মোবাইল ফোনে সমানে বিজি টোন। কখনও ৩০ মিনিটের অপেক্ষা। কখনও মোবাইল বেজে গেলেও ও-প্রান্ত থেকে মিলছে না সাড়া। অবশেষে, মোবাইলে ভেসে উঠল টেক্সট— ‘নাই ইউ ক্যান কল মি’। ফোন করতেই ভেসে এলে চিরপরিচিত আবিরীয় কন্ঠস্বর। শুরু হল জাতীয় পুরস্কার জয়ী ‘বিসর্জন’-এর নায়কের সঙ্গে আড্ডা। 

এবেলা.ইন- ‘ব্যোমকেশ’, ‘ফেলুদা’-র চরিত্রটা বদলে ফেলতেই তো জাতীয় পুরস্কার! কেমন লাগছে? 
আবির- হা-হা-হা। অবশ্যই খুশি। এমন একটা ছবির নায়ক আমি যা মুক্তির আগে বাংলা ভাষায় সেরা ছবির জাতীয় সম্মান পেল। ‘বিসর্জন’-এর মূল অভিনেতা হিসাবে এটা খুবই গর্বের। ‘আই অ্যাম হ্যাপি’। অনেক দিন থেকেই নিজের ইমেজ ভাঙার একটা ইচ্ছে ছিল। কৌশিকদা বলেছিল, ‘তোকে এমন একটা চরিত্র দেব যা কোনও দিন তুই করিসনি।’ অবশ্যই ‘বিসর্জন’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেওয়ার জন্য কৌশিকদার কাছে কৃতজ্ঞ। এই ছবিতে আমার চরিত্রটা গ্রাম্য আবহে তৈরি। কোনওভাবেই শহুরে নয়। তাঁর মুখে খেলা করে গ্রাম্য বাংলার ভাষা।  

‘বিসর্জন’-এর পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়া এবং আবির

এবেলা.ইন- ‘বিসর্জন’-এর এমন এক আনন্দের দিনে তো মনটা নিশ্চয়ই খচখচ করছে? কারণ, এই ছবির অন্যতম সুরকার কালিকাপ্রসাদ আজ আমাদের মধ্যে নেই।
আবির- অবশ্যই এটা সাংঘাতিক রকমের মন খারাপ করা একটা বিষয়। কালিকাদা এই ছবিতে লোকসঙ্গীত নিয়ে এমন সব কাজ করেছেন যা অনবদ্য। ‘বিসর্জন’-এর অসাধারণ কাহিনি আর কালিকাপ্রসাদের সুর এমন এক মেলবন্ধন রচনা করেছে যা এর আগে হয়েছে কি না তা বলা খুব কঠিন। তাই শুধুমাত্র ‘বিসর্জন’- এর কাহিনি বা অভিনয় নিয়ে কথা বললে তা স্বার্থপরের মতো শোনাবে। লোকসঙ্গীতের সাধক কালিকাপ্রসাদ কী অমূল্য সৃষ্টি বাংলা ছবির দর্শকদের দিয়ে গিয়েছেন তাও প্রত্যেকের প্রত্যক্ষ করা উচিত।  

কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য, ফাইল ছবি

এবেলা.ইন- ‘বিসর্জন’-এর ইউএসপি-টা কী? 
আবির- দু’পার বাংলার প্রেক্ষাপটে এক নিটোল প্রেমের কাহিনি। বাংলার রূপ-মাটি-রস-গন্ধের কথা বলে এই ছবি। সেই কারণে কালিকাদা দুই বাংলার বহু লোকসঙ্গীত এই ছবিতে ব্যবহার করেছেন। এই ছবির সবচেয়ে বড় বার্তা হল দেশভাগ করা যায়, কিন্তু তাতে মানুষের মনে সীমান্তের রেখা টানা যায় না— এটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘বিসর্জন’-এ। 

এবেলা.ইন- জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর ‘বিসর্জন’ নিয়ে কি চাপ বাড়ল? 
আবির- ‘বিসর্জন’-এর মুকুটে পুরস্কার এসেছে। কিন্তু, সাধারণ দর্শকদের মতামতের উপরেই নির্ভর করছে ‘বিসর্জন’-এর আসল কদর। দর্শকরা যাতে ছবিটি দেখতে হলে আসেন তার জন্য আমরা সর্বোতভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি। আমি, জয়া এবং কৌশিকদা প্রোমোশনে যাচ্ছি নিরন্তর। আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ দর্শকরা। তাঁরা ‘বিসর্জন’ দেখুন, মতামত দিন— এটাই আমরা সবচেয়ে বেশি করে চাইছি। 

এবেলা.ইন- প্রিমিয়ারের জন্য তো পোশাকও বাছা হয়ে গিয়েছে। কেমন সে সব পোশাক? 
আবির- ‘গ্ল্যামার ডিজাইনার বুটিক’ আমাদের ছবির ওয়াডরব পার্টনার। টিম ‘বিসর্জন’ বৃহস্পতিবার এই বুটিকে গিয়েছিল। ছবির সঙ্গে মানানসই পোশাক বাছা হয়েছে আমার এবং জয়ার জন্য। এ ছাড়াও কৌশিকদার জন্যও জামাও পছন্দ করেছি। কৌশিকদা রাজি ছিল না। কিন্তু, কৌশিকদা তো শুধু ছবির পরিচালক নন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন। সুতরাং, আমাদের সঙ্গে তাঁকেও সেজেগুজে হাজির হতে হবে প্রিমিয়ারে। 

এবেলা.ইন- ‘বিসর্জন’ জাতীয় পুরস্কার পেতে পারে এমন কোনও সম্ভাবনা ছিল? 
আবির- এমন কোনও সম্ভাবনা আমরা আঁচ করিনি। জাতীয় পুরস্কারের ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। আমরা সকলেই অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু, ‘বিসর্জন’ যে বাংলা ভাষায় সেরা ছবি নির্বাচিত হবে এটা কারোরই কল্পনাতে ছিল না। তাই আনন্দটাও দ্বিগুণ হচ্ছে। 

আরও পড়ুন 

জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত ‘বিসর্জন’, ফিরে এল কালিকাপ্রসাদের স্মৃতি 

সেরা ছবি ‘বিসর্জন’, ঘোষণার আগেই আবির-জয়াদের প্রিমিয়ারের শপিং!

এবেলা.ইন- কোনও সেলিব্রেশন? কৌশিকদার সঙ্গে কথা হয়েছে? 
আবির- বহু লোকে টেক্সট করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপ-এ মেসেজ পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভাল লাগছে। তবে, এদিন সকাল থেকেই একের পর এক প্রোমোশন করছি জয়া, কৌশিকদা আর আমি। প্রোমোশনের মাঝেই আমরা কথা বলছি, আনন্দ করছি। এটাই সেলিব্রেশন। মাঝখানে কৌশিকদার সঙ্গে ফোনেও কথা হয়। আর আমাদের প্রযোজক তো প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার জিতে, লর্ডসে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিষেক টেস্ট শতরানকে খেয়াল করিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং এর পর কী হয় সেটাই দেখার। আসল সেলিব্রেশন ‘বিসর্জন’ নিয়ে দর্শকরা কী প্রতিক্রিয়া দেন তার উপরে।

এবেলা.ইন- চিরপরিচিত ইমেজ ভেঙে বের হতেই জাতীয় পুরস্কারের অন্যতম শরিক হলেন। তা হলে কী অভিনয় বৃত্ত পূর্ণতা পেল আবিরের?
আবির- ওরে বাবা! না না কোনও বৃত্ত সম্পূর্ণ করিনি। এখনও অনেক রাস্তা হাঁটা বাকি। আমি একটা কথাই বলব, ‘মাইলস টু গো বিফোর আই স্লিপ’।