বচ্চন পরিবারের একমাত্র ব্যতিক্রমী সদস্য শ্বেতা বচ্চন, যিনি কখনও পর্দায় ধরা দেননি। সম্প্রতি তিনি নিয়ম ভেঙে বাবার সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন হল না। বন্ধ হয়ে গেল শ্বেতা বচ্চন অভিনীত বিজ্ঞাপনটি।

সম্প্রতি কল্যাণ জুয়েলার্স নামক একটি অলঙ্কার সংস্থার বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছিলেন শ্বেতা। সেখানে অমিতাভের মেয়ের ভূমিকাতেই রয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপনটির সামাজিক বার্তা রয়েছে, তা স্পর্শ করেছে বহু মানুষকে। বিগ-বি নিজে এই ভিডিওটি টুইটও করেন। সারা দেশে বিজ্ঞাপনটি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। এমন সময়ই ঘটনা নতুন মোড় নেয়। এক ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন বিজ্ঞাপনটিকে ‘ভুল’ জ্ঞাপনের দোষে দুষ্ট বলে চিঠি দেয়। চাপে পড়ে বিজ্ঞাপনটিকে তুলে নিতে বাধ্য হয় অলঙ্কার প্রস্তুতকারক সংস্থাটিকে।

কিন্তু কী ছিল এই বিজ্ঞাপনে যা আপত্তিকর ঠেকল? বিজ্ঞাপনটিতে দেখানো হয়—  এক বৃদ্ধ তাঁর মেয়েকে নিয়ে ব্যাঙ্কে এসেছেন। তাঁর পেনশন অ্যাকাউন্টে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ভুলবশত এক মাসে দু’বার টাকা দিয়েছে। তিনি সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে চান। কিন্তু দেখা যায় এই প্রবীনকে ব্যাঙ্ক কর্মচারীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা ফিরিয়ে দিচ্ছে না।

আসলে একটি সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশে সততা ও বিশ্বস্ততার ব্র্যান্ড ইমেজ গড়তে চেয়েছিল অলংকার প্রস্তুতকারক সংস্থাটি। সেই সময়েই ‘অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক রিটায়ারিস ফেডারেশান’ চিঠি দেয় এই সংস্থাকে। চিঠিতে স্পষ্টই বলা হয়, এই বিজ্ঞাপন অসম্মানজনক। নৈতিক এবং আইনত অন্যায়। ব্যাঙ্কিং ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তির পক্ষে এই বিজ্ঞাপন খারাপ। আপত্তি জানানো হয় অমিতাভ বচ্চনের মতো অভিনেতাকে এই বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা নিয়েও। এক লাখ আশি হাজার পেনশনভোগী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের এই সংস্থা থেকে চিঠিটি আসার পরই ওই সংস্থা সিদ্ধান্ত নেয় বিজ্ঞাপনটি তুলে নেওয়া হবে।

এআইবিআরএফ এর সেই চিঠি। সূত্র: এআইবিআরএফ- এর  ফেসবুক পেজ

সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রমেশ কল্যানাশরম একটি বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা অনিচ্ছাকৃত ভাবে ব্যাঙ্কিং কমিউনিটির বহু মানুষকে দুঃখ দিয়ে ফেলার জন্য আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী। খুব শিগগির সমস্ত মিডিয়া থেকে বিজ্ঞাপনটি তুলে নেওয়া হবে।’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এ বিষয়ে অমিতাভ কন্যা শ্বেতার কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। শ্বেতার প্রথম যাত্রাটি শুভ হল না। কিন্তু তা সমাদিৃতও হয়েছিল এ কথা সত্যি। ভবিষ্যতে কী আর তাঁকে দেখা যাবে পর্দায়? বি-টাউনে জল্পনা চলছে জোর।