SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali
হক কথা

পর্ন সাইট বন্ধ করতে সব রকম ভাবে চেষ্টা করা উচিত

অক্টোবর ১৪, ২০১৮
```` Comments
অন্যান্য প্রাণীর যৌনতা শুধুই শারীরিক চাহিদায়, সেখানে মনের কোনও ভূমিকা নেই। মানুষের যৌনতায় ‘মন’ নামক বিষয়টির অসীম ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু পর্নোগ্রাফি ‘প্রেম’-কেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে!

এবেলা.ইন-এর সাংবাদিক সুস্নাত চৌধুরী ‘‘‘পানু’ সাইট বন্ধ! এই অপচেষ্টা কখনওই সমর্থন করা যায় না’’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ লিখেছেন, যার মূল বিষয় হলো ‘পর্নোগ্রাফিকে ব্যান করা উচিত নয়’। লেখক পর্নোগ্রাফিকে কেন ব্যান করা উচিত নয়, সেই নিয়ে নানাবিধ যুক্তি সাজিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকাংশে আলোচনার এবং বিরোধিতার জায়গা রয়েছে।

সেই লেখাটির লিংক

লেখক প্রথমেই বলেছেন যে খাদ্য, শিক্ষা, বাসস্থানের মতো যৌনতাও মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ‘‘যে কাজ অন্যের ক্ষতিসাধন করে না, তেমন কাজের মধ্যে দিয়ে যৌনতায় রত হওয়ার রাস্তা থাকলে সেই অধিকার প্রত্যেক মানুষেরই থাকা উচিত’’। এইখানেই অনেকগুলো প্রশ্ন ওঠে। ‘‘যে কাজ অন্যের ক্ষতিসাধন করে না’’— পর্নোগ্রাফি দেখা কি সমাজের ক্ষতিসাধন করে না? বিষয়টা মনে হয় এতটা সরল নয়। মানুষের যৌনতা এবং অন্যান্য প্রাণীর যৌনতার মধ্যে একটা বেসিক তফাত রয়েছে। মানুষের একটা উন্নত মস্তিষ্ক আছে। সেই মস্তিষ্কের চিন্তা করার ক্ষমতা আছে। সে জন্যই মানুষ সুন্দর-অসুন্দর, ভালো-মন্দ, ন্যায়-নীতিবোধের ধারণা তৈরি করতে পেরেছে। ঠিক এই কারণেই মানুষের মধ্যে ‘প্রেম’ নামক বিষয়টির অস্তিত্ব আছে, যেটা অন্য কোনও প্রাণীর মধ্যে নেই। অন্যান্য প্রাণীর যৌনতা শুধুই শারীরিক চাহিদায়, সেখানে মনের কোনও ভূমিকা নেই। মানুষের যৌনতায় ‘মন’ নামক বিষয়টির অসীম ভূমিকা রয়েছে।

পর্নোগ্রাফি ‘প্রেম’ নামক বিষয়টিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে, বা বলা ভাল পর্নোগ্রাফি প্রেমের অস্তিত্বেই বিশ্বাস করে না। কিছু মানুষ শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদায় যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে কোনও প্রেম, ভালবাসা বা মানবিক সম্পর্ক নেই। এখানেই মানুষের যৌনতা অন্যান্য প্রাণীর যৌনতার স্তরে নেমে যাচ্ছে। আপনাদের স্মরণ করাই, আসিফা ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের পর একটা স্ক্রিনশট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। সেই স্ক্রিনশটে দেখা যায়, একটি জনপ্রিয় পর্নোগ্রাফির সাইটের ‘ট্রেন্ডিং ভিডিও’ সেকশনে নাম রয়েছে আসিফার! এর মানে কী? একটি বাচ্চা মেয়েকে কী ভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল, সেটা দেখতে চেয়েছে বহু মানুষ, যে কারণে সেটি ট্রেন্ডিং হয়। একটি বাচ্চা মেয়ের নৃশংস ধর্ষণের ভিডিও-ও যখন যৌন উত্তেজক হিসাবে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারকারী মানুষদের কাছে ব্যবহৃত; তখন বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে সমস্যাটা ঠিক কতটা গভীর।

‘কনভেনেন্ট আইজ’ নামক একটি সংস্থা সাঁইত্রিশ পাতার একটি রিপোর্ট পেশ করেছে পর্নোগ্রাফি নিয়ে। এ ছাড়াও একাধিক সংস্থা এই বিষয়ে নানা রিপোর্ট দিয়েছে অতীতে। তাতে যা তথ্য উঠে এসেছে, তা যথেষ্ট ভীতিপ্রদ। কয়েকটি যেমন— 

১) পর্নোগ্রাফি ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘রেপ মিথ’-কে বিশ্বাস করার প্রবণতা ৩১% বৃদ্ধি পায়। কী এই ‘রেপ মিথ’? ধর্ষণের জন্য ধর্ষিতাকে দায়ী করা এবং ধর্ষণের ঘটনা যে অপরাধ, তা অস্বীকার করার মানসিকতাই হলো ‘রেপ মিথ’।

২) কিছু কলেজ পড়ুয়ার উপরে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে যাঁরা পর্নোগ্রাফি দেখে, ধর্ষিতার প্রতি তাঁদের ব্যবহার অধিকাংশ ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপমানজনক হয়। 

৩) কিছু কলেজ পড়ুয়ার উপরে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, যে সমস্ত ‘মহিলা’ কম বয়স থেকে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, তাঁদের অধিকাংশের ‘রেপ ফ্যান্টাসি’ থাকে এবং তাঁদের আচার-আচরণ মহিলাদের উপরে ঘটা যৌন হেনস্থার ঘটনাকে সমর্থন করে।

৪) বিবাহিতা মহিলাদের উপরে সমীক্ষা চালিয়ে জানা গিয়েছে, যে সমস্ত মহিলার স্বামীরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, তাঁরা অনেকেই তাঁদের স্ত্রীদের যৌন হেনস্থা করেন। 

৫) নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখলে যৌন অপরাধ করার প্রবণতা ২২% বৃদ্ধি পায়। 

৬) নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখলে স্বাভাবিক যৌন চেতনা বদলে যাওয়ার প্রবণতা ৩১% বৃদ্ধি পায়। 

৭) যাঁরা পতিতালয়ে যাওয়ার জন্য গ্রেফতার হন, তাঁদের উপরে সমীক্ষা চালিয়ে জানা গিয়েছে তাঁরা সাধারণ পর্নোগ্রাফি দর্শকদের তুলনায় দ্বিগুণ পর্নোগ্রাফি দেখেন। 

৮) ইতালির কিছু টিনএজার স্কুলছাত্রের উপরে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে পর্নোগ্রাফি দেখা সরাসরি যৌনতা ঘটিত অপরাধ বৃদ্ধি করে এবং যে সমস্ত স্কুলছাত্র নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখে, তাদের মধ্যে অবাঞ্ছিত যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯) যে সমস্ত মানুষ ‘রেপ পর্ন’ দেখেন অর্থাৎ ধর্ষণের ভিডিও দেখেন, তাঁদের অধিকাংশ মনে করেন, বেশিরভাগ ধর্ষণের ঘটনা মিথ্যা এবং ধর্ষিতা বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন। 

১০) যে সমস্ত মানুষ ‘রেপ পর্ন’ দেখে তাদের অধিকাংশ মনে করে ধর্ষিতা ধর্ষণকে উপভোগ করেন। 

১১) বয়ঃসন্ধির কিছু ছেলেমেয়ে, যারা নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখে, তাদের উপরে সমীক্ষা চালিয়ে আরও ভয়াবহ কিছু তথ্য উঠে এসেছে— 

* এদের মানসিক প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক এবং আঘাতমূলক।
* এদের মধ্যে অনেকেই জীবনের শুরুতে প্রত্যক্ষ যৌন সংসর্গ করে এবং যৌন রোগে আক্রান্ত হয়। 
* বয়ঃসন্ধিতে থাকা যে সমস্ত ছেলেমেয়ে নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখে, তাদের মনে ধারণা জন্মায় যে। যৌন আনন্দ পেতে গেলে তাদের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রতি কোনও রকম প্রেম, ভালবাসা বা মানবিক সম্পর্ক থাকার দরকার নেই।
* মানুষের যৌনজীবন নিয়ে এদের মধ্যে বহু ভুল ধারণা গড়ে ওঠে। পর্নোগ্রাফিতে দেখা বহু অসত্য বিষয় এরা সত্যি বলে মনে করে। 
* টিনএজারদের ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফি সরাসরি যৌন অপরাধ এবং যৌন হিংসা বৃদ্ধি করে।
 
১২) পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষরা মানবিক সম্পর্কবিহীন যৌন সংসর্গে অনেক বেশি লিপ্ত হন, অর্থাৎ বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কেও এঁরা বেশি যুক্ত থাকেন। 

১৩) যাঁরা পর্নোগ্রাফির নিয়মিত দর্শক, তাঁদের ৮৪% মনে করে অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও পর্নোগ্রাফি দেখতে দেওয়া উচিত। 

১৪) যে সমস্ত পুরুষ পর্নোগ্রাফির নিয়মিত দর্শক তাঁরা মনে করেন, সমাজে মহিলাদের পর্নোগ্রাফিতে দেখা মহিলাদের মতোই হওয়া উচিত এবং এঁরা এ-ও মনে করেন যে, সমাজের প্রত্যেক মহিলা যে কোনও সময়ে সমস্ত রকম যৌন আবেদনে সাড়া দেবেন।

কাজেই বলা যায় যে ‘‘পর্নোগ্রাফি দেখা অন্যের ক্ষতি করে না’’— এটা কখনওই সত্যি কথা নয়। আরও একটি বিষয় লেখক সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়েছেন। পর্নোগ্রাফি এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়েছে। একটি অনলাইন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি সর্বমোট ৯৭ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ডোনা রাইস হিউজেস যেমন মন্তব্য করেছেন, ‘‘অনলাইন পর্নোগ্রাফি ইজ দ্য ফার্স্ট কনসিস্টেন্টলি সাকসেসফুল ই-কমার্স প্রডাক্ট’’।

সারা বিশ্বে পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইটের সংখ্যা ৪.২ মিলিয়ন। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, গড়ে মাত্র ১১ বছর বয়সে একটি শিশুর পরিচয় ঘটে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে! পৃথিবীতে যত পর্নোগ্রাফি রয়েছে, তার মধ্যে বহু হিংস্র যৌন অপরাধের ভিডিও উপস্থিত। আর পর্নোগ্রাফির এই ব্যবসায় কী রকম শোষণ হয়, সেটা কিঞ্চিৎ গুগল করলেই জানা যায়। পর্নোগ্রাফির অভিনেতা, অভিনেত্রীদের অধিকাংশই যৌন রোগে আক্রান্ত এবং এঁদের মধ্যে ড্রাগস-সহ বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকারক নেশার দ্রব্য ব্যবহারের হারও অত্যন্ত বেশি। 

লেখক দাবি করেছেন, পর্নোগ্রাফি শিল্পের পর্যায়তেও পড়তে পারে। কোনটা শিল্প, কোনটা শিল্প নয়— সেটা সত্যিই কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। কিন্তু যে কোনও শিল্পই আসে অন্তরের তাগিদ থেকে। জোর করে মানুষকে দিয়ে আর যাই হোক, শিল্প সৃষ্টি করানো যায় না। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কেউ উপন্যাস লিখতে বাধ্য করেননি বা মান্না দে-কে কেউ গান করতে বাধ্য করেননি। সেখানে শুধুমাত্র কিছু মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে (হ্যাঁ, অসহায়তাই বলব, কারণ অধিকাংশ মানুষই বাধ্য হয়ে পর্নোগ্রাফি করতে আসেন। যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।) তাদের যৌনকর্মকে ব্যবসায়িক স্বার্থে কাজে লাগানোকে আর যাই হোক, ‘শিল্প’ বলা যায় না। বললে, সেটা শিল্পের অসম্মান হয়। এ বারে প্রশ্ন উঠতে পারে, তা হলে কি শিল্পের প্রয়োজনে যৌনতাকে ব্যবহার করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য যদিও যৌনদৃশ্য দাবি করে— তাহলে যৌনদৃশ্য থাকবে। যৌনতা মাত্রেই অশ্লীল বা বর্জনীয়— এ রকম চিন্তা কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়।

লেখক আরও বলেছেন ‘‘...প্রয়োজনে হোক বা স্ব-ইচ্ছায়, এক জন প্রাপ্তবয়স্ক এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, তা-ও একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ তা তাঁর মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপের শামিল’’। লেখককে প্রশ্ন, ঘরের মধ্যে বসে ব্যক্তিগত ভাবে যা-ই করা যায়, তাই-ই কি ঠিক? ভারতে আইনত পর্নোগ্রাফি দেখা অপরাধ নয়। কিন্তু কেউ যদি ঘরের মধ্যে শিশুসঙ্গমের ভিডিও দেখতে চান, তা হলে ‘‘সমাজ কেন চোখ রাঙাবে সে তার নিজের ঘরে বসে নিজের স্মার্টফোনে নিজের আয়কর দেওয়া পয়সায় ডেটা ভরে একা একা ইন্টারনেটে একটু ‘পানু’ দেখতে চাইলে?’’— কথাটা খাটে না। সমাজ কী বলল, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা, সমাজে তার কী প্রভাব পড়ল। নীতিপুলিশি করতে বলছি না বা নীতিপুলিশি সমর্থনও করছি না। কিন্তু যেটা প্রমাণিত ভাবে সমাজের ক্ষতি করছে, সেটাকে খারাপ বলব না কেন?

লেখক দাবি করেছেন, ‘‘ভারতের মতো দেশ, যেখানে ভিক্টোরীয় ঘরানার ঔপনিবেশিক খোঁয়াড়ি যৌনতার যাবতীয় অনুষঙ্গকেই এখনও ছুঁৎমার্গে মুড়ে রেখেছে, আজও বাবা-মা যেখানে সন্তানের সঙ্গে যৌনতার জরুরি বিষয়গুলি নিয়ে সামান্য আলোচনাতেও যেতে ইতস্তত করেন, ইস্কুলে যৌনশিক্ষা নিয়ে এত রকম হট্টগোলই শুধু সার— সেখানে পর্নোগ্রাফিই তবু পারে বয়ঃসন্ধির ছেলে-মেয়েগুলোর অপার কৌতূহল মেটাতে, গোপন সহজপাঠ হয়ে উঠতে। কানে ঠেকলেও এ কথা যে গড়পড়তা বিচারে খাঁটি সত্য, তা আমাদের অনেকেরই বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে দিতে পারে।’’ লেখকের এই কথাও অর্ধসত্য। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে ভারতে যৌনতা এখনও ট্যাবু। বয়ঃসন্ধিতে ছেলেমেয়েদের যে গাইডেন্স পাওয়া উচিত, তারা সেটা পায় না। ফলত পরবর্তীতে জীবনে যৌনতার সঠিক গুরুত্ব কী, সেটা তারা বুঝতে পারে না। সঠিক উত্তর পায় না বলেই উত্তরগুলো আসে পর্নোগ্রাফি এবং পর্নোগ্রাফিক মেটিরিয়াল থেকে— যা একেবারেই ভুল। মানুষের যৌন সম্পর্কের মাধুর্য বা সৌন্দর্য তারা প্রথম থেকেই বুঝতে পারে না। তাদের মনে প্রচুর ভুল ধারণা তৈরি হয়। ফলে পর্নোগ্রাফি ছেলেমেয়েদের বয়ঃসন্ধিতে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দেয়— সম্পূর্ণ ভ্রান্ত কথাবার্তা। আমরা সমাজে যৌনতা নিয়ে ট্যাবু দূর করার কথা বলতে পারি, বা বয়ঃসন্ধিতে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ওঠা প্রশ্নের উত্তর কী করে সঠিকভাবে দেওয়া যায়— তার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু পর্নোগ্রাফি তার সমাধান নয় কক্ষণও। 

পরিশেষে একটাই কথা বলার, মানুষ তার বেসিক ইম্পালসকে কন্ট্রোল করতে পেরেছে বলেই সে সভ্য। বেসিক ইম্পালস বা ন্যাচারাল ডিজায়ারকে কন্ট্রোল করা মানে কিন্তু যৌনতার মতো প্রাকৃতিক বিষয়কে চেপে রাখা নয়। জীবনে যৌনতার সঠিক গুরুত্ব বুঝতে শেখা। আর এই বেসিক ইম্পালস কন্ট্রোল করার বিষয়টি ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা চলছে সর্বত্র। পর্নোগ্রাফি তারই একটা অংশ। নীতিপুলিশি বা রিগ্রেসিভনেস নয়, সমাজের প্রগতি এবং মানবতার স্বার্থেই পর্নোগ্রাফির বিরোধিতা করা উচিত।

সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়: রসায়নের ছাত্র। বর্তমানে দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজের তৃতীয় বর্ষে পাঠরত। নানা ধরনের লেখালিখি করতে ভালবাসেন।

আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -