বিরাট কোহলি যত টেস্ট ম্যাচ বাঁচিয়ে দেওয়ার দিকে এগোচ্ছেন, ততই যেন হতাশা বাড়তে থাকল অ্যালেস্টেয়ার কুকের। আরও আধঘণ্টা আগে কি ডিক্লেয়ার করা উচিত ছিল তাঁর? 
অভাবনীয়ভাবে ভারতকে চাপে ফেলে দিয়ে সম্মানের ড্র ছিনিয়ে নেওয়ায় বাহবা পেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। পাশাপাশি, এই প্রশ্নের মুখেও পড়তে হল। সুনীল গাওস্কর যেমন মনে করেন, আরও অন্তত মিনিট পনেরো সময় হাতে রাখতে পারত ইংল্যান্ড। ৩১০ রানে এগিয়ে থেকে কুক ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছিলেন। গাওস্কর কমেন্ট্রির ফাঁকে বললেন, ‘‘ওই ১০ রানটার আর দরকার ছিল না। তিন-চার ওভার আগে ডিক্লেয়ার করে দেওয়াই যেত।’’ সানি যদিও দ্রুত যোগ করলেন, ‘‘টার্গেট স্কোর কম করে ডিক্লেয়ার করলে ভারতের স্ট্র্যাটেজিও অন্যরকম হতে পারত। তাতেও ম্যাচের ফল প্রভাবিত হতে পারত।’’ ইংল্যান্ড ৩০০ রানে এগিয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৩ ওভার পরে। তারা ডিক্লেয়ার করে কুক ১৩০ করে ৭৫.৩ ওভারে আউট হওয়ার পরে। কোহলিদের জন্য ৪৯ ওভারে ৩১০ রানের টার্গেট দিয়েছিলেন কুক।  
রবি শাস্ত্রী মনে করেন, বীরেন্দ্র সহবাগের মতো কেউথাকলে এত নিরাপদ স্কোর রেখে ডিক্লেয়ার করার কথা ভাবা যেত। সহবাগ থাকলে হয়তো এই টার্গেটও ‘সেফ’ ছিল না। ২০০৮ সালে এই ইংল্যান্ডই চেন্নাইয়ে চতুর্থ ইনিংসে ৩৮৭ রানের কঠিন টার্গেট দিয়েছিল ভারতের সামনে। হাতে সময় ছিল চতুর্থ দিনের শেষ কয়েকটি ওভারে এবং শেষ দিন। সহবাগ সেই বিকালেই ৬৮ বলে ৮৩ রানের সাইক্লোন তুলে ম্যাচ ভারতের দিকে এনে দেন। শাস্ত্রীর কথায়, ‘‘আর একটু সাহসী হয়ে দ্রুত রানও তুলতে পারত ইংল্যান্ড। ডিক্লেয়ারও আগে করতে পারত। মনে হয় ওরাও বুঝতে পারেনি যে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শেষ ইনিংসে এমন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে।’’ শাস্ত্রী সন্ধ্যায় টিভি চ্যানেলে যদিও বললেন, কোহলিরা এই রক্ষা পেয়ে যাওয়ার আশীর্বাদকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ফিরে আসবেন সিরিজে। কারণ, ঘুম থেকে উঠে পড়েছে ভারতীয় দল। কোহলিরা বুঝে গিয়েছেন, এই ইংল্যান্ডকে হাল্কাভাবে নিলে চলবে না। সেরা পারফরম্যান্সটা এতেই বেরোবে। 
কুক যদিও ডিক্লেয়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বলে গেলেন, ঠিক সময়েই তিনি ইনিংস ছেড়েছেন। তিনি ভারতকে কোনও সুযোগই দিতে চাননি। হয়তো কুকের ভাবনায় ঘুরছিল, ভারতের মাটিতে ভারতীয় স্পিনাররাই আমাদের আউট করতে পারছে না, আদিল রশিদ-মঈন আলি’রা ওদের কোহলি-পূজারাদের উইকেট নেবে কী করে? যে উইকেটে ভারতের স্পিনাররা সাফল্য পাচ্ছে, যেটা একেবারেই শেষদিনের এবড়ো-খেবড়ো ভারতীয় পিচ নয়, সেখানে আমাদের বোলাররা কী করে একটা সেশনে ম্যাচ জেতাবে?
কে জানত, প্রায় অলৌকিক সেই ভাবনাই বাস্তব হয়ে মাটি ফুড়ে ভেসে উঠবে রাজকোটের মাঠে। কোহলিদের ঠেলে দেবে ম্যাচ বাঁচানোর রক্তচাপ বাড়ানো পরিস্থিতির দিকে আর ইংল্যান্ডকে আন্ডারডগের তকমা থেকে মুক্ত করে যোদ্ধার নতুন মোড়কে পাঠাবে বিশাখাপত্তনমের দিকে।