালী পুজোর আগের দিনে কুবের বন্দনায় মেতে উঠছে বাঙালি। অথচ, তার আগে কিন্তু কোনও দিন ধনতেরস নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা ছিল না। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আরও আছে। যেমন গণেশ পুজো নববর্ষেই করে ফেলত তারা। মূলত ব্যবসায়ীরাই। কিন্তু এখন এসে গিয়েছে গণেশ চতুর্থীর ধামাকা। বিশ্বকর্মা পুজোর ঠিক আগে আগে রীতিমতো লাইটিং, প্যান্ডেলে জমজমাট ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’। একটু দাঁড়ান, ‘করবা চৌথ’ও এসে পড়ল বলে। যশ চোপড়াদের দৌলতে তার নিয়মকানুনও আমাদের দিব্যি মুখস্ত।

যাই হোক, ধনতেরসে ফিরে আসি। এটা  অবাঙালিদের প্রথা। বাঙালি হিন্দুরা অবশ্য কালীপুজোর সময়ে ধনসম্পদ প্রার্থনা করত। কিন্তু অন্য পুজোয়। ঘটিদের দীপান্বিতা কালী পুজোর দিনে লক্ষ্মীপুজো। অলক্ষ্মীকে ‘মার ঝাড়ু মার, ঝাড়ু মেরে ঝেঁটিয়ে বিদেয়’ করার পালা।  আর বাঙালদের কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা। এ ভাবেই চলছিল। কিন্তু এত দিনের ছবি ধাঁ করে পালটে গিয়েছে গত কয়েক বছরে। বাঙালি ধনতেরসে লাইন দিয়েছে সোনার দোকানে। সোনা-রুপো বা যে কোনও ধাতু— মোদ্দা কথা সম্পদ কিনতে হবে। তবেই তুষ্ট হবেন কুবের দেবতা। আর ধনরত্ন বর্ষিত হবে বাঙালি হিন্দুর ছপ্পড় ফড়কে। 

ট্রেনে-বাসে-অফিসে, কাজের বিরতিতে, এ নিয়ে তো আমরা সবাই এই নিয়ে কত কথাই বলি। আর পকেট ফাঁকা করার চক্কর ভেবে দাঁত কিড়মিড় করি। তার পরই আচমকা ফোন আসে। 

‘‘স্যার, আমি অমুক জুয়েলার্স থেকে বলছি। ধনতেরসে আপনার নিমন্ত্রণ রইল। এসে প্লিজ আপনার গিফটটা নিয়ে যাবেন।’’

একেবারে মোক্ষম ফুলটস। সেই কোন আদ্যিকালে চেতন শর্মা এমনই একটা বল করে ছক্কা খেয়েছিলেন। হিরো হয়েছিলেন মিঁয়াদাদ। আপনি-আমিও রাতারাতি এমন ফুলটস পেয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ফেলি। পুরো গ্যালারিতে। আমরা কলার তুলি। আর অদৃশ্য চিয়ার লিডাররা নেচে ওঠে। দুলে ওঠে তাদের সোনালি বসন। সোনালি মানে সোনা।

শুধু তো গিফট আনতে যাওয়া যায় না। দু’ আনার গিফটের সঙ্গে বারো আনা (মায় ষোলো আনা পর্যন্ত) খরচ করে সম্পত্তি ক্রয়। দেখো হে বাবা কুবের। আমার মানিব্যাগ যেন হিমালয়-সম হয়ে ওঠে। 

সবাই যে ফোন পায়, তা নয়। কিন্তু পথেঘাটে হাঁটতে চলতে হোর্ডিং। ধনতেরসে বিশেষ ছাড়। কাগজে। টিভিতে। রেডিওতে। নানা ভাবে, নানা রূপে ফুটে থাকে ছাড়ের খবর। সেই ছাড়ের খপ্পর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে পালাবার জো নেই। ছাড়ের ফাঁদ পাতা ভুবনে। ধরা পড়তেই হবে গুরু। 

আসলে আমরা সবজান্তা। এটা যে ব্যবসায়ীদের সুচতুর ফাঁদ, তা বুঝতে আমাদের বাকি নেই। তবু এ মোহ বড় মোহ। ছাড়ুন তো, অত ভেবে কী হবে? আসুন ‘ফিলিং বিউটিফুল অ্যাট অমুক জুয়েলার্স উইথ ওয়াইফ’ ছবি দিয়ে  ফেসবুক ভরিয়ে তোলা যাক। 

বিশ্বদীপ দে: পেশায় সাংবাদিক, নেশায় গল্পকার। ভালবাসেন রোমাঞ্চকর খাওয়া-দাওয়া। ভালবাসেন কল্পবিজ্ঞান, ভূতের গল্পও।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -