এক মায়ের ছবি। আর তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ১০০০ শেয়ার। এখানেই শেষ নয়, মাত্র ৪ দিনে ৩৫ লক্ষ মানুষ দেখেও ফেলেছেন সেই ছবি। কী সেই ছবি? 

ছবিটি যাঁর, তাঁর নাম র‌্যাচেল হোলিস। ঠিকানা মার্কিন মুলুকের ক্যালিফোর্নিয়ায়। ৩ সন্তানের জননী র‌্যাচেল। সম্প্রতি ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন মেক্সিকোর কানকানে। সেখানে তাঁর বিকিনি পরিহিত একটি ছবি মোবাইলে তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দিয়েছিলেন স্বামী ডেভিড। এখন এই ছবিই আলোড়ন ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

তিন সন্তানের জন্ম দেওয়ায় চেহারা খুবই বিসদৃশ হয়ে গিয়েছিল র‌্যাচেলের। প্রবল শরীরচর্চার মাধ্যমে মেদ ঝরিয়েছেন। ফের আগের চেহারায় ফিরেছেন তিনি। কিন্তু, পেটের স্ট্রেচ মার্কসগুলো দূর করতে পারেননি। তার মধ্যে অত্যধিক মাত্রায় মেদ ঝরানোয় পেটের চামড়া ঝুলে রয়েছে। এই চেহারার মধ্যেই বিকিনি পরে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন র‌্যাচেল। 

র‌্যাচেলের এই সাহসিকতাই সকলের নজর কেড়েছে। তিন সন্তানের মা র‌্যাচেল নিজে একটি ব্লগ চালান। এছাড়াও মহিলাদের নিয়ে লিখেছেন একাধিক বই। মনন ও চিন্তায় এক্কেবারে সাম্প্রতিক তিনি। 

র‌্যাচেলের মতে, মা-এর লজ্জা কিসের। তিনি তো সন্তানের জননী। বন্ধুমহলেও র‌্যাচেল তাঁর সাহসী মানসিকতা ও চিন্তার জন্য যথেষ্টই জনপ্রিয়।

র‌্যাচেল তাঁর বিকিনি পরা ছবির নিচে আবার লিখেছেন, ‘‘আমার শরীরে স্ট্রেচ মার্কসে ভর্তি, কিন্তু বিকিনি পরতে আমি ভয় পাইনি। ৩ সন্তানের মা হতে গিয়ে আমার পেটের চামড়া মোটা ও খসখসে হয়ে গিয়েছে। আমার পেটের চামড়া যে এভাবে ঝুলে যেতে পারে, তা কোনওদিন ভাবনাতেও ছিল না। তবে বিকিনি পরে আমি গর্বিত। এমনকী, আমার শরীরে সন্তানধারণের যে চিহ্নগুলো এখনও রয়ে গিয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট। কারণ ওই দাগগুলো বলে দেয়, আমি তিন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে চেষ্টার কোনও কসুর করিনি। আমি সন্তানদের পৃথিবীতে আনতে সফল হয়েছি। পেটের নির্মেদ চেহারা প্রমাণ করে আমি সন্তানের জন্মের পর কী পরিমাণ খাটাখাটনি করেছি। আমার স্বামী বলেন, এখন বিকিনিতে নাকি আমাকে আরও আকর্ষক লাগে। তাই বলি, সন্তানধারণের চিহ্নগুলো আপনার শরীরের অভিশাপ নয়। ওগুলো আপনার গর্ব, অহঙ্কার। আপনি আশির্বাদধন্য বলে ওগুলো পেয়েছেন। তাই গর্বভরে নিজের শরীরকে উন্মুক্ত করুন। লজ্জা পাবেন না।’’