১৮২টি আসনের গুজরাত বিধানসভার জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল শনিবার। দু’দফা ভোটের পর গণণা হবে ১৮ ডিসেম্বর।

এই নির্বাচন মূলত নরেন্দ্র মোদী বনাম রাহুল গাঁধী বা বিজেপি বনাম কংগ্রেসের। এই প্রেস্টিজের লড়াইয়ে কে জিতবে তা নিয়ে যতটা চিন্তা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের, ততটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আঞ্চলিক দলেরও।

এই নির্বাচন নিয়ে কী ধরনের চিন্তায় রয়েছেন মমতা বা মোদী? একবার দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

• এই প্রথম নরেন্দ্র মোদী গুজরাতের মু্খ্যমন্ত্রী পদে না থেকে বিধানসভা নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খুবই কঠিন লড়াই। নোটবাতিল, জিএসটি, জাতপাতের অঙ্ক, পাতিদার আন্দোলন— সব নিয়ে জেরবার বিজেপি। মোদীও চিন্তায়।

• যদি বিজেপি এই নির্বাচনে হেরে যায় বা আগের বারের থেকে কম আসন পায়, তাহলে মুখ পুড়বে মোদী-অমিত শাহ। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির দাপট ধাক্কা খাবে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গাঁধীর দাপট বাড়বে।

• গুজরাতের পরে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সংগঠন বাড়ানো ও নির্বাচনী রাজনীতিতে আরও জোর দেওয়ার কথা মোদী-শাহের। মমতাকেও নিশানা করবেন তাঁরা। মোদীর রাজ্যে নির্বাচনে বিজেপি জিতে গেলে আরও চাপে পড়ে যাবেন তৃণমূল নেত্রী। তাই চিন্তায় আছেন তিনিও।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

• বিজেপি হেরে গেলে অবশ্য উৎসাহিত হবেন মমতা। এ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন সামনে। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও গলা চড়ানোর সুযোগ পাবেন তৃণমূল নেত্রী। রাজ্য বিজেপির মনোবলেও ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।

• বিজেপির পরাজয় জাতীয় স্তরে মোদী-বিরোধী শক্তিকেও অক্সিজেন দেবে। সেই বিরোধী-অক্ষের অংশ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে গুজরাতের ফলাফল তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

দলের ভিতরে ও বাইরে নিজেদের সম্মানরক্ষার্থে এটি আক্ষরিক অর্থেই ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের কাছে।

সব বিরোধিতা সত্ত্বেও তাই জান লড়িয়ে দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী।