প্রতি বছর জুলাই-অগস্ট মাসে জম্মু-কাশ্মীরের বেশ খানিকটা অঞ্চল জুড়ে ভিড় জমান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা। তাঁদের গন্তব্য অমরনাথ ধাম, যা হিন্দু ধর্মের অন্যতম এক তীর্থ স্থান।

এই সময়ে গুহার ভিতরে প্রাকৃতিক ভাবেই গড়ে ওঠে বরফের এক বিশাল শিবলিঙ্গ। হিন্দু পুরাণ ও মহাভারতেও প্রাকৃতিক এই আশ্চর্যের উল্লেখ রয়েছে। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

জম্মু-কাশ্মীরের এই অমরনাথ যাত্রা সম্পর্কে জানেন না, এমন মানুষ খুব কমই রয়েছেন এ দেশে। তবে দেশের অন্য এক রাজ্যে ২০১৯ সালে শুরু হবে আরও এক অমরনাথ যাত্রা, এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যেমের এক প্রতিবেদন থেকে।

উত্তরাখণ্ডের নীতি উপত্যকার তিমারসেন, শীতের সময় যেখানে গড়ে ওঠে লিঙ্গাকৃতির বরফের চাঁই। চামোলী জেলার এই উপত্যকার প্রায় ১০৮০০ ফুট উচ্চতায় যেতে হবে এই লিঙ্গ দর্শন করতে। রাজ্যের পর্যটন দফতর থেকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘আদি অমরনাথ যাত্রা’। 

পর্যটন দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর, যোগেন্দ্রকুমার গাংওয়ার জানিয়েছেন যে, ২০১৯ সালের বসন্ত পঞ্চমীর দিন (১০ ফেব্রুয়ারি) এই যাত্রা শুরু হবে। ২২ দিনের এই যাত্রা শেষ হবে ৪ মার্চ। প্রথম বছর বলে, মাত্র ২৫০ জন পুণ্যার্থী যেতে পারবেন ২০১৯ সালে। পরবর্তীকালে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে পর্যটন দফতর।

স্থানীয়রা মনে করেন, কৈলাস যাওয়ার পথে নীতি গ্রামের এই তিমারসেন অঞ্চলেই কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন মহাদেব।   

উত্তরাখণ্ডের রাজধানী শহর দেহরাদুন থেকে ৩৩৬ কিলোমিটার দূরত্বের নীতি গ্রামের জনসংখ্যা বর্তমানে মাত্র ৩৫। এক সময়ে এখানে জনবসতি থাকলেও, জীবিকার অভাবে অনেকেই চলে গিয়েছে অন্যত্র। 

রাজ্য আধিকারিকরা আশা করছেন যে, আদি অমরনাথ যাত্রা শুরু হলে এখানে পর্যটন শিল্পেরও উন্নতি হবে। আয়ও বাড়বে স্থানীয়দের। 

প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের আগে পর্যন্ত, এই পথ দিয়ে মানস সরোবর যাওয়া যেত।