সিলভেস্টার স্ট্যালোন, বয়স: ৭০
তাঁর কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল সফ্‌ট-পর্ন ছবির হাত ধরে। ১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘দ্য পার্টি অ্যাট কিট্টি অ্যান্ড স্টাড্‌স’। ছবি একেবারেই চলেনি। তাই হালেও পানি মেলেনি। এরপর ১৯৭৬’এ মুক্তি পায় ‘রকি’। দুঁদে বক্সারের চরিত্রে অভিনেতা। বাকিটা ইতিহাস! রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ‘রকি’, ‘র‌্যাম্বো’ ফ্র্যাঞ্চাইজি তো বটেই, ‘কোবরা’, ‘কপ্‌ ল্যান্ডে’র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় হলিউডের মাটিতে অ্যাকশন হিরো হিসেবে তাঁর আসন পোক্ত করেছিল। এখন অভিনেতায় বয়স ৭০। এই বয়সেও ‘দ্য এক্সপেন্ডেবল্‌সে’র মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান মুখ তিনি। ভাবা যায়!

ব্রুস উইলিস, বয়স: ৬১
তাঁর অভিনীত ছবি অ্যাকশন সিনেমার সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছিল। ‘ডাই হার্ড’। ছবি মুক্তির পর এক নতুন অ্যাকশন তারকাকে পেয়েছিল হলিউড। তিনি ব্রুস উইলিস। অ্যাকশন জঁর ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ছবিতে অভিনয় করেছেন ব্রুস। কিন্তু ‘ডাই হার্ড’ ফ্র্যাঞ্চাইজি হোক বা অন্য কোনও অ্যাকশন ছবি— প্রিয় জঁরকে ভুলে যাননি কখনওই। এতো গেল তাঁর যুবক বয়সের কথা। ষাট পেরিয়েও চুটিয়ে তিনি অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দি এক্সপেন্ডেবল্‌স’এ মুখ দেখাচ্ছেন নিয়মিত। শুধু মাল্টি-স্টারকাস্ট ছবিই নয়, ২০১৭ সালে মুক্তি পাবে ‘ফার্স্ট কিল’। মুখ্য ভুমিকায় অবশ্যই ব্রুস উইলিস।

হ্যারিসন ফোর্ড, বয়স: ৭৪
ইন্ডিয়ানা জোন্‌স নামেই তাঁকে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ চেনেন। ওই একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি (‘ইন্ডিয়ানা জোন্‌স’) বদলে দিয়েছিল তাঁর কেরিয়ারগ্রাফ। সাই-ফাই হলিউড ছবি ‘স্টার ওয়ার্স এপিসোড ফোর: আ নিউ হোপ’ থেকে শুরু করে একাধিক অ্যাকশন ছবি রয়েছে তাঁর কেরিয়ারে। সম্প্রতি তিনি ‘দি এক্সপেন্ডেবল্‌স’ সিরিজেও অংশ নিয়েছেন। ‘ব্লেড রানার’, ‘ফর্টি টু’, ‘পারানোইয়া’র মতো অ্যাকশন ছবিও রয়েছে তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে।

কার্ট রাসেল, বয়স: ৬৫
অ্যাকশন জঁরের ছবিতে তিনি যে অন্য অভিনেতাদের চেয়ে কোনও অংশে কম যান না, সেটা ‘এসকেপ ফ্রম নিউ ইয়র্ক’ ছবিতে প্রমাণ করেছিলেন কার্ট রাসেল। ছবি হিট! এরপর একের পর এক অ্যাকশন ছবিতে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন। ১৯৯৬ সালে ‘এসকেপ ফ্রম এল.এ’ ছবিতে অভিনয় করেন কার্ট রাসেল। যা কিনা ‘এসকেপ ফ্রম নিউ ইয়র্কে’র সিক্যুয়েল। ছবি ফের হিট। আপাতত ‘মিরাক্‌ল’ কিংবা ‘দি আর্ট অফ স্টিলে’র মতো ছবিতে অভিনয় করে চলেছেন কার্ট।

ডল্‌ফ লান্ডগ্রেন, বয়স: ৫৯
এই সুইডিশ অভিনেতার কেরিয়ারে অ্যাকশন ছবির সংখ্যাই বেশি। ১৯৮৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘আ ভিউ টু আ কিল’ এবং ‘রকি ফোর’। দু’টি ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ডল্‌ফ। ব্যস, ডেবিউ বছরেই অ্যাকশন হিরোর তকমা পেয়ে গিয়েছিলেন ডল্‌ফ। এরপর, ‘দ্য পানিশার’, ‘ইউনিভার্সাল সোলজার’, ‘শো ডাউন ইন টোকিও’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। হালের ‘দি এক্সপেন্ডেবল্‌স’ সিরিজেও তিনি অভিনয় করছেন চুটিয়ে। কেয়া বাত!

আর্নল্ড শোয়ার্ৎজেনেগার, বয়স: ৬৯
অ্যাকশন তারকাদের তালিকায় আর্নল্ড শোয়ার্ৎজেনেগারকে উপরের দিকে রাখতেই হয়। ১৯৬৮ সালের কথা। সবে ‘হারকিউলিস ইন নিউ ইয়র্কে’র চিত্রনাট্য লেখা শেষ করেছেন অব্রে উইজবার্গ। কিন্তু হারকিউলিসের চরিত্রে অভিনয় করবেন কে? যুতসই অভিনেতা না মেলায় ছবির কাজ শুরু করতে পারছিলেন না অব্রে। অবশেষে, এক বন্ধু কাছ থেকে আর্নল্ডের খোঁজ পান প্রযোজক। তারপর থেকে কেরিয়ারে ফিরে তাকাতে হয়নি আর্নল্ডকে। তাঁর পেশীবহুল শরীরের মোহে পড়ে গিয়েছিলেন দর্শক। আশির এবং নব্বইয়ের দশক জুড়ে একের পর এক অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার পর কিছুদিনের অভিনয়ের বিরতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পদের মেয়াদ শেষ হলে অভিনয়ে ফেরেন তিনি। আপাতত ‘দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ এবং ‘দি এক্সপেন্ডেবল্‌স’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবিতে চুটিয়ে অভিনয় করছেন আর্নল্ড।