আপনি কি এজেন্টের মুখের কথা শুনে বা সহকর্মীকে দেখে ইনসিওরেন্স করান? তবে অবিলম্বে এই অভ্যাস পাল্টান। ইনসিওরেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণঁ ইনভেস্টমেন্ট এবং সেভিংসও বটে। আর একবার পলিসি করিয়ে দু’তিন বছর পরে বন্ধ করে দেওয়া মানেই আর্থিক ক্ষতি। তাই ভেবেচিন্তে পলিসি করুন আর পলিসি পেপারে সই করার আগে মাথায় রাখুন এই ৮টি বিষয়—

১) পলিসি ফর্ম নিজে হাতে ফিল-আপ করবেন। এজেন্টরা অনেক তথ্য এড়িয়ে যেতে বলেন, বিশেষ করে মেডিক্যাল হিস্ট্রি। ডায়বেটিস, সার্জারি বা অন্য কোনও জটিল রোগ থাকলে তথ্য গোপন করবেন না। কারণ পরে ওই সংক্রান্ত কারণে মৃত্যু হলে নমিনি একটি টাকাও পাবেন না। তথ্য জানালে প্রিমিয়ামের পরিমাণ বাড়বে কিন্তু পলিসির টাকা খোওয়া যাবে না।

২) বেশ কিছু ইনসিওরেন্স পলিসিতে ক্যানসারের মতো ‘টার্মিনাল ইলনেস’ হলে সাম অ্যাসিওর‌্‌ডের একটি অংশ পলিসিহোল্ডারকে চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়। চেষ্টা করবেন সেই পলিসিগুলি কিনতে।

৩) মানিব্যাক পলিসি না কেনাই ভাল, বিশেষ করে ২০-৩০ বছরের টার্মের মানিব্যাক। এই ধরনের পলিসিতে রিটার্নের পরিমাণ যথেষ্ট কম। বরং সমপরিমাণ প্রিমিয়ামের সাধারণ এনডাওমেন্ট পলিসি কিনুন আর যদি বছর পাঁচেক পর পর টাকা পেতে চান তবে রেকারিং ডিপোজিট করুন।

৪) ইউলিপ ইনসিওরেন্স পলিসি তখনই কিনবেন যখন আপনার মানি মার্কেট সম্পর্কে কিঞ্চিৎ জ্ঞান আছে এবং আপনার হাতে যথেষ্ট পরিমাণ উদ্বৃত্ত টাকা রয়েছে। ইউলিপে অল্প সময়ে অনেক বেশি মুনাফার সুযোগ যেমন আছে তেমনই ক্ষতির সম্ভাবনাও প্রবল।

৫) পলিসি কেনার আগে ইনসিওরেন্স পলিসির তুলনামূলক সাইটগুলি একটু দেখুন। একাধিক কোম্পানি একই ধরনের পলিসি বিক্রি করে কিন্তু প্রিমিয়ামের পরিমাণ আলাদা আলাদা হয় এবং পলিসি ফিচার্সও আলাদা হয়।

৬) রাইডার খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইআরডিএ স্বীকৃত বেশ কিছু রাইডার রয়েছে যেমন ‘পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্ট’,  ‘পেয়র’ ইত্যাদি। এগুলি অনেকটা টপ আপের মতো। সব পলিসির সঙ্গে রাইডার থাকে না কিন্তু যদি থাকে তবে ভাল করে জেনে নিন রাইডার সম্পর্কে। রাইডার যোগ করলে প্রিমিয়ামের পরিমাণ বাড়ে কিন্তু অনেক বেশি সুবিধাও পাওয়া যায়।

৭) সব সময় অ্যানুয়াল বা হাফ-ইয়ার্লি প্রিমিয়াম অপশনে যাবেন। প্রিমিয়াম যত বেশি ইনস্টলমেন্টে দেবেন, তত বেশি বেড়ে যাবে প্রিমিয়ামের পরিমাণ, অনেকটা ইএমআইয়ে জিনিস কেনা আর নগদ টাকায় কেনার মধ্যে যা পার্থক্য তাই।     

৮) অনলাইন ইনসিওরেন্স কেনার চল হয়েছে ইদানীং। অনলাইন ইনসিওরেন্সে একই পলিসিতে প্রিমিয়ামের পরিমাণ অনেক কম থাকে কারণ সেখানে এজেন্ট কমিশন থাকে না। কিন্তু অনলাইন ইনসিওরেন্স কেনার ঝক্কি হল এই যে যদি ডকুমেন্টে কোনও সমস্যা থাকে তবে পলিসি আটকে যাবে। কিন্তু এজেন্টের মাধ্যমে কিনলে সব দায়িত্ব তিনিই নেবেন, ঝামেলা হলে সামলাবেনও তিনি। তাই এজেন্টের মাধ্যমে পলিসি কেনাই ভাল।