গত সপ্তাহেই চিনা সংবাদমাধ্যম জিংহুয়া-তে দ্য স্পার্ক বলে একটি অনুষ্ঠানে ভারতকে নিয়ে অশালীন মজা করা হয়। সাম্প্রতিক ডোকলাম সমস্যার উল্লেখ করে এক চৈনিককে পঞ্জাবির মতো সাজিয়ে ভারত যে ৭টি পাপ করছে, তা বর্ণনা করা হয়। 

ভারত সমস্যা তৈরি করে এখন ঘুমাচ্ছে বলেও মন্তব্য করা হয় সেখানে। হাসির খোরাক করা হয় ভারতীয় সাজানো এই চরিত্রকে। সে এক চিনার গলায় কাঁচি ধরে রেখেছে এটাও দেখানো হয়।  

সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এবার কয়েকদিনের মধ্যেই মোদী সরকারকে প্রকারান্তরে আবার হুমকি দিল চিনা সংবাদমাধ্যম জিংহুয়া। যা কার্যত চিন সরকারের মুখপাত্রের কাজ করে। 

এবার নীতিকথা শেখানো হয়েছে নতুন ভিডিওটিতে। ‘ইন্ডিয়া টক’ বলে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জ্ঞানের কথা শোনান। বলা হয়, ভারতকে সংযত ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার আশু সমাধান করতে হবে। 

রবিবারই প্রকাশ্যে এসেছে এই ভিডিও। সৌজন্য: নিউ চায়না টিভির ইউটিউব চ্যানেল

সেখানে আবার দাবি করা হয়, জুনের ১৮ তারিখ ভারতীয় সেনা অস্ত্র ও বুলডোজার নিয়ে ভারত-চিন সীমান্তে সিকিম পেরিয়ে চিনা এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেখানে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়। 

এর পরেই ভিডিওটিতে অভিযোগ করা হয়, ভারতীয় স্ট্র্যাটেজিতে অবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। এতে স্ট্র্যাটেজির মায়োপিয়া হতে পারে ও ভারতীয় স্বার্থেরই ক্ষতি হতে পারে।

ব্যঙ্গাত্মক ভাবে ভারতীয় সভ্যতার প্রশংসা করে উপদেশ দেওয়া হয়, অবিলম্বে চিনা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত ভারতের। সংযত আচরণ দু’পক্ষের জন্যই লাভের। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভয়ঙ্কর ক্ষতি করতে পারে। 

গত সপ্তাহের ভিডিও। সৌজন্য: নিউ চায়না টিভির ইউটিউব চ্যানেল

নীতিকথার শেষে খানিকটা সুর নরম করেই বলা হয়েছে, সীমান্ত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে, ‘চিনা ড্র্যাগন ও ইন্ডিয়ান এলিফ্যান্টের জন্য অনেক কিছু পড়ে রয়েছে।’ 

সীমান্তে চিনের হম্বিতম্বি যে মোদী সরকারকে চাপে রাখতে যথেষ্ট হচ্ছে না, তা বুঝতে পেরেই এই ধরণের নিম্ন মানের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও-র শরণাপন্ন হচ্ছে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।