যেন বলিউডের রুপোলি পর্দার দৃশ্য! নায়ক ও নায়িকা কনকনে বরফের ভিতরে দাঁড়িয়ে ঘনিষ্ঠ অবস্থায়। মনে হবে, বুঝি শ্যুটিং চলছে। কিন্তু আদপেই বানানো কিছু নয়। ওই দুই তরুণ-তরুণী সত্যি সত্যি বিয়ে করে ফেলেছেন কনকনে মেরু অঞ্চলে। সরকারিভাবে এই প্রথম এই অঞ্চলে এমন কাণ্ড ঘটালেন কোনও তরুণ-তরুণী। 

ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন দু’জনে। টম সিলভেস্টার ও জুলি বাউম। পেশায় দু’জনেই মেরু গাইড। বছর তিনেক আগেই তাঁদের বাগদান হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল চার হাত এক হওয়া। সেই অনুষ্ঠানই এ বার সম্পন্ন হল। জনা কুড়ি বন্ধুর উপস্থিতিতে চার হাত এক হয়ে যায় তাঁদের। তার পর হয় ফোটো শ্যুট। সেই সময় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৯ ডি্গ্রি! 

হিমাঙ্কের অনেক নীচে তাপমাত্রা, তাও সম্পর্কের উষ্ণতা ধরা পড়েছে ছবিতে। ছবি: ব্রিটিশ আন্টার্কটিক সার্ভে। 

প্রায় দশ বছরের সম্পর্ক দু’জনের। কিন্তু কখনও ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি, বিয়ের আসর বসবে অ্যাডিলেড আইল্যান্ডের রোখেরো গবেষণা কেন্দ্রের মতো পাণ্ডব বর্জিত স্থানে। 

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, জুলি উচ্ছ্বসিত হয়ে জানিয়েছেন, ‘‘আন্টার্কটিকায় বিয়ে করাটা দারুণ ব্যাপার। এর চেয়ে ভাল জায়গা আর কী হতে পারত। বরফে ঢাকা পাহাড় আমার খুব প্রিয়।’’ 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আর পাত্র, মানে টম? তিনি কী বলছেন? সদ্যবিবাহিত টম জানিয়েছেন, ‘‘বরাবরই আমরা চেয়েছিলাম খুব ছিমছাম ও ব্যক্তিগত পরিমণ্ডলে বিয়েটা সারতে। কিন্তু কখনও কল্পনাই করিনি, পৃথিবীর অন্যতম নির্জন স্থানে বিয়ে করতে হবে।’’

সোনা-রুপো-হিরে নয় তামার আংটি পরিয়েই নববধূকে বরণ করে নেন টম। আর কনের পরনের পোশাক! সেও এক আশ্চর্য। তৈরি হয়েছে তাঁবুর কাপড় থেকে।