ফুঁসছে জলরাক্ষস। বিপন্ন কেরল। ১৪টি জেলার মধ্যে ১৩টিই জলমগ্ন। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫০। আটকে পড়া উদ্ধার করে নিয়ে আসা, জলবন্দি মানুষদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া— ঝাঁপিয়ে পড়েছে সেনারা। আর তাদের সঙ্গেই উদ্ধারকার্যে হাত মিলিয়েছেন কয়েকশো মৎস্যজীবী। ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এক মৎস্যজীবীর কীর্তি। তিনি জয়সল কেপি। উদ্ধারকারী নৌকার সামনে জলের ভিতরে উপুড় হয়ে থেকে যাঁকে নৌকায় ওঠার সিঁড়ির ভূমিকায় দেখা গিয়েছে, তাঁরই পিঠে পা দিয়ে আটক মহিলারা উঠতে পেরেছেন নৌকায়। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, মলপ্পুরম জেলার বাসিন্দা ৩২ বছরের জয়সলের নিজের গ্রাম ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। ঠাঁইনাড়া হয়ে পড়েছেন সপরিবারে। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। উলটে সেনাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্ধারকার্যে ব্রতী হয়েছেন। 

যেদিনে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেদিন ছিল শনিবার। মুথালামাদ নামের এক এলাকায় জলমগ্ন হয়ে পড়া একটি বাড়ি থেকে কয়েকজন মহিলাকে উদ্ধার করতে যায় সেনা। জলস্রোতের তীব্রতার কারণে দুর্গম হয়ে পড়া ওই এলাকায় উদ্ধারকার্যে খানিক অসহায়তার মুখে পড়েন জওয়ানরা। তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে জয়সল ও অন্য মৎস্যজীবীরা। তখনই জয়সলকে দেখা যায় উপুড় হয়ে জলের মধ্যে শুয়ে পড়তে। যাতে তাঁর পিঠে পা দিয়ে নৌকায় উঠে পড়তে পারেন মহিলারা।

সেই ভিডিও এখন ভাইরাল। তারও আগে শুক্রবার ২১ মাসের এক শিশুকে উদ্ধার করেন জয়সল। বোট নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছতে না পারায় সাঁতরেই তিনি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন শিশুটিকে।

এভাবেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাণ বাঁচানোর কাজ করে চলেছেন আশ্রয়হীন জয়সল। শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন— ‘‘মানুষ বড় কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও’’। পাশে দাঁড়ানো সহজ নয়। সবাই পারেন না। জয়সল পেরেছেন। রুপোলি পর্দায় নন, তিনি এই মুহূর্তে দেশের মানুষের কাছে একজন সত্যিকারের হিরো।