গত ৯ মাস ধরে একটু একটু করে মা ও বাবা হওয়ার স্বপ্ন নিজেদের মধ্যে লালন করেছিলেন বাঁকুড়ার নবান্দা গ্রামের দম্পতি সন্তোষী ও দুলাল মিশ্র। যাতে সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে আসে তার জন্য নিজের সামান্য সম্বল দিয়েও ৯ মাস ধরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। পেটে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিন পরে স্বপ্নভঙ্গ হল। মা হওয়া হল না সন্তোষীর। কারণ, চিকিৎসক জানিয়ে দিলেন, তাঁর গর্ভে আদৌ সন্তানই নেই। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার এই চূড়ান্ত গাফিলতির সাক্ষী থাকল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

ন’মাস আগে চিকিৎসকরা সন্তোষীকে জানান, তিনি মা হতে চলেছেন। সম্ভাব্য প্রসবের তারিখও জানিয়ে দেন চিকিৎসক। মার্চ মাসের ১৯ তারিখ সন্তান প্রসবের কথা। আর পাঁচটা প্রসূতির মতো গত ন’মাস ধরে চিকিৎসার জন্য নিয়ম করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে আনাগোনা করেছেন। জননী সুরক্ষা কার্ড তৈরি থেকে নিয়মিত প্রসবকালীন ওষুধ খাওয়া-সহ সব কিছুই করেছেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্দেশ মতো। 

মঙ্গলবার সকালে পেটে যন্ত্রণা শুরু হলে সন্তোষীদেবীকে ভর্তি করা হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। হাসপাতালের নার্সরা সময়মতো তাঁকে নিয়ে যান লেবার রুমে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও সন্তান প্রসব না হওয়ায় নার্সদের সন্দেহ হয়। ওয়ার্ডে উপস্থিত চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো বুধবার ফের ওই গৃহবধূর ইউএসজি করানো হয়। রিপোর্ট হাতে পেতেই চক্ষু চড়কগাছ চিকিৎসকদের। চিকিৎসকরা গৃহবধূর পরিবারের লোকেদের জানিয়ে দেন, তাঁর গর্ভে কোনও সন্তান নেই। 

এর পরেই সোরগোল পড়ে যায় হাসপাতাল চত্বরে। যার গর্ভে কোনও সন্তান নেই তাকে কি করে দিনের পর দিন প্রসূতি হিসাবে চিকিৎসা করে গেলেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা, প্রশ্ন তুলছে গৃহবধূর পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার চিকিৎসায় গাফিলাতির অভিযোগ জানানো হয়েছে হাসপাতাল সুপারের কাছে। চিকিৎসায় চূড়ান্ত গাফিলাতি ও পরিবারের এই স্বপ্নভঙ্গের জন্য দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিরও দাবি জানিয়েছে পরিবারটি। হাসপাতাল কতৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি । 

দেখুন ভিডিও—